প্রচ্ছদ » রাজনীতি » বিস্তারিত
‘লংমার্চে বাধা দিলে সরকারের প্রতি জনঅনাস্থা বাড়বে’
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ০০:৪০:২১
স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, “যদি আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির কোথাও বাধা দেওয়া হয়, সন্ত্রাসী কর্তৃক হামলা করা কিংবা ভয়-ভীতি দেখানো হয়, নাশকতা করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে প্রমাণ হবে যে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর জুলাই সনদের আলোকে আকাঙ্ক্ষার নতুন বাংলাদেশকে সরকার ধারণ করে না। লংমার্চকে বাধাগ্রস্ত করা হলে সরকারের প্রতি জনঅনাস্থা আরো বাড়বে।”
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল ৫টায় রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা টু চট্টগ্রাম লংমার্চ উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ১১ দলীয় ঐক্যের মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার; বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন; নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধসহ ৬ দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, “সরকার গত ৬ মাসে গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে এবং জনদুর্ভোগ, বিদ্যুৎ সংকট, সার সংকট ও গ্যাস সংকট সমাধানে ব্যর্থতার প্রমাণ দিয়েছে। সংসদে ও সংসদের বাইরে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের সাথে কটু ভাষায় কথা বলা হচ্ছে, সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা বিরোধী দলীয় এমপিদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। আমরা আশা করছি, গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক কর্মসূচি লংমার্চে সরকার কোনো প্রকার বাধা সৃষ্টি করবে না। আমরা বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার ও সরকার দলীয় শীর্ষ নেতা এবং সরকারি আমলাদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি। কর্মসূচি পালনে সহযোগিতা করে গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোরও একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে সরকারি দলের জন্য।”
মতবিনিময় সভায় ১১ দলের নেতৃবৃন্দ বলেন, “৫ সেপ্টেম্বরের লংমার্চে কোনো প্রকার বাধা দেওয়া হলে সকল বাধা অতিক্রম করে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে পৌঁছাবে। জনগণের অধিকার আদায়ে ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি দিয়ে জনগণের কাছে যাচ্ছে ১১ দল। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবি দেশের সকল জনগণের, এজন্য লংমার্চ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।”
তারা বলেন, “লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কে তীব্র যানজট দেখা যাচ্ছে। এটি কৃত্রিম যানজট। লংমার্চের দিন কোনো প্রকার কৃত্রিম যানজট কিংবা বালুর ট্রাক কিংবা খালি ট্রাক দ্বারা লংমার্চকে বাধাগ্রস্ত করা হলে তা প্রতিহত করা হবে। এটি সরকারের জন্য ভালো হবে না। আমরা আশা করছি, পুলিশ প্রশাসন, সরকারি আমলা, ট্রাফিক বিভাগসহ সকলে কর্মসূচি সফলে সহযোগিতা করবে।”
লংমার্চ সকাল ৭টায় রাজধানীর মতিঝিলে শাপলা চত্বরে সমাবেশের মাধ্যমে চট্টগ্রাম অভিমুখে রওনা হবে। পথিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্ব রোড, ফেনীর মহিপাল, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পথসভায় মিলিত হবে লংমার্চের বহর। এছাড়াও অনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিপুল জনসমাগমস্থলে ১১ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন। স্থানীয় পথসভার ব্যবস্থপনা ১১ দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ করবেন।
এই লংমার্চ কর্মসূচি সর্বাত্মকভাবে সফল করে তুলতে ১১ দলীয় ঐক্যের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন— বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাগপার সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন, বিডিপির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি মাওলানা মোর্শেদ সিদ্দীকী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মোবারাক হোসাইন ও ড. রেজাউল করিম, বিডিপির জেনারেল সেক্রেটারি নিজামুল হক নাঈম প্রমুখ।
(ওএস/এএস/সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬)
