প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
ফরিদপুরে জুমার নামাজ শেষে নারীর বাড়ি ভাঙচুর, জেলা ছাড়তে আল্টিমেটাম
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৫ ১৯:২৯:৫০
রিয়াজুল রিয়াজ, বিশেষ প্রতিনিধি : ফরিদপুরে জুম্মার নামাজ শেষে মাদক কারবারির অভিযোগ তুলে মিলনি বেগম (৫২) নামে এক নারীর বাড়িতে হামলা চালিয়েছে স্থানীয়রা। এ সময় লাঠিশোটা দিয়ে ওই নারীর দুটি টিনের ঘর ভাঙচুর করে হামলাকারীরা। খবর পেয়ে কোতয়ালি থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মিলনির পরিবারকে আগামী ররিবার দুপুরের মধ্যে ফরিদপুর জেলা ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যেতে আল্টিমেটাম দেন।
গতকাল শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২ টার দিকে ফরিদপুর পৌরসভার ১৮নং ওয়ার্ডের ভাটিলক্ষীপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় এ হামলাট ঘটনা ঘটে। এ হামলায় ঘটনায় শতাধিক স্থানীয় জনতা অংশগ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।
হামলাকারীদের দাবি, ওই এলাকার মৃত হালিম শেখের স্ত্রী মিলনি বেগম ও তাঁর দুই ছেলে বাবু শেখ (৩৫) ও লাবু শেখ (৩১) সহ পরিবারের ৬ সদস্য চিহ্নিত মাদক কারবারি। যাদের মধ্যে দুই ভাই হেরোইন বাবু ও ইয়াবা লাবু নামে পরিচিত বলে জানান তারা।
তাদের অভিযোগ, পরিবারটি মদনখালী স্লুইচগেট সংলগ্ন সরকারি জায়গায় বসতি স্থাপন করে দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক কারবারি চালিয়ে আসছে। বিষয়টি নিয়ে তাঁদের নিষেধ করা হলেও কর্মকান্ড চালিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে টেপাখোলা ও ভাটিলক্ষীপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জুম্মার নামাজ শেষে সংঘবদ্ধ হয়ে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায়।
জানা যায়, জুম্মার নামাজ আদায় শেষে স্লোগান দিয়ে দৌড়ে যান স্থানীয়রা। এক পর্যায়ে লাঠিশোটা নিয়ে ওই মাদক কারবারির বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান কোতয়ালী থানা পুলিশের একটি দল এবং বিক্ষুদ্ধদের নিবৃত্ত করেন। হামলায় দুটি টিনের ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপি নেতা রুবেল হোসেন দুলাল বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ মিলনি ও তাঁর দুই ছেলে, মেয়ে ও ভাগনে সহ মোট ৬ জন ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজার ব্যবসা করে আসছে। আমরা চাই না, একটি পরিবারের জন্য হাজার হাজার পরিবার নষ্ট হোক। আমরা চাই- ওরা ফরিদপুর জেলাতেই থাকতে পারবে না। কারন- আমাদের এমপি নায়াব চৌধুরীর নির্দেশ- কোনো মাদককারবারির সাথে আপোষ নেই। আগামী রবিবারের মধ্যে তাঁদের এখান থেকে ছেড়ে চলে যেতে হবে। যদি না যায় তাহলে আমরা যোহরের নামাজ শেষে একইভাবে বাড়িঘর ভেঙে নদীতে ফেলায় দেব।'
এদিকে এ হামলার পর পরিবারটি সেখান থেকে পালিয়ে যায় বলে স্থানীয় সুত্রে জানা যায়। এসব বিষয়ে জানতে তাঁদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ওই পরিনারের কোনো সদস্যের সাথেই য়োগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ হামলার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহামুদুল হাসান 'উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ'কে জানান, 'খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত কোন পক্ষই কোনো প্রকার লিখিত অভিযোগ দেননি'। এছাড়া, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান ওসি মাহমুদুল।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ফরিদপুর সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন জানান, ঘটনাটি আমি শুনেছি। তবে ওই পরিবারের নামে কোনো মাদক মামলা রয়েছে কি-না আমার জানা নেই'।
সমাজে কেউ মাদক কারবারি হলে তাকে আইনের হাতে সোপর্দ না করে তার বাড়ি ঘর ভাঙচুর করা বা নিজ জেলা থেকে বিতাড়িত করার ঘোষণা কিংবা আল্টিমেটাম কোনোটিই আইন সম্মত নয় বলে মত দিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সহকারি এটর্নি জেনারেল এডভোকেট মো. ফারুক হোসেন তপাদার।
এদিকে, হামলাকারীরা স্থানীয় প্রশাসনকে ওই পরিবার সম্পর্কে পূর্বে কোনো অভিযোগ না জানিয়ে হঠাৎ জুম্মার নামাজের পর স্থানীয় জনতা কর্তৃক মিলনি বেগমের বাড়ি-ঘরে হামলা করে ভাঙচুর করা এবং ওই পরিবারটিকে তাদের নিজ জেলা ছেড়ে দিতে সময় বেঁধে দেওয়ার ঘটনার পিছনে শুধুই কি মাদকের কারবার, নাকি ওই পরিবারটির বিরুদ্ধে অভিযোগের ধোঁয়া তুলে তাদেরকে বাড়ি থেকে বিতাড়িত করে ওই বাড়ীর জায়গাটুকু অন্য কেউ দখলে নিয়ে তা ভোগ করবেন? -এমন প্রশ্নের জন্ম দিলেও এবিষয়ে বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি।
(আরআর/এসপি/সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬)
