ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » কৃষি » বিস্তারিত

মীরেরবাড়িতে সবজির সবুজ বিপ্লব, ৮০০ কৃষকের ঘামে বদলাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ১৮:২৯:৪৩
মীরেরবাড়িতে সবজির সবুজ বিপ্লব, ৮০০ কৃষকের ঘামে বদলাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি

পিএম সৈকত, কুড়িগ্রাম : ভোরের আলো ফুটতেই কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের মীরেরবাড়ি গ্রামের মাঠে শুরু হয় কৃষকদের কর্মব্যস্ততা। কেউ জমিতে সবজির পরিচর্যা করছেন, কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত ফসল সংগ্রহে। বেগুন, করলা, লাউ, শিম থেকে শুরু করে পাতাকপি ও ফুলকপি-বছরের প্রায় প্রতিটি মৌসুমেই সবুজে ভরে থাকে গ্রামের মাঠ। তাই স্থানীয়দের কাছে মীরেরবাড়ি এখন পরিচিত ‘সবজির রাজ্য’ হিসেবে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ছিনাইয়ের মীরের বাড়ি গ্রামে সবজির সমারোহের দৃশ্য। যেদিকে তাকানো হয়ে সেই দিকে শুধু সবুজ আর সবুজ।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে রাজারহাট উপজেলায় সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৬০ হেক্টর। এর মধ্যে মীরেরবাড়িতেই আবাদ হয়েছে ৪০০ হেক্টর, যা উপজেলার মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৫৩ শতাংশ। এক গ্রামেই প্রায় ৮০০ কৃষক সরাসরি সবজি চাষের সঙ্গে যুক্ত।

কৃষকেরা জানান, মীরেরবাড়ির দোআঁশ মাটি ও তুলনামূলক উঁচু জমি সবজি চাষের জন্য উপযোগী। অতিরিক্ত পানি জমে না থাকায় বিভিন্ন মৌসুমি সবজির ভালো ফলন হয়। বাজারে চাহিদা ও তুলনামূলক লাভজনক হওয়ায় ধানের পরিবর্তে অনেকেই সারা বছর সবজি চাষ করছেন।

স্থানীয় কৃষক জাহেরুল ইসলাম বলেন, “মুই সারা বছর মোর জমিত আনাইজ (সবজি) চাষ করোং। হামার এই মাটিত যাদু আছে। অল্প সার দিয়া ভালো আবাদ হয়, লাভও ভালো।”

তিনি জানান, ৫০ শতক জমিতে পাতাকপি ও ৬০ শতকে ফুলকপি চাষে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে প্রায় ২ লাখ টাকার সবজি বিক্রির আশা করছেন। ৪০ শতক জমিতে হলুদ চাষে খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা; সেখান থেকে প্রায় ১ লাখ টাকার হলুদ বিক্রির প্রত্যাশা তাঁর।
তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি সমস্যাও রয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, সার কিনতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। অনেক সময় চাহিদামতো সারও পাওয়া যায় না। পাশাপাশি কীটনাশকের মূল্যবৃদ্ধিতে বেড়েছে উৎপাদন খরচ। সবচেয়ে বড় অভিযোগ, মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে উৎপাদিত সবজির ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকেরা।

স্থানীয় পাইকার দুলু মিয়া বলেন, মীরেরবাড়ির সবজি রাজারহাটের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়। তাঁর দাবি, কৃষকের কাছ থেকে ৩০ টাকায় কেনা সবজি বাইরে প্রায় ৫০ টাকায় পাঠানো হয় এবং খুচরা বাজারে তা আরও বেশি দামে বিক্রি হয়।

রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায়, গত অর্থবছরে মীরেরবাড়িতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০০ হেক্টর এবং অর্জনও হয়েছে ৪০০ হেক্টর। সারসংকটের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে কোনো সারসংকট নেই। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সার সরবরাহ করা হচ্ছে।

(পিএস/এসপি/সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬)