ঢাকা, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিস্তারিত

সরকারিভাবে হজে যাওয়া ব্যক্তিরা ফেরত পাবেন ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৬ ১৫:৪০:৩৪
সরকারিভাবে হজে যাওয়া ব্যক্তিরা ফেরত পাবেন ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা

স্টাফ রিপোর্টার : চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করা চার হাজার ৩৪১ জন হাজিকে উদ্বৃত্ত চার কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।

চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের অনুকূলে সৌদি পর্বের অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়া নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ১০ জন হাজির হাতে তাদের অর্থের চেক তুলে দেন মন্ত্রী। বাকিদের অর্থ রোববারের মধ্যে তাদের ব্যাংক হিসাবে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালে সরকারি মাধ্যমের চার হাজার ৩৪১ জন হাজি মোট চার কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত পাবেন। এই টাকা হাজিদের ব্যাংক হিসাবে ফেরত পাঠানো হবে। ২৩ জন হাজির চিকিৎসা ব্যয় তাদের স্বাস্থ্য বিমার অর্থের চেয়ে বেশি হওয়ায় তারা কোনো অর্থ ফেরত পাবেন না।

প্রতারণা থেকে হাজিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন উল্লেখ করেন, হাজিদের টাকা ফেরতসহ ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া সব অনুদান বা সহায়তা কেবল ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়। এ টাকা পাঠাতে মন্ত্রণালয় থেকে কাউকে ফোন করা কিংবা তার কাছ থেকে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের নম্বর কিংবা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব বিকাশ, নগদ বা রকেটের কোনো পিন নম্বর চাওয়া হয় না।

‘এমনটি যদি কেউ করে, তাহলে সে প্রতারক। এ ধরনের প্রতারকদের থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করছি,’ যোগ করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘হজের ব্যয় কমিয়ে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য এই পবিত্র ইবাদতকে সহজসাধ্য করা আমাদের সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনি অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় ২০২৬ সালের হজে বিমানভাড়া পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমানো সম্ভব হয়েছে। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ২০২৭ সালের হজে বিমানভাড়া আরও কমিয়ে মাত্র এক লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। হজযাত্রীদের কল্যাণে যা বর্তমান সরকারের একটি ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী মাইলফলক।’

শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন জানান, ২০২১ সালের হজ প্যাকেজে বাড়িভাড়ার জন্য যে পরিমাণ অর্থ ধার্য করা হয়েছিল, তার চেয়ে কিছু কম মূল্যে এবার বাড়ি ভাড়া করতে তারা সক্ষম হয়েছেন। এছাড়া আলোচনার মাধ্যমে সার্ভিস চার্জও কিছুটা কমানো সম্ভব হয়েছে। এরই মধ্যে প্রতিটি প্যাকেজের খরচের খাতভিত্তিক হিসাব চূড়ান্ত করা হয়েছে।

২০২৬ সালের হজে সরকারি মাধ্যমে মোট তিনটি প্যাকেজ ছিল উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, এগুলো হলো হজ প্যাকেজ-১ (বিশেষ), হজ প্যাকেজ-২ ও হজ প্যাকেজ-৩।

হজ প্যাকেজ-১ (বিশেষ) সম্পর্কে তিনি জানান, এই প্যাকেজের হাজিদের কাবা শরিফ থেকে এক নম্বর বাড়ি তথা হোটেল বুল্লরা আল দুররাতে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এই হোটেলে অবস্থানকারী পূর্ণ প্যাকেজের হাজিরা প্রত্যেকে ৩৮ হাজার ৬৯৭ টাকা ৩২ পয়সা এবং শর্ট প্যাকেজের হাজিরা প্রত্যেকে ৪৬ হাজার ৮৮৮ টাকা ৪০ পয়সা ফেরত পাবেন।

এছাড়া এই হোটেলের দুই সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা প্রত্যেকে এক লাখ ৬৪ হাজার ১৯০ টাকা ৫৬ পয়সা এবং যারা দুই সিটের আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজে হজ পালন করেছেন, তারা প্রত্যেকে এক লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ টাকা ৭১ পয়সা ফেরত পাবেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা প্রত্যেকে এক লাখ ১৮ হাজার ৭২ টাকা ৮২ পয়সা এবং যারা তিন সিটের আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজে হজ পালন করেছেন, তারা প্রত্যেকে এক লাখ ৩১ হাজার ৭৩৫ টাকা ৫৩ পয়সা ফেরত পাবেন।

হজ প্যাকেজ-২ সম্পর্কে ধর্মমন্ত্রী জানান, এই প্যাকেজের হজযাত্রীদের মক্কা হজ মিশন সংলগ্ন ২, ৩ ও ৪ নম্বর বাড়িতে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। দুই নম্বর বাড়ি তথা হোটেল লুলুয়াত আল তাওহিদে অবস্থানকারী সাধারণ প্যাকেজের হাজিরা প্রত্যেকে দুই হাজার ৫০৫ টাকা ৪৯ পয়সা, শর্ট প্যাকেজের হাজিরা আট হাজার ৭৩০ টাকা ৭০ পয়সা, দুই সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৬২ হাজার ৩৩১ টাকা ৭৯ পয়সা, দুই সিটের আপগ্রেডেশনের শর্ট প্যাকেজের হাজিরা প্রত্যেকে ৭৮ হাজার ৭১৩ টাকা ৯৪ পয়সা, তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা তিন হাজার ২৮৭ টাকা ৩৬ পয়সা এবং তিন সিটের আপগ্রেডেশনের শর্ট প্যাকেজের হাজিরা প্রত্যেকে আট হাজার ৪৩১ টাকা ৩৬ পয়সা ফেরত পাবেন।

তিন নম্বর বাড়ি তথা হোটেল রাওদাত আল শুরুকে অবস্থানকারী সাধারণ প্যাকেজের প্রত্যেক হাজি তিন হাজার ৯৭৯ টাকা ৮৮ পয়সা, শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ১২ হাজার ১৭০ টাকা ৯৫ পয়সা, দুই সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা চার হাজার ৩৭৬ টাকা ৬৬ পয়সা এবং তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৪৪ হাজার ১১৯ টাকা ৮৭ পয়সা ফেরত পাবেন বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, চার নম্বর বাড়ি তথা হোটেল মানার আল শুরুকে অবস্থানকারী হাজিরা প্রত্যেকে সাত হাজার ৪১৪ টাকা ২৩ পয়সা, দুই সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা পাঁচ হাজার ৬৭৫ টাকা ৪৩ পয়সা এবং তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ছয় হাজার ২৪৯ টাকা ২৪ পয়সা ফেরত পাবেন।

সাধারণ হজ প্যাকেজ-৩ সম্পর্কে তিনি বলেন, এই প্যাকেজের হাজিদের ৫ নম্বর বাড়ি তথা হোটেল নাম্বার ওয়ানে রাখা হয়েছিল। এই বাড়িতে অবস্থানকারী পূর্ণ প্যাকেজের হাজিরা প্রত্যেকে তিন হাজার ৭১৮ টাকা ৯ পয়সা ফেরত পাবেন। এই প্যাকেজে শর্ট কিংবা আপগ্রেডেশনের কোনো ব্যবস্থা ছিল না।

(ওএস/এএস/সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬)