প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন
সাতক্ষীরার আবাদেরহাটে অসহায় বৃদ্ধা রউফুন্নেছার জদি দখল, ভাঙচুর ও লুটপাট
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ১৯:০৮:৩৩
রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : রউফুন্নেছা নামে এক অসহায় বৃদ্ধার ১৭ শতক জমি জবর দখল, ভাঙচুর ও লুটপাটের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিবপুর ও আগরদাঁড়ি ইউনিয়নের সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় সাতক্ষীরা সদরের আবাদেরহাট বাজারে এ কর্মসুচি পালন করা হয়।
মানববন্ধন কর্মসুচি চলাকালে বক্তব্য দেন, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাঃ শাহাদাৎ হোসেন, মাঃ মিজানুর রহমান, মাঃ মনিরুজ্জামান, মাঃ তারিকুল ইসলাম, হাফেজ আব্দুল ওয়াদুদ খান, ক্ষতিগ্রস্ত আমেনা খাতুন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, শিবপুর ইউনিয়নের আগরদাঁড়ি গ্রামের ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী রউফুন্নেছা(৮০) তার স্বামীর কাছ থেকে কোবালা দলিলমূলে বিআরএস ৩৫,৩৬ ও ৩০৫ দাগে ৫৮ শতক জমির মালিক হন। বর্তমানে ৩৫ দাগের ১৭ শতক জমিতে তার মেয়ে বাঁশদহা গ্রামের আমেনা ও জামাতা আব্দুল হামিদ ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বানিয়ে নিজেরা ও ভাড়া দিয়ে শান্তিপূর্ণ ভোগ দখলে ছিলেন। ২০১৩ সালের শেষের দিকে শিয়ালডাঙা গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা শওকত হোসেন. তার ভাই মাহাববুবর রহমান পটল, তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা, মুজিবর রহমান. শাজাহান আলী, কওছার আলী দলীয় ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে রউফুন্নেছাকে বাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে চুল দিয়ে গাছের ডালে বেঁধে নির্যাতন করে দোকান ও বাড়ি ভাংচুর করে জমি দখলে নেন। এ ঘটনায় তখন তিনি মামলা করতে সাহস পাননি।
ব
ক্তারা আরো বলেন. ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর রউফুন্নেছা তার তিনটি দোকানঘরসহ জমি দখলে নেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে কয়েকবার শালিসি সভা বসে। মাহাবুবর রহমান ও তার ভাইয়েরা কাগজপত্র দেখানোর জন্য সময় নিয়ে ক্লক্ষেপন করেন। সর্বশেষ রউফুন্নেছা স্থানীয়দের সহায়তায় ওই জমি মাপ জরিপ করে মাহাবুবর রহমান ও তার শরীকদের চলাচলের জন্য রাস্তা ছেড়ে দিয়ে জমিতে সিমেন্টের পিলার দিয়ে বেড়া দেন। গত ২ সেপ্টেম্বর ওই ঘেরা ও বেড়া ভেঙে দেয় মাহাবুবর রহমান ও তার লোকজন। পরবর্তীতে শনিবার তারা আবারো ঘেরা- বেড়া দিয়ে টিনের চাল নির্মাণ করে বসবাস করা শুরু করলে পরদিন ভোর তিনটার দিকে মাহাবুবর ও তাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা ওই ঘর ও বেড়া ভেঙে দেন। ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় তাদের দোকান।
লুটপাট করা হয় দোকানের মালামাল। ভাংচুর ও লুটপাটে বাধা দেওয়ায় তাকে (আমেনা) ও স্বামী আব্দুল হামিদকে পিটিয়ে জখম করে। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় রউফুন্নেছার মেয়ে আমেনা খাতুন বাদি হয়ে ৮ সেপ্টেম্বর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। শওকত ও মাহাবুবর রহমানসহ কয়েকজন আসামী হয়েও আত্মগোপনে থেকে বাদিকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়ায় থানায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে। এরপরও ওই অসহায় বৃদ্ধার জমি শওকত ও তার ভাইয়েরা যে কোন মূল্যে জবরদখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের এ অপচেষ্টা সফল হবে না উল্লেখ করে বক্তারা আরো বলেন, এক অসহায় নারীর ন্যয্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের যে কোন ধরণের অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে।
মানববন্ধনের আগে একটি বিক্ষোভ মিছিল আবাদেরহাট বাজার চৌরাস্তার মোড় থেকে বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রফেসর আশরাফুজ্জামান।
(আরকে/এসপি/সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬)
