ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » খেলা » বিস্তারিত

মেসি-এমবাপে-হালান্ড-রাউদের পেছনে ফেলে ইয়ামালের ইতিহাস

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ১৪:০৫:১৮
মেসি-এমবাপে-হালান্ড-রাউদের পেছনে ফেলে ইয়ামালের ইতিহাস

‌স্পোর্টস ডেস্ক : বয়স মাত্র ১৯। অথচ রেকর্ডের খাতায় একের পর এক বড় বড় নামের পাশে নিজের নাম লিখে চলেছেন লামিনে ইয়ামাল। এবার তাঁর সামনে ছিল ৫০ গোলের মাইলফলক। রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে জোড়া গোল করে সেই মাইলফলক ছুঁয়েছেন বার্সেলোনার এই স্প্যানিশ বিস্ময়। আর তাতেই ইউরোপের পাঁচ শীর্ষ লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে ৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করা খেলোয়াড় হয়ে গেলেন ।

১৯ বছর ৪৯ দিনেই ৫০
রায়োর বিপক্ষে ম্যাচের ২১ মিনিটে ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে দুর্দান্ত বাঁ পায়ের শটে বল পাঠান দূরের ওপরের কোণায়। গোলটি শুধু বার্সেলোনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়নি, ইয়ামালকে নিয়ে যায় নতুন এক উচ্চতায়। সেটিই ছিল বার্সেলোনার মূল দলের হয়ে তাঁর ৫০তম গোল।

বয়স তখন মাত্র ১৯ বছর ৪৯ দিন। ক্লাবটির ইতিহাসে এত কম বয়সে ৫০ গোল করতে পারেননি আর কেউ। ম্যাচের শেষ মিনিটে আরও একবার গোল করে নিজের সংখ্যাটা ৫১-তে নিয়ে যান ইয়ামাল।

আরও বড় ব্যাপার, এই রেকর্ড শুধু বার্সেলোনা কিংবা লা লিগায় আটকে নেই। ইউরোপের পাঁচ বড় লিগ- লা লিগা, প্রিমিয়ার লিগ, সিরি আ, বুন্দেসলিগা ও লিগ ওয়ান এর ইতিহাসে এত কম বয়সে ৫০ গোলের মাইলফলক আর কেউ স্পর্শ করতে পারেননি।

ইয়ামালের আগে এই রেকর্ডের কাছাকাছি ছিলেন দুই তারকা কিলিয়ান এমবাপে ও আর্লিং হালান্ড। এমবাপে ৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন ১৯ বছর ২৪১ দিন বয়সে। হালান্ডের তখন বয়স ছিল ২০ বছর ১৯৬ দিন।

ইয়ামাল সেখানে থামলেন ১৯ বছর ৪৯ দিনেই। অর্থাৎ এমবাপ্পের চেয়ে ১৯২ দিন এবং হালান্ডের চেয়ে ৫০০ দিনের বেশি আগে এই কীর্তি গড়লেন তিনি।

স্পেনেও নতুন রেকর্ড
ইয়ামালের কীর্তির মাহাত্ম্য আরও বাড়ছে স্প্যানিশ ফুটবলের হিসাবেও। পেশাদার স্প্যানিশ ফুটবলে ৫০ গোলের মাইলফলক এত কম বয়সে আর কেউ স্পর্শ করতে পারেননি।

এই তালিকায় পেছনে পড়ে গেছেন স্প্যানিশ ফুটবলের কিংবদন্তিরা রাউল গঞ্জালেস, ফার্নান্দো তোরেস, এমনকি বার্সেলোনার আরেক কিংবদন্তি লিওনেল মেসিও। মেসি যখন বার্সেলোনার হয়ে ৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন, তাঁর বয়স ছিল ২১ বছর। ইয়ামাল সেখানে পৌঁছে গেলেন ২০ এর আগেই।

অর্থাৎ যে ক্লাবে মেসি একসময় রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়েছেন, সেই ক্লাবেই তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত ইয়ামাল এখন তাঁরই কিছু রেকর্ডের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।

তিন মৌসুমেই বিস্ময়
ইয়ামালের এই ৫০ গোল যেন হঠাৎ পাওয়া কোনো বিস্ময় নয়। বরং গত তিন মৌসুম ধরে ধাপে ধাপে তৈরি হয়েছে এই গল্প। ২০২৩-২৪ মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে তাঁর গোল ছিল ৭টি। পরের মৌসুমে সেটি বেড়ে হয় ১৮। আর ২০২৫-২৬ মৌসুমে তিনি করেন ২৪ গোল তাঁর এখন পর্যন্ত এক মৌসুমে সর্বোচ্চ।

বার্সেলোনার হয়ে তাঁর প্রথম গোল এসেছিল ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর, গ্রানাদার বিপক্ষে। তখন তিনি মাত্র ১৬ বছরের। সেই গোলেই লা লিগার ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী গোলদাতা হয়েছিলেন ইয়ামাল।

রায়োর বিপক্ষে ম্যাচটি বার্সেলোনার জন্যও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। শুরুতেই সার্জিও কামেয়োর গোলে পিছিয়ে পড়েছিল তারা। কিন্তু রাফিনিয়ার সমতা ফেরানোর পর ইয়ামালের দুর্দান্ত গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বার্সা। এরপর ফ্লোরিয়ান লেজনের আত্মঘাতী গোল ও কামেয়োর দ্বিতীয় গোলের পর আবার রাফিনিয়া এবং শেষ মুহূর্তে ইয়ামালের দ্বিতীয় গোলে ৫-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বার্সেলোনা।

এই জয়ে তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে লা লিগায় বার্সেলোনার পূর্ণ ৯ পয়েন্ট। তিন ম্যাচে তাদের গোল ১২টি।

(ওএস/এএস/সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬)