ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » অর্থ ও বাণিজ্য » বিস্তারিত

তিন ধাপে বাস্তবায়ন 

নবম পে-স্কেলে বেতন বাড়ছে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ 

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ১৪:৪০:৫৫
নবম পে-স্কেলে বেতন বাড়ছে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ 

স্টাফ রিপোর্টার : মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। নতুন কাঠামোয় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০তম গ্রেডের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ এবং প্রথম গ্রেডের বেতন ১০০ শতাংশ বাড়বে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতি এবং সরকারি ব্যয়ের ওপর প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। পুরো বেতন স্কেল একসঙ্গে কার্যকর না করে দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।”

তিনি জানান, ২০১৫ সালের পর নতুন জাতীয় বেতন স্কেল দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ সময়ের মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের বেতনকে সময়োপযোগী করার লক্ষ্যেই নতুন কাঠামো করা হয়েছে।

নতুন স্কেলে ২০টি গ্রেডের মধ্যে প্রথম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন ১০০ শতাংশ হারে বাড়বে। এরপর ১২তম গ্রেডে ১১৫ শতাংশ, ১৩তম গ্রেডে ১১৮ শতাংশ, ১৪তম গ্রেডে ১৩০ শতাংশ, ১৫তম ও ১৬তম গ্রেডে ১৩৫ শতাংশ, ১৭তম গ্রেডে ১৩৮ শতাংশ, ১৮তম গ্রেডে ১৩৯ শতাংশ, ১৯তম গ্রেডে ১৪১ শতাংশ এবং ২০তম গ্রেডে ১৪২ শতাংশ বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “নিচের দিকে যারা আছেন, তাদের বেতন বৃদ্ধির হার বেশি রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের প্রকৃত আয় বা ক্রয়ক্ষমতার যে ক্ষতি হয়েছে, তা যতটা সম্ভব পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা হয়েছে।”

নতুন কাঠামোয় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতনের ব্যবধানও কমিয়ে আনা হয়েছে। বিদ্যমান বেতন স্কেলে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মূল বেতনের অনুপাত ১:৯.৪৫ থেকে কমিয়ে ১:৭.৮ করার কথা জানানো হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, নতুন বেতন স্কেল চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। তবে বাস্তবায়ন হবে পর্যায়ক্রমে। ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে তিন ধাপে মূল বেতন বাস্তবায়ন করা হবে। স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।ভাতাগুলো ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি জানান, নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং প্রায় ১৬ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন। এতে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৮০ কোটি টাকা হবে। সরকারের মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোতে এ ব্যয়ের সংস্থান রাখা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুমোদনের পর এখন এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইন, বিধি ও প্রজ্ঞাপন জারির কাজ শুরু হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে চলতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

(ওএস/এএস/সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬)