প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
১৩০ সাংবাদিককে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা উৎকোচ
সুন্দরবনে প্রবেশের বিএলসি নবায়নে স্টেশন কর্মকর্তাদের দালাল মারফৎ অতিরিক্তি টাকা আদায়ের অভিযোগ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ১৭:৪০:২৩
রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা :সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের চারটি স্টেশনে বিএলসি নবায়নে দালালদের মাধ্যমে সরকারিভাবে ৩৪.৫০ টাকা নেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও চারজন স্টেশন কর্মকর্তা দালালদের মাধ্যমে লাইসেন্স পিছু ৯০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন। সাংবাদিকদের ম্যানেজ করতে জেলার ১৩০ জনের তালিকা তৈরি করে প্রত্যেককে তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা উৎকোচ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত পহেলা জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত বুড়িগোয়ালিনি স্টেশনে ১০১৬ টি, কদমতলা স্টেশনে ৬৫১টি, কৈখালি স্টেশনে ৪০৩টি ও কোবাতক স্টেশনে ৮৬৮ বিএলসি(বোর্ট লাইসেন্স) পসভঃ ২৯৩৮টি নবায়ন করা হয়েছে। তিন মাস সুন্দরবনে ঢোকা বন্ধ থাকার পর পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে জেলে, বাওয়ালী ও মৌয়ালরা নবায়নকৃত বিএলসির মাধ্যমে সুন্দরবনে প্রবেশ করবেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৈখালি, কদমতলা, বুড়িগোয়ালিনি ও কোবাতক স্টেশন থেকে বিএলসি নবায়ন করা কয়েকজন জেলে জানান, সুন্দরবনে যেতে একদিকে বনদস্যুদের চাঁদাবাজি অপরদিকে বিএলসি নবায়নে দালালদের মাধ্যমে লাইসেন্স প্রতি ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন বুড়িগোয়ালিন স্টেশন কর্মকর্তা এরফানউদ্দিন, কৈখালি ও কদমতলা স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্যামা প্রসাদ রায় ও কোবাতক স্টেশন কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম। দালাল হিসেবে দায়িত্ব পাালন করেছেন বুড়িগোয়ালিনি স্টেশন কর্মকর্তার পক্ষে ইসমাইল সানা, শহীদুল ইসলাম , হাসান, জালালউদ্দিন ও কানা শহীদুল। কোবাতক স্টেশন কর্মকর্তার পক্ষে টাকা তুলেছেন মাসুম ঢালী, লুৎফর রহমান ও রবিউল ইসলাম। কদমতলা স্টেশন কর্মকর্তার পক্ষে আমজাদ হোসেন, রফিকুল ইসলাম, রফিক, হাফিজুর রহমান ও আব্দুল্লাহ মাষ্টার। কৈখালি স্টেশন কর্মকর্তার পক্ষে বুলবুলি, আব্দুর রহিম, শহীদুল ইসলাম, মহসিন, কামরুল ইসলাম ও আব্দুল বারি।
তারা অভিযোগ করে বলেন, তারা চারটি স্টেশনে স্বশরীরে যেয়ে সরকারি ফি জমা দিয়ে বিএলসি নবায়নের উদ্যোগ নিলে তাদেরকে বিভিন্নভাবে দালালদের কাছে ঠেলে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে দীর্ঘ তিন মাস বসে থাকার পর ধার দেনা কওে ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা দিয়ে লাইসেন্স নবায়ন করতে বাধ্য হয়েছেন তারা। স্টেশন কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও দূর্ণীতি যাতে গণমাধ্যমে প্রচার বা প্রকাশ না হয় সেজন্য আগষ্ট মাসের তৃতীয় সপ্তাহে বুড়িগোয়ালিনি এলাকার এক সাংবাদিকের মাধ্যমে ১৩০ জন স্থানীয় পত্রিকা, জাতীয় পত্রিকা ও টেলিভিশনের সাংবাদিককে মাথা পিছু তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা উৎকোচ দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে বুড়িগোয়ালিনি স্টেশন কর্মকর্তা এরফানউদ্দিন, কদমতলা ও কৈখালি স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্যামাপ্রসাদ রায় ও কোবতক স্টেশন কর্মকর্তা আানোয়ার হোসেন বিএলসি নবায়নে দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সরকারি ফি ৩৪ .৫০ টাকা এটা সঠিক নয়। কারণ মাছ ও কাঁকড়ার ওজন অনুযায়ি টাকা কম বা বেশি হয়। এ সময় নৌকা সহ ভিডিও করে রাখা হয়। সাংবাদিকদের টাকা দেওয়ার বিষয়টি তারা জানেন না বলে দাবি করেন।
সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারি বণসংরক্ষক মশিউর রহমান বলেন, এ নিয়ে তিনি স্টেশন কর্মকর্তাদেও সাথে কথা বলবেন।
(আরকে/এসপি/সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬)
