ঢাকা, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

জোর করে মুখে বিষ বিষ ঢেলে গৃহবধূকে হত্যা, বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মানববন্ধন

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৫ ১৮:৫০:৪৪
জোর করে মুখে বিষ বিষ ঢেলে গৃহবধূকে হত্যা, বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মানববন্ধন

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জে পারিবারিক কলহের জের ধরে মুসলিমা খানম নামে এক গৃহবধূকে জোর করে মুখে বিষ ঢেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে। গত ২৭ আগস্ট গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের বড়ফা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মুসলিমা খানম গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা জালালাবাদ ইউনিয়নের বড়ফা গ্রামের তোবারক মোল্লার মেয়ে। ২০১৪ সালে একই গ্রামের নুরুজ্জামান মোল্লার ছেলে কুরবান মোল্লার সাথে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়।

মুসলিমার ভাই জুয়েল মোল্লা, মা মর্জিনা বেগম, প্রতিবেশি কামরুল ইসলাম মোল্লা ও ইকরাম সরদারের সাথে কথা বললে তারা জানান, কুরবান মোল্লা দীর্ঘদিন যাবত যৌতুকের জন্য মুসলিমাকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করে আসছে। বিভিন্ন সময় মুসলিমার পরিবার ৫ লাখ টাকা দেয়। মেয়ের উপর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ২০২২ সালে মুসলিমার মা মর্জিনা বেগম বাদি হয়ে জামাই কুরবানের বিরুদ্ধে আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করে। পরে এলাকার গন্যমান্য লোক নিয়ে সালিশ মিমাংসা করে মুসলিমাকে সংসারে ফিরিয়ে নেয়। কিছু দিন পর পুনরায় টাকার জন্য নির্যাতন শুরু করে।

গত ২৭ আগষ্ট কুরবান ও তার পরিবারের লোক নিয়ে মুসলিমাকে মারপিট করে এক পর্যায়ে মুসলিমা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার মুখের মধ্যে জোর করে বিষ ঢেলে দেয়।

মুসলিমা এক পর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়লে কুরবান ও তার বাবা নুরুজ্জামান মোল্লা ভ্যানে তুলে মুসলিমার বাবার বাড়িতে নিয়ে যায় এবং বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে।
তাদের দৌড়ানো দেখে এলাকার রিকু মোল্লা, কিচমত মোল্লাসহ অন্তত ১৫-২০ জন লোক তাদের গতিরোধ করে। দৌড়াচ্ছে কেন স্থানীয় বাসিন্দারা জানতে চাইলে কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। পরে তারা স্বীকার করেন মুসলিমাকে জোর করে বিষ খাইয়েছেন। এর জন্য ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হয়। ওই সময় থানায় খবর দিলে পুলিশে সদস্যরা কুরবান ও নুরুজ্জামানকে থানায় নিয়ে যায়।

পরিবারের লোকজন মুসলিমাকে অচেতন অবস্থায় প্রথমে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। ওই রাতেই মুসলিমার মৃত্যু হয়। ময়না তদন্ত শেষে ২৮ আগস্ট মুসলিমার দাফন সম্পন্ন হয়।

মুসলিমার মা মর্জিনা বেগম বাদি হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানা কুরবান ও নুরুজ্জামান মোল্লাসহ ৪ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন।

হত্যার বিচারের দাবিতে শনিবার(৫ সেপ্টেম্বর) বিক্ষোভ মিছিল করে ও বেলা সাড়ে ১১ টায় গোপালগঞ্জে সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের চন্দ্রদিঘলিয়া-মুধুমতি সড়কে বড়ফা নতুন বাজারে মানববন্ধন করে। এতে ওই এলাকায় শতাধিক মানুষ অংশ গ্রহন করে।
মানববন্ধনে মুসলিমার ভাই জুয়েল মোল্লা, মা মর্জিনা বেগম, প্রতিবেশি কামরুল ইসলাম মোল্লা ও ইকরাম সরদার বক্তব্য দেন।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, এবিষয়ে মামলা হয়েছে। এ মামলায় কুরবান ও তার বাবা নুরুজ্জামান মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারেপাঠানো হয়েছে। মামলার বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।

(টিবি/এসপি/সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬)