ঢাকা, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

খড়-বাঁশ-মাটিতে ফুটে উঠছে দেবীর অবয়ব, সোনাতলায় চলছে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১১ ১৮:৩৪:২৩
খড়-বাঁশ-মাটিতে ফুটে উঠছে দেবীর অবয়ব, সোনাতলায় চলছে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি

বিকাশ স্বর্ণকার, সোনাতলা : শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে বগুড়ার সোনাতলায় শুরু হয়েছে প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা। খড়, বাঁশ ও মাটির নিপুণ কারুকাজে ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে দেবী দুর্গা ও তাঁর সঙ্গীদের অবয়ব। উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরে মৃৎশিল্পীরা দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরির কাজে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন মন্দির প্রাঙ্গণে খড় ও বাঁশ দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরির কাজ চলছে। কোথাও দেবী দুর্গার অবয়ব তৈরি করা হচ্ছে, আবার কোথাও গণেশ, কার্তিক, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। কাঠামো তৈরির পর তাতে মাটির প্রলেপ দেওয়া হবে। এরপর প্রতিমায় রং, সাজসজ্জা ও বিভিন্ন উপকরণ সংযোজন করে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হবে।

মন্দির কমিটির সদস্যরা জানান, আগামী ১৬ই অক্টোবর থেকে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হয়ে ২১শে অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। উৎসবকে ঘিরে মন্দিরগুলোতে এখন থেকেই চলছে নানা প্রস্তুতি। পূজার দিনগুলোতে ঢাকের বাদ্য, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও ভক্তদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠবে মন্দির প্রাঙ্গণ।

প্রতিমা তৈরির কারিগর রবীন্দ্রনাথ পাল ফরিদপুর থেকে সোনাতলায় এসেছেন। তাঁর সঙ্গে সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন কার্তিক চন্দ্র পাল ও বিমল চন্দ্র পাল।

রবীন্দ্রনাথ পাল জানান, একটি পুরো প্রতিমা তৈরি করতে কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ দিন সময় লাগে। প্রতিমার আকার, নকশা ও কাজের ধরন অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিমার জন্য ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা, এমনকি ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি নেওয়া হয়।

তিনি জানান, এবার সোনাতলা সহ বিভিন্ন এলাকায় চুক্তির ভিত্তিতে ৬ থেকে ৮টি প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন তাঁরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা মন্দির কমিটির কাছে হস্তান্তর করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।

মৃৎশিল্পীরা জানান, প্রতিমা তৈরির কাজের প্রথম ধাপে বাঁশ ও খড় দিয়ে কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে মাটি দিয়ে কাঠামো ঢেকে দেবীর অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়। মাটি শুকানোর পর দেওয়া হয় রং ও নানা ধরনের অলংকার। সবশেষে শাড়ি, গহনা ও অন্যান্য সাজসজ্জার উপকরণে দেবী দুর্গা ও তাঁর সঙ্গীদের দৃষ্টিনন্দন করে তোলা হয়।

দুর্গাপূজা যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে মৃৎশিল্পীদের কর্মব্যস্ততা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় খড়-বাঁশ-মাটির কাঠামো ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে পূজার আরাধ্য দেবী দুর্গার প্রতিমায়।

(বিএস/এসপি/সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬)