প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
তিন মাস পর সুন্দরবন উন্মুক্ত, বৈরী আবহাওয়ায় বাধাগ্রস্ত পর্যটক ও জেলেদের যাত্রা
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ১৮:৩৩:৩২রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : টানা তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ মঙ্গলবার থেকে পর্যটক ও জেলে-বাওয়ালিদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে সুন্দরবন। সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি (পাস) পেয়ে উচ্ছ্বসিত জেলে-বাওয়ালিরা। তবে মঙ্গলবার সকাল থেকেই বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে পর্যটকদের আনাগোনা কম এবং বনে যাওয়ার যাত্রাও কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারি বনসংরক্ষক মশিয়ুর রহমান জানান, সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের চারটি স্টেশন থেকে এ মৌসুমে মাছ ধরা ও ইকোট্যুরিজমের জন্য ২৯৩৮ টি বিএলসি (বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট) নবায়ন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৫৯টি পাস ইস্যু করা হয়েছে। এসব পাসের মাধ্যমে চার শতাধিক জেলে-বাওয়ালি সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন। এ ছাড়া পর্যটকদের জন্য কলাগাছি ও দোবেকি ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তবে সকাল থেকে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পর্যটকদের তেমন দেখা যায়নি। পাস নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা জেলে ও পর্যটন নৌকার মাঝিদেরও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ইকোট্যুরিজমের জন্য কলাগাছি ও দোবেকি ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। তবে আবহাওয়া বৈরী থাকায় এখনো পর্যটকদের তেমন আনাগোনা দেখা যায়নি। আবহাওয়া অনুকূলে এলে পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করছেন তাঁরা।
তিন মাস পর পাস পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে জেলে-বাওয়ালিদের মধ্যেও। শ্যামনগরের জেলে শহিদুল ইসলাম বলেন, এতদিন পাস বন্ধ থাকায় তাদের কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে। এখন পাস দেওয়া শুরু হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টি থাকলেও সুন্দরবনে যেতে হবে। বনে মাছ ধরে সংসার চালাতে হবে।
তবে আনন্দের পাশাপাশি তাদের মনে রয়েছে জলদস্যু ও বনদস্যুর ভয়। আরেক জেলে বলেন, তিন মাস পর পাস পেয়ে তারা খুশি হয়ে বনে মাছ ধরতে যাচ্ছেন। কিন্তু বনে জলদস্যুর ভয়ও কাজ করছে। জেলে-বাওয়ালি হিসেবে সুন্দরবনে না গেলে তাদের সংসার চলে না। তাই ভয় থাকলেও জীবিকার তাগিদে বনে যেতে হচ্ছে। তবে বিএলসি নবায়নে বনকর্মকর্তারা সরকারি খরচের চেয়ে দালাল মারফত অতিরিক্ত টাকা আদায় করায় তাদের বিপাকে পড়তে হয়েছে।
পর্যটক নৌকার মাঝি আমিনুর রহমান বলেন, তিন মাস পর আজ পাস পেয়েছেন তারা। এতে খুবই খুশি। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে নৌকা নিয়ে আপাতত অপেক্ষা করছেন। আবহাওয়া কিছুটা ভালো হলে পাস নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করবেন।
পর্যটক ইমরান হোসেন বলেন, সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বনভূমির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে তাঁরা এসেছেন। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কাছাকাছি এসে আটকে যেতে হয়েছে। বৃষ্টি থামলে আবার সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন।
সুন্দরবনে মাছ ধরার পাশাপাশি পর্যটকদের প্রবেশের পথও আজ থেকে খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রথম দিন পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল কম। বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে।
সুন্দরবনে জেলেদের নিরাপত্তার বিষয়ে মশিউর রহমান বলেন, সুন্দরবন বন্ধ থাকার সময়ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে যৌথ দল কাজ করেছে। এখনো যৌথ টহল কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দস্যুদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোস্টগার্ডের সঙ্গে বন বিভাগের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।
প্রতি বছর মাছের প্রজনন মৌসুম ও বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পহেলা জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটক ও জেলে-বাওয়ালিদের প্রবেশ বন্ধ থাকে। দীর্ঘ এই নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ থেকে আবার খুলে দেওয়া হলো সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার। ফলে জীবিকার আশায় বনে ফিরছেন উপকূলের হাজারো বনজীবী। একই সঙ্গে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগে পর্যটকদের জন্যও খুলে গেল সুন্দরবনের দরজা।
(আরকে/এসপি/সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬)
