প্রচ্ছদ » খেলা » বিস্তারিত
‘আমাদের তো কোনো লিগই নেই’
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ১৬:০৫:৩৫
স্পোর্টস ডেস্ক : আন্তর্জাতিক মঞ্চে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে দাঁড়ালে দেশের ফুটবলের কঙ্কালসার চেহারাটা বারবারই সামনে চলে আসে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশ নারী দলের কোচ পিটার বাটলারের কথাতেও ফুটে উঠল সেই রূঢ় বাস্তবতা।
ফলাফলের প্রত্যাশা করার আগে ঘরোয়া ফুটবলের কাঠামোগত দৈন্যদশার কথা মনে করিয়ে দিলেন এই ইংলিশ কোচ। আজ জাপানের ওসাকায় সংবাদ সম্মেলনে এই কথাই মনে করিয়ে দিলেন বাটলার।
জাপানের অবকাঠামোর প্রশংসা করার পাশাপাশি নিজ দলের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন বাটলার। তিনি বলেন, ‘কোরিয়া দলটিতে অত্যন্ত মানসম্পন্ন খেলোয়াড় রয়েছে।
তাদের রয়েছে পর্যাপ্ত ফান্ড ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। বছরের পর বছর ধরে ধারাবাহিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির মধ্য দিয়ে তাদের ফুটবল আজকের পর্যায়ে এসেছে।
’
এরপরই বাংলাদেশের নারী ফুটবলের বাস্তব চিত্রটি সামনে আনেন তিনি, ‘আমাদের বাস্তবমুখী হতে হবে। আমাদের দেশে তো মেয়েদের নিয়মিত কোনো লিগই নেই! তাই এই ম্যাচ নিয়ে আমাদের বড় কোনো ফলাফলের প্রত্যাশা না করে বাস্তববাদী হওয়া জরুরি। আমাদের মূল লক্ষ্য দলের মর্যাদা ধরে রাখা।’
নিয়মিত লিগ না থাকা, পর্যাপ্ত ফান্ডের অভাব এই বিষয়গুলো যে নারী ফুটবলের অগ্রগতির পথে সবচেয়ে বড় বাধা, কোরিয়া ম্যাচের আগে কোচের এই অকপট স্বীকারোক্তি যেন সেই সত্যটিকেই আরেকবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
তবে কঠিন এই বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে দলকে কোনো মানসিক চাপে রাখতে চাইছেন না কোচ। চমৎকার সুযোগ-সুবিধা ও বিশ্বমানের মাঠে খেলার সুযোগটি মেয়েদের কেবল উপভোগ করারই পরামর্শ তার।
আয়োজকদের আতিথেয়তায় দারুণ সন্তুষ্ট বাটলার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমাদের যে আতিথেয়তা দেওয়া হয়েছে, তা সত্যিই চমৎকার। এ নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই, সবকিছুই খুব ইতিবাচক। দুর্ভাগ্যবশত কাল হয়তো স্টেডিয়ামের গ্যালারি ভর্তি দর্শক থাকবে না। তবে এমন চমৎকার মাঠে কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হওয়া এবং নিজেদের মেধার পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগটি মেয়েরা বেশ উপভোগ করবে বলেই আমার বিশ্বাস।’
ফলাফলের চেয়েও বড় মঞ্চের চাপ সামলানোর দিকেই বেশি নজর এই ইংলিশ কোচের। তিনি যোগ করেন, ‘পরিস্থিতি কতটা কঠিন হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র বিভ্রান্তি নেই। তবে এই কঠিন চ্যালেঞ্জের মাঝেও আমরা খেলাটি উপভোগ করতে চাই। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো এই বড় মঞ্চের সুযোগগুলো থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করা, শেখা এবং নিজেদের ফুটবলের উন্নয়ন ঘটানো।’
(ওএস/এএস/সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬)
