ঢাকা, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » খেলা » বিস্তারিত

‘পাকিস্তান ক্রিকেটকে তামাশা বানিয়েছে পিসিবি’

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১১ ১৪:০২:৪৮
‘পাকিস্তান ক্রিকেটকে তামাশা বানিয়েছে পিসিবি’

স্পোর্টস ডেস্ক : খেলাটাইকেই তামশা বানিয়ে ফেলেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)! এই কথা বলেছেন, ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন। ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তানের ক্রিকেটীয় ব্যর্থতার চেয়েও এখন বেশি আলোচনায় মাঠের বাইরের অস্থিরতা। দুই টেস্টে বড় হারের পর একসঙ্গে সাত ক্রিকেটার ও দুই কোচকে দেশে ফেরানো, টেস্ট কোচ সরিয়ে নতুন কোচ নিয়োগ, সব মিলিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেটে তৈরি হয়েছে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। সেই হাস্যকর ব্যবস্থাপনা নিয়েই সরাসরি প্রশ্ন তুললেন নাসের।

হেডিংলি ও লর্ডসে সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পরই পাকিস্তান দলে ব্যাপক পরিবর্তন আনে পিসিবি। মোহাম্মদ রিজওয়ান, সালমান আলি আগা ও ইমাম-উল-হকসহ সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরানো হয়। একই সঙ্গে পেস বোলিং কোচ উমর গুলসহ দুজন কোচকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। তৃতীয় ও শেষ টেস্টের আগে টেস্ট কোচ সরিয়ে মাইক হেসনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

স্কাই স্পোর্টসের ক্রিকেট পডকাস্টে এসব নিয়েই কথা বলেন নাসের হুসেইন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না, হেডিংলেতে হারের পর পুরো বিশ্ব পাকিস্তানকে নিয়ে হাসছিল। লর্ডসে আমার হতাশার কারণ ছিল তাদের লড়াইয়ের অভাব। তাদের উপহাস করার জন্য নয়, বরং একটি দুর্দান্ত ক্রিকেটীয় দেশ ভুল পথে এগিয়ে যাচ্ছে সেটা বোঝাতেই আমি বলেছিলাম।’

কিন্তু লর্ডস টেস্টের পর পিসিবি এমন সব সিদ্ধান্ত নিতে থাকে, যা দেখে হতবাক হওয়া ছাড়া আর কোন গতি নেই। সেই কারণেই পিসিবির কর্মকাণ্ড নিয়ে কঠোর হন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক নাসের। তিনি বলেন, ‘এখন যা ঘটেছে, তাতে তারা নিজেদেরই হাসির পাত্র বানিয়েছে। তারা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে।’

ইমাম-উল-হকের ইনজুরি ইস্যুটিই সবচেয়ে বেশি বিস্মিত করেছে নাসেরকে। লর্ডস টেস্টের আগে নেটে ইমামকে ব্যাটিং করতে দেখা যাওয়ার পর পাকিস্তানের হাই পারফরম্যান্স পরিচালক আকিব জাভেদ টেলিভিশনে তাঁর ইনজুরি ও খেলার ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ নাসের বলেন, ‘আমি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছি না যে হাই পারফরম্যান্সের পরিচালক টেলিভিশনে এসে নিজের খেলোয়াড়কে এভাবে ছোট করতে পারেন। সে হয় চোটগ্রস্ত, নয়তো নয়। বিষয়টা সহজ।’

ইনজুরি নিয়ে অন্য দলগুলোর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে পাকিস্তানের আচরণের তুলনাও টেনে নাসের বলেন, ‘অন্য সফরকারী দলের কোনো খেলোয়াড়ের চোট নিয়ে প্রশ্ন করলে সাধারণত আপনি সরাসরি উত্তর পান যে, তার স্ক্যান হয়েছে, প্রয়োজন হলে সে ব্যাট করবে, এ ধরনের কিছু। ইমামের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হয়েছে, তা একেবারেই হাস্যকর। আপনাকে নিজের খেলোয়াড়দের দেখভাল করতে হবে। তাদের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।’

পাকিস্তানের অস্থিরতা নিয়ে মুখ খুলেছেন সাবেক কোচ জেসন গিলেস্পিও। গত বছর তাঁর অধীনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জিতেছিল পাকিস্তান। এবার বর্তমান ব্যবস্থাপনায় খেলোয়াড়েরা ‘ভয় নিয়ে খেলছেন’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। আকিব জাভেদের নির্বাচনী কৌশল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক এই অজি পেসার। গিলেস্পির দাবি, ‘নির্বাচকেরা প্রতিদিন অন্তর্বাস বদলানোর মতো নিজেদের সিদ্ধান্ত বদলাচ্ছেন।’

প্রথম টেস্টে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেওয়া সালমান আলি আগাকে পরের ম্যাচেই হঠাৎ বাদ দেওয়ার বিষয়টিকেও উদাহরণ হিসেবে টেনেছেন গিলেস্পি। তাঁর প্রশ্ন, ‘এটা কীভাবে সম্ভব?’ গিলেস্পির দাবি, আকিব ও খেলোয়াড়দের মধ্যে ‘নিশ্চিতভাবেই কোনো যোগাযোগ নেই।’ এমনকি দেশে ফেরত পাঠানো কয়েকজন ক্রিকেটারও সরাসরি টিম ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে নয়, বরং পরিবার, বন্ধু ও সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে নিজেদের বাদ পড়ার খবর জানতে পেরেছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

দুই টেস্ট শেষে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে পিছিয়ে পাকিস্তান। বার্মিংহামের এজবাস্টনে তৃতীয় টেস্টেও ইনিংস হারটা সময়ের ব্যাপার বলেই মনে হচ্ছে।

(ওএস/এএস/সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬)