ঢাকা, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিস্তারিত

‘ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার’

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১১ ১৬:১৩:৫৪
‘ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার’

স্টাফ রিপোর্টার : ভারতের সঙ্গে আগের সরকারের করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে বর্তমান সরকার। এসব চুক্তির বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন সফলভাবে শেষ হওয়া উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ হুইপ বলেন, “আগের সরকারের সময়ে করা বিভিন্ন অনৈতিক ও দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে সরকার। বিএনপি সরকারের নীতি হলো: সবার আগে বাংলাদেশ। দেশের স্বার্থ সুরক্ষার পরই অন্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা হবে।”

ভারতের ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন নুরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, “একটি স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে ওই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো উচিত ছিল। তাকে আমন্ত্রণ না জানানো অত্যন্ত দুঃখজনক।”

চিফ হুইপ বলেন, “বর্তমান সরকার মাত্র পাঁচ মাসে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল ঋণের মধ্য থেকে ২০৫ কোটি ডলার পরিশোধ করতে সক্ষম হয়েছে।”

চিফ হুইপ বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দরে বাংলাদেশের একটি জাহাজ ও বন্ধুত্বপূর্ণ একটি দেশের জাহাজ একই সময়ে এলে কিছু চুক্তির কারণে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের জাহাজ আগে খালাসের সুযোগ পেতে পারে। এ ধরনের ব্যবস্থা দেশের স্বার্থের পরিপন্থি। এ কারণে সরকার এ ধরনের চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে।”

তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার মাত্র পাঁচ মাসে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল ঋণের মধ্য থেকে ২০৫ কোটি ডলার পরিশোধ করতে সক্ষম হয়েছে।”

জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের কার্যক্রম তুলে ধরে চিফ হুইপ জানান, ৯ কার্যদিবসের এ অধিবেশনে মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। ১২৪টি নোটিশের ওপর আলোচনা হয়েছে এবং সংসদ সদস্যরা মোট ১ হাজার ৬৭৮টি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। এ অধিবেশনে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইনসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আইন পাস হয়েছে। এসব আইন গণমানুষের নিরাপত্তা এবং বৃদ্ধ বাবা-মায়ের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জনকল্যাণমুখী এসব আইনের বিরোধিতা করায় বিরোধী দলের সমালোচনা করেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, “জনগণের কল্যাণে নেওয়া এমন উদ্যোগের বিরোধিতা করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

দেশের স্বার্থ রক্ষা এবং গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানান নুরুল ইসলাম মনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে স্বনির্ভর করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

চিফ হুইপ বলেন, “আমরা দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে চাই। বাংলাদেশকে স্বাবলম্বী করতে চাই। এ লক্ষ্য অর্জনে যা যা করা প্রয়োজন, সরকার তার সবই করবে।”
(ওএস/এএস/সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬)