ঢাকা, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

দড়ি টেনে খেয়া পার করেন প্রতিবন্ধী জনি, সেই আয়ে চলে ছয় সদস্যের সংসার

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৭ ১৮:৪৭:৫৯
দড়ি টেনে খেয়া পার করেন প্রতিবন্ধী জনি, সেই আয়ে চলে ছয় সদস্যের সংসার

বাগেরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাট সদর উপজেলার কুলিয়া দাইড় গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী জনি মোল্লা’র (৩৫) অন্য কোনো কাজ করার সামর্থ্য না থাকায় দীর্ঘ আট বছর ধরে যাত্রাপুর বাজারসংলগ্ন খেয়াঘাটে দড়ি টেনে নৌকায় মানুষ পারাপার করছেন। ভৈরব নদীর এই খেয়াঘাটটি দিয়ে প্রতিদিন দুই পাড়ে ৬ শতাধিক মানুষের নদী পারাপার হন। ঘাটে নৌকার সঙ্গে বাঁধা মোটা দড়ি ধরে নদীর এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে টানতে থাকেন জনি। নদীর স্রোত, রোদ কিংবা বৃষ্টি কোনো কিছুই জনির কর্মযাত্রা থামাতে পারে না।

প্রতিদিন সকাল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খেয়াঘাটে থাকতে হয় তাকে। তবে সবসময় একটানা কাজ করতে পারেন না। শারীরিক ও মানসিক সমস্যার কারণে কখনো সুস্থ থাকলে নৌকা চালান, আবার অসুস্থ হলে বিরতি নেন। তবুও পরিবারের কথা মনে করে সুযোগ পেলেই আবার হাতে তুলে নেন দড়ি। আর এই কাজ থেকে পাওয়া সামান্য টাকা তুলে দেন বৃদ্ধ বাবার হাতে। সেই টাকাতেই চলে জনিদের পরিবারের ছয় সদস্যের সংসার।

জনি মোল্লা বলেন, এই ঘাটে প্রায় আট বছর ধরে দড়ি টেনে খোয়া নৌকায় লোকজনকে পারাপার করছি। আমার শারীরিক ও মানসিক সমস্যা আছে। তারপরও সংসারের জন্য কাজ করতে হয়। আমার পরিবারের ছয়জন সদস্য। দিনে ৪০০ টাকা পাই। এই টাকা পুরোটা বৃদ্ধ আব্বুর হাতে দিয়ে দিই। আব্বু এই টাকা দিয়ে সংসার চালান। সকাল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ঘাটে থাকি। আমার বড় কোনো স্বপ্ন নেই, শুধু পরিবারের মুখে দুবেলা খাবার তুলে দিতে পারাটাই তার একমাত্র চাওয়া।

ঘাটে নিয়মিত যাতায়াতকারী মনিরা বেগম বলেন, জনির দেখলে বোঝা যায় না ওর শারীরিক সমস্যা আছে, এই খেয়া টানা ছাড়া অন্য কোনো কাজ করতে পারে না। সাত-আট বছর ধরে এই কাজ করেই সংসার চালাচ্ছে। আগে বাবার সঙ্গে জাল ধরত। এখন খেয়া টেনেই সংসার চলে। গরিব ও প্রতিবন্ধী মানুষটির আর্থিক সহযোগিতা করা হলে সে ভালোভাবে চলতে পারবে।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মেহেদী হাসান বলেন, অনেক বছর ধরে জনিকে দুড় টেনে কেয়া নৌকা চালাতে দেখছি। ছেলেটা প্রতিবন্ধী হওয়ায় অন্য কোনো কাজ করতে পারে না। তারপরও নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এই কাজ করে যাচ্ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নদীর ঘাটে পড়ে থাকে।

খেয়া ঘাটের ইজারাদার মাসুম মোল্লা বলেন, জনি দীর্ঘদিন ধরে এখানে দড়ি টেনে খেয়া নৌকায় মানুষ পারাপারের কাজ করছে। ওকে তিন বেলা খেতে দিই, চা-নাশতা দিই এবং ৪০০ টাকা বেতন দিই। ভোর ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খেয়া নৌকা চালায়। জনি প্রতিবন্ধী ও খুবই গরিব। ওর কোনো জায়গা-জমি নেই, নিজের বলতে কিছুই নেই। ওর বৃদ্ধ বাবা মাছ ধরে। জনি যে ৪০০ টাকা পায়, সেটাও পুরোটা বাবার হাতে তুলে দেয়। সেই টাকা দিয়েই ওর পরিবারে ছয়জন সদস্য। যদি জনিকে একটু সাহায্য-সহযোগিতা করা যায়, তাহলে সে আরও ভালোভাবে বাঁচতে পারবে।

(এস/এসপি/সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬)