ঢাকা, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

বাগেরহাটে নিহতের মোবাইলের সূত্র ধরেই তিন খুনের রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৬ ১৯:২০:০০
বাগেরহাটে নিহতের মোবাইলের সূত্র ধরেই তিন খুনের রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩

বাগেরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাটের কচুয়ায় আলোচিত একই পরিবারের দুই নারীসহ তিনজন খুনের রহস্য এক মাস পর পুলিশ উদঘাটন করেছে। এক মাস পর নিহতের মোবাইলের সূত্র ধরেই হত্যার সাথে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার দিনভর কচুয়ায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে চারটি মোবাইলফোন ও একটি চার্জার উদ্ধার করা হয়। এক নারীর সাথে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক জানতে পারায় একই পরিবারের তিনজনকে আসামীরা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। আজ রবিবার দুপুরে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তারকৃক আসামীরা হলেন, বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার চান্দেরখোলা গ্রামের মজিদ হাওলাদারের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৪০), একই গ্রামের সুলতান শেখের ছেলে আসাদুল শেখ (৪১) এবং বারিক হাওলাদারের ছেলে আরিফ হাওলাদার ওরফে বাবু (৩৮)। আসামীরা প্রতিবেশি ও সম্পর্কে একে অপরের আত্মীয়।

গত ৪ আগষ্ট জেলার কচুয়া উপজেলার চান্দেরখোলা গ্রামের মৃত আবদার আলী হাওলাদারের নিজ ঘর থেকে স্ত্রী মনিরা বেগম মনি (৬০), ছেলে আহাদ আলী হাওলাদার (২৫) ও শ্বাশুড়ি রাশিদা বেগমের (৯৩) মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করে। ঘটনার পরদিন কচুয়া থানায় নিহত মনিরা বেগমের বড় ছেলে ফয়সাল হাওলাদার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে এই হত্যা মামলা দায়ের করেন।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার জানান, গত ২ আগষ্ট রাতে কচুয়া উপজেলার চান্দেরখোলা গ্রামে একই পরিবারের তিনজনকে খুনের একটি ঘটনা সংঘটিত হয়। এর দুইদিন পর ৪ আগষ্ট তাদের মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করে। এরা সম্পর্কে মা ছেলে ও নানী। এরপর ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করে দেখতে পাই নিহত মনিরা বেগমের ব্যবহ্নত মোবাইলফোনটি কেউ ব্যবহার করছে। ওই সূত্রধরে পুলিশ কাজ অব্যাহত রাখে প্রথমে জাহিদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর আসাদুল শেখ ও আরিফ হাওলাদার ওরফে বাবু নামে দুইজনকে সন্দেহভাজনের তালিকায় নিয়ে আসি। শনিবার তাদের মধ্যে আরিফ হাওলাদার ওরফে বাবুর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করি। পরে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ি অন্য আরেক সন্দেহভাজন আসাদুলের বাড়ি থেকে নিহত আহাদের ব্যবহ্নত মোবাইলফোনটি উদ্ধার করে তাদের জেলা ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাহিদ, আসাদুল ও বাবু তিনজনে মিলে পরিকল্পনা করে এই হত্যাকান্ড সংগঠিত করার কথা স্বীকার করেছে। আসামী জাহিদ হাতুড়ি দিেেয়আঘাত করে প্রথমে আহাদকে, পরে মা মনিরা বেগম ও নানী রাশিদা বেগমকে গলায় রশি পেচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এই তিনটি হত্যাকান্ড ঘটাতে বাবু ও আসাদুল জাহিদকে সহযোগিতা করে। হত্যার পর আসামীরা ওই বাড়ি থেকে তিন থেকে চারটি মোবাইলফোন নিয়ে যায়। তিনতিনটি হত্যাকান্ডের ঘটনা বর্ণনা করে পুলিশের কাছে আসাদুল ও বাবু প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে দাবি করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, নিহত আহাদের পরিবারের এক নারী সদস্যের সাথে আসামী জাহিদের পরকীয় সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্ক নিহত আহাদের মা মনিরার সাথে আসামী জাহিদের বাকবিতন্ডা হয়। জাহিদের স্ত্রী এই ঘটনা জানতে পারলে এই নিয়ে তাদের সংসারে অশান্তি শুরু হয়। ঢাকায় কর্মরত ওই নারীর সাথে জাহিদের বিভিন্ন সময়ে মোবাইলফোনে কথা বলা ও নানা ধরনের টেক্সট ম্যাসেজ জাহিদের স্ত্রী তা পেয়ে যান। এনিয়ে তাদের স্বামী স্ত্রীর ঝগড়া বিবাদ চরমে পৌছায়। এতে নিহত আহাদের পরিবারের সাথে সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় আসামী জাহিদ এক ক্ষুব্দ হয়ে আসাদুল ও বাবুকে নিয়ে আহাদের পরিবারের তিনজনকে খুন করে।

(এস/এসপি/সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬)