প্রচ্ছদ » আইন আদালত » বিস্তারিত
প্রেমভিত্তিক নাটক-সিনেমা বন্ধ চেয়ে রিট
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ১৬:০৩:২৯
স্টাফ রিপোর্টার : যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা রোধ এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করার লক্ষ্যে কেবল প্রেম ও রোমান্সনির্ভর সিনেমা ও নাটক নির্মাণ এবং সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন।
রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বর্তমান চলচ্চিত্র ও নাটক শিল্পে কেবল প্রেম এবং মাত্রাতিরিক্ত রোমান্টিক কনটেন্টের অবাধ সম্প্রচার সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে সমাজে ধর্ষণ, পরকীয়া ও ব্যভিচার বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, মূলধারার এসব গণমাধ্যমে পরকীয়া, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, ব্যভিচার ও ধর্ষণের মতো বিষয়কে অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ও মহিমান্বিত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এর ফলে যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার থেকে বিচ্যুত হচ্ছে এবং সমাজের প্রচলিত নৈতিক কাঠামো দুর্বল হয়ে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে।
রিটে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিভিন্ন গবেষণাধর্মী প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে, লাগামহীন রোমান্টিক ও উসকানিমূলক সিনেমা যুবসমাজের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে নারীর প্রতি সহিংসতা ও বিভিন্ন অপরাধ বৃদ্ধিতেও এসব কনটেন্টের ভূমিকা রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিটকারীর আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন আবেদনে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হলেও শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে আইনের মাধ্যমে যুক্তিসংগত বাধানিষেধ আরোপ করা যায়। জননৈতিকতা বিনষ্টকারী এবং সামাজিক অপরাধে প্ররোচনা দেয় এমন কনটেন্ট অবাধে সম্প্রচার সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের সুরক্ষা পেতে পারে না।
এছাড়া সংবিধানের ২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব বলেও রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিটে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন, ২০২৩’-এর ৫(২) ও ৮(১) ধারা অনুযায়ী পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং এর পরিপন্থি কনটেন্টের অনুমোদন বাতিল করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
অন্যদিকে, ‘কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন, ২০০৬’-এর ১৯ ও ২০ ধারা অনুযায়ী শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থি এবং যুবসমাজের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এমন সম্প্রচার বন্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বিবাদীরা তাদের আইনগত ও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন বলে আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।
রিটে কেবলমাত্র প্রেমভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধের পাশাপাশি যুবসমাজের সৃজনশীল মেধার বিকাশ ও দেশপ্রেম জাগ্রত করতে বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিরক্ষাভিত্তিক চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণ এবং সম্প্রচারে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা জারির আবেদন জানানো হয়েছে।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে বিবাদীদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ (ডিমান্ডিং জাস্টিস নোটিশ) পাঠানো হয়েছিল। নোটিশের পরও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনস্বার্থ ও জাতীয় সংস্কৃতি রক্ষার লক্ষ্যে হাইকোর্টে এ রিট আবেদন করা হয়েছে।
(ওএস/এএস/সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬)
