প্রচ্ছদ » পাঠকের লেখা » বিস্তারিত
গুরুত্ব বিবেচনায় একটি সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৭ ১৭:৪২:২৪
আবদুল হামিদ মাহবুব
শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর দিক সামনে এসেছে; নয়াদিল্লি কেন বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে সমর্থন করল, সেই প্রশ্ন। কলকাতাভিত্তিক দ্য ওয়াল-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ভারতের নীতির ব্যাখ্যা ভারত সরকারের কাছেই চেয়েছেন।
হাসিনার বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য শুধু তারেক রহমানকে আক্রমণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মধ্য দিয়ে তিনি মূলত ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিপরীতে বর্তমান দিল্লি-ঢাকা সমীকরণকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছেন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারত একদিকে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে তারেক রহমানও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো; ভারতের জন্য বাংলাদেশকে ঘিরে নীতি এখন আর কেবল কোনো একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নির্ভর করছে না। সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য, পানি, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং চীনের প্রভাব; সবকিছু মিলিয়ে দিল্লিকে বাস্তববাদী ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে। ফলে হাসিনার প্রতি ভারতের অতীত ঘনিষ্ঠতা থাকলেও বর্তমান বাস্তবতায় ঢাকার ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে কাজ করা ভারতের জন্য কৌশলগত প্রয়োজন।
অন্যদিকে, হাসিনার বক্তব্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ার যে কথা এসেছে, সেটি দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সামরিক বা ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবর্তে অর্থনীতি, নিরাপত্তা, নদীর পানি, সীমান্ত ও যোগাযোগকে কেন্দ্র করে সহযোগিতা; এটাই কার্যকর পথ হতে পারে।
তবে তারেক রহমানকে ঘিরে হাসিনার সমালোচনা স্পষ্টতই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ। একই সঙ্গে এটি ভারতের সামনে একটি কঠিন কূটনৈতিক প্রশ্নও রাখছে: দিল্লি কি বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির পাশে থাকবে, নাকি রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সব সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে? বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় পথটিই ভারতের জন্য বেশি বাস্তবসম্মত বলে প্রতীয়মান হয়।
লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও শিশু সাহিত্যিক।
