ঢাকা, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিস্তারিত

‘বাকস্বাধীনতা যেন বাকশালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে’

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১১ ০০:২৬:৪৭
‘বাকস্বাধীনতা যেন বাকশালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে’

স্টাফ রিপোর্টার : বাকস্বাধীনতা যেন বাকশালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে, সেদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, “গণতন্ত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে; তবে সেই স্বাধীনতার নামে গালাগালি ও অসৌজন্যপূর্ণ আচরণ রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হওয়া উচিত নয়।”

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অধিবেশনের এ পর্যায়ে সভাতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

তারেক রহমান বলেন, “বর্তমানে দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। মানুষ তার মতামত প্রকাশ করতে পারছে। তবে বাকস্বাধীনতার নামে এমন কোনও ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়, যা শালীনতার সীমা অতিক্রম করে।”

তিনি বলেন, “বাকস্বাধীনতা যেন বাকশালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে।”

রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গালাগালি ও ব্যক্তিগত আক্রমণ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “যেসব শব্দ আমরা পরিবারের সদস্যদের সামনে স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করি না, সেসব শব্দ প্রকাশ্য রাজনৈতিক পরিসর বা সংসদে ব্যবহারের প্রয়োজন কী?”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গণতন্ত্রে মতের পার্থক্য থাকবেই। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতাও থাকবে। কিন্তু মতপার্থক্য যেন শত্রুতায় পরিণত না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”

তিনি বলেন, “দেশের মানুষ একটি দলকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে এবং অন্য একটি দলকে বিরোধীদলের দায়িত্ব দিয়েছে। সংসদে সরকার ও বিরোধীদলের প্রত্যেক সদস্যেরই দেশের স্বার্থে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের সুযোগ রয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “স্বাধীনতা অর্জন থেকে শুরু করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বিভিন্ন পর্যায়ে লাখ লাখ মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন। ২০২৪ সালের আন্দোলনেও বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন। সেই আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

তিনি বলেন, “রাজনৈতিক বিভাজন বা পারস্পরিক বিরোধ এমন পর্যায়ে নেওয়া উচিত নয়, যাতে পরাজিত শক্তি আবারও মাথাচাড়া দেওয়ার সুযোগ পায়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে তুলতে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।”

সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, ঋণখেলাপি, বৈদেশিক ঋণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এসব সংকট সমাধানে সরকার কাজ করছে। একইসঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ শুধু বিদ্যুতের গ্রাহক নয়, উৎপাদক দেশেও পরিণত হবে।”

(ওএস/এএস/সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬)