প্রচ্ছদ » দেশের বাইরে » বিস্তারিত
বিশ্ব খাদ্যবাজারে নতুন ঝুঁকি, বাড়ছে দাম
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৫ ০০:২০:৪১
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জলবায়ু পরিবর্তন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সরবরাহব্যবস্থায় অনিশ্চয়তার মধ্যে বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে খাদ্যপণ্যের দাম। আগস্টে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) খাদ্যপণ্যের মূল্যসূচক জুলাইয়ের তুলনায় ২ দশমিক ৫ পয়েন্ট বেড়ে ১৩৩ দশমিক ৩ পয়েন্টে পৌঁছেছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এফএওর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, আগস্টে খাদ্যশস্য, ভোজ্যতেল, চিনি, মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের দাম বেড়েছে।
এফএও বলছে, ইউরোপে তীব্র দাবদাহ ও খরা, এশিয়ায় সম্ভাব্য এল নিনোর প্রভাব এবং ইউক্রেন ও ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ ও বাণিজ্যিক অস্থিরতা কৃষিপণ্যের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
আগস্টে খাদ্যশস্যের মূল্যসূচক ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ২০২৪ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ, যা ২০২২ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ।
চিনির মূল্যসূচক বেড়েছে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ।
এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেন, খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি বাজারে ঝুঁকি ফিরে আসার সতর্কসংকেত।
জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বাণিজ্য ও পরিবহনব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে।
এদিকে, ২০২৬ সালে বিশ্বে মোট শস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস ৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন কমিয়ে ২ দশমিক ৯৮০ বিলিয়ন টন করেছে এফএও। নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তুলনায় চলতি বছর বৈশ্বিক শস্য উৎপাদন ২ শতাংশ কমতে পারে।
সংস্থাটি বলছে, ২০১৮ সালের পর বার্ষিক শস্য উৎপাদনে এটি সবচেয়ে বড় পতন হতে পারে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে শস্য সরবরাহে বিঘ্ন এবং ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে সারের সরবরাহে চাপ বৈশ্বিক খাদ্যবাজারের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়ছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এ পথে বিশ্ববাজারে বিপুল পরিমাণ তেল সরবরাহ হয়।
হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে খাদ্যবাজারেও। এতে খাদ্য আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতির চাপ।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত দ্রুত প্রশমিত না হলে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের সরবরাহব্যবস্থায় আরও চাপ তৈরি হবে। এর ফলে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা নতুন করে হুমকির মুখে পড়তে পারে।
(ওএস/এএস/সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬)
