প্রচ্ছদ » বিনোদন » বিস্তারিত
‘এই দেশে শিল্পী হওয়াটাও পাপ’
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৮ ১৫:০২:৫২
বিনোদন ডেস্ক : ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ। বাঁধনের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে নিজের ফেসবুক পোস্টে শিল্পীদের রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে বিচার করার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
বাঁধনের অভিযোগ, ইতালিতে তাকে পানি, কোমল পানীয় ও ডিম ছুড়ে মারা হয়েছে। শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি তার হাত থেকে মুঠোফোনও ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার সময় তার ভাইয়ের শিশুসন্তানও সঙ্গে ছিল বলে জানান বাঁধন। পরে স্থানীয় থানায় অভিযোগ করেন তিনি।
বাঁধনের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকার কারণেই তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী এবং ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মৌসুমী হামিদ লিখেছেন, ‘এই দেশে শিল্পী হওয়াটাও পাপের। কারণ শিল্পীরাই দেখি সবচেয়ে বড় রাজনীতিবিদ হিসেবে কথা বলছেন।’
তিনি আরও লেখেন, কোনো শিল্পীর ওপর হামলাই কাম্য নয়। সেটা ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে হোক কিংবা ভেনিসে কোনো ক্ষেত্রেই হামলাকে সমর্থন করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মৌসুমী হামিদ বলেন, জীবনে কোনো রাজনৈতিক দল করেননি তিনি। তবে দেশের ভালো-মন্দ ও পরিস্থিতি নিয়ে সবসময় কথা বলেছেন। বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় যারা সমর্থন করছেন কিংবা রাজনৈতিক ঘটনার সঙ্গে তুলনা করছেন, তাদের উদ্দেশেও প্রশ্ন তোলেন এই অভিনেত্রী।
তার ভাষায়, যদি কেউ মনে করেন অতীতে ৩২ নম্বরে একজনের কাপড় টেনে ছেঁড়া হয়েছিল বলে এখন অন্য একজনের কাপড় টেনে ছেঁড়ার অধিকার কোনো রাজনৈতিক দলের আছে, তাহলে তারা কী ধরনের নেতৃত্বের কথা বলছেন সেটি নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়।
মৌসুমী আরও লেখেন, ‘শিল্পী হয়ে মানুষকে তার মনুষ্যত্ব দিয়ে বিচার করা ভুলে আমরা শুধু মাত্র দল দিয়ে বিচার করা শিখতেছি।’
রাজনীতির নামে মানুষের ওপর হামলা বা নির্যাতনের সংস্কৃতির সমালোচনা করে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান ও মওলানা ভাসানীর মতো নেতাদের উদাহরণ টানেন। তার মতে, মানুষের নেতা হওয়ার লড়াইয়ের বদলে এখন একে অন্যের কাপড় ছেঁড়ার সংস্কৃতিই যেন সামনে চলে আসছে।
বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে মৌসুমী হামিদ বলেন, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের কারণে একজন শিল্পীর ওপর হামলাকে বৈধতা দেওয়া যায় না। শিল্পী হিসেবে মানুষের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিই সবার আগে থাকা উচিত।
(ওএস/এএস/সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬)
