ঢাকা, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

শ্যামনগরে জেলেদের চাউল বিতরণে অনিয়ম, ৮০ কেজির পরিবর্তে মিলছে ৩৫ কেজি 

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯ ১৮:৩৩:৩২
শ্যামনগরে জেলেদের চাউল বিতরণে অনিয়ম, ৮০ কেজির পরিবর্তে মিলছে ৩৫ কেজি 

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি মানবিক সহায়তার চাউল বিতরণে অনিয়ম, আত্মীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলেদের জনপ্রতি ৮০ কেজি হারে চাউল দেওয়ার কথা থাকলেও বিতরণ করা হয়েছে ৩৫ কেজি করে। এছাড়া ট্যাগ অফিসারের অনুপস্থিতিতে চাউল বিতরণ এবং পরিবহণের নামে জেলেদের বরাদ্দকৃত চাউল থেকে চাউল কেটে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাছের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় জুন, জুলাই ,আগস্ট তিন মাস সুন্দরবনে পাস পারমিট বন্ধ থাকায় নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ।

এই সময়ে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে ৭৬০ জন নিবন্ধিত জেলেদের জন্য ৮০ কেজি করে চাউল বরাদ্দ দেয় সরকার। পাস পারমিট বন্ধের সময় চাউল দেওয়ার কথা থাকলেও চাউল গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) থেকে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে তা বিতরণ করা হয়।

নিয়ম অনুযায়ী ৮০ কেজি করে চাউল বিতরণের কথা থাকলেও তা দুই জন বিএলসি ধারীকে দেওয়া হচ্ছে ৭০ কেজি। ফলে ৪৫ কেজি করে চাল কম পেয়েছে জেলেরা। এই হিসাবে ৭৬০ জন জেলের বরাদ্দ থেকে ৩৪ হাজার ২শ কেজি চাউল কম বিতরণের অভিযোগ উঠেছে।

নিয়ম অনুযায়ী ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে চাউল বিতরণ করার কথা থাকলেও প্যানেল চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম (পল্টু) সরকারি ছুটির দিনে ট্যাগ অফিসার ছাড়াই এই বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলে— আবুবক্কার, রবিউল ইসলাম, আব্দুর রউফসহ একাধিক জেলেরা অভিযোগ করে বলেন আমাদের ৮০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান, মেম্বররা আমাদের ৩৫ কেজি করে চাল দিচ্ছে আমাদের বলছে চাউল কম এসেছে তাই একজনের চাউল দুইজনকে ভাগ করে দিচ্ছি।

জেলে আলমগীর হোসেন জানান, প্যানেল চেয়ারম্যান প্রকৃত জেলেদের বঞ্চিত করে অন্যান্য পেশাজীবীদের সহ নিজের আত্মীয়—স্বজনদের চাউল দিয়েছেন।

অন্যদিকেই একই অভিযোগ উঠেছে ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাজল সরদারের বিরুদ্ধেও।
ট্যাগ অফিসার মিনা হাবিব বলেন, চেয়ারম্যান আমাকে ফোন দিয়েছিল চাউল বিতরণের জন্য কিন্তু শনিবার ছুটির দিন এবং আমি অসুস্থ থাকায় উপস্থিত থাকতে পারেনি কিন্তু আমি বলে দিয়েছি কোন প্রকার অনিয়ম যাতে না হয় যদি অনিয়ম হয় তাহলে এর জন্য চেয়ারম্যান দায়ী এবং আমি মৎস্য কর্মকর্তার সাথে এ বিষয়ে কথা বলছি।

অন্যদিকে মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, (৮০ কেজি করে ৭৬০ জন) বিএলসি এবং মৎস্য কার্ড ধারী জেলেদের চাউল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যে পরিমাণ বরাদ্দ আছে সেটাই বিতরণ করতে হবে চাউল কম দেয়ার কোন সুযোগ নেই চেয়ারম্যান যদি চাউল কম দিয়ে থাকে তাহলে বিষয়টি নিয়ে আমি এসিল্যান্ড সারের সাথে কথা বলছি এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ৭নং সুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম পল্টুর সাথে মোবাইলে কথা বলার জন্য বার বার কল করলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

(আরকে/এসপি/সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬)