প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
কালিগঞ্জে ভোগদখলীয় জমি জবরদখলের অভিযোগ
প্রশাসনের কাছে যেয়েও প্রতিকার পাচ্ছেন না আব্দুল জলিল!
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ১৭:৫৩:৪৫রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বন্দকাটি গ্রামের রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী জেলেমন্নেছার নামে রেকডীয় ও দীর্ঘ ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভোগদখলীয় ১২ শতক জমি জবরদখল করে গাছ গাছালি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও থানায় অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না ওই নারীর সন্তানরা।
কালিগঞ্জ উপজেলার বন্দকাটি গ্রামের আফতাবউদ্দিন মোড়লের ছেলে জালালউদ্দিন জানান, তারা পাঁচ ভাই। তাদের মা জেলেমন্নেছা বন্দকাটি মৌজায় ১২ শতক জমি কিনে তা ৭৭৫ নং এসএ রেকর্ড হয়। সাবেক ৫৭৫ দাগে ৮৪ শতক ও সাবেক ৪৭৪ দাগে ১৮ শতক জমি মিলে বিআরএস ১২১১ দাগে ১.০২ শতক জমি রেকর্ড হয়। ওই দাগে ১২ শতক জমি তার মায়ের নামে রেকর্ড হয়। সেখান থেকে তারা ওই জমি শান্তিপূর্ণ ভোগ দখলে ছিলেন। সম্প্রতি তার মায়ের মৃত্যুর পর প্রতিবেশি নূর আলী গাজীর ছেলে রুহুল আমিন ১৯৫১ সালের একটি দলিল মূলে ওই জমি দাবি করে জবরদখলের চেষ্টা করে আসছিলো। বাধ্য হয়ে তিনি বাদি হয়ে এক বছর আছে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে পিটিশন ১৪৩৫/২৫ নং মামলা করেন রুহুল আমিনসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে। জয়পত্রকাটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার জিএম ফয়েজ আহম্মেদ গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ওই জমি তাদের (জালাল) দখলে থাকলেও রুহুল আমিন দখলের চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন। জমি জবরদখলের চেষ্টার বিষয়টি তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করেন। নোটিশ পেয়ের রুহুল আমিন পরিষদে হাজির হননি। পরবর্তীতে গত পহেলা জুলাই রুহুল আমিন তার ভাাড়টিয়া লোকজন দিনে তাদের (জালাল) জমি ঘেরা ও বেড়া দিয়ে জবরদখলের চেষ্টা করে। জমি দখল দেখাতে ৭ জুলাই অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে তাকে(জালাল)সহ চার ভাইকে বিবাদী করে পিটিশন মামলা দাখিল করে রুহুল আমিন। আদালতের নির্দেশ উপেক্ করে পুলিশ ও সহকারি কমিশনারের পক্ষ থেকে পৃথক পৃথক নোটিশে উভয়পক্ষকে বিরোধপূর্ণ জমিতে কোনপ্রকার কাজকর্ম না করা ও শান্তি বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে গত ১৯ আগষ্ট বিরোধপূর্ণ জমি থেকে নারিকেল পাড়াসহ বিভিন্ন গাছগাছালি কেটে ফেলেন। রাতেই থানায় অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাননি তিনি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রুহুল আমিন বলেন, ১৯৫১ সালে মফেজউদ্দিনের কাছ থেকে তার দাদা আজিমউদ্দিন গাজী ১২ শতক জমি কেনেন। এসএ থেকে বিআরএস রেকর্ড তাদের নামে। খাজনা পরিশোধ অগবর্তী করা হয়েছে। ১২১১ দাগে ১.০২ একরের মধ্যে জালাল মোড়লদের নামে ৯০ শতক জমি ও তাদের (রুহুল) নামে ১২ শতক রেকর্ড হয়েছে। জালাল মোড়লের চাচাত ভাই বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও তার ছেলে বর্তমান চেয়ারম্যান। তাদের প্রভাবে দীর্ঘদিনের জবরদখল করে রাখা সম্পত্তি নিয়ে স্থানীয়ভাবে শালিসি হলেও সামছুর ও তার ভাই জালাল সিদ্ধান্ত না মানায় বাধ্য হয়ে তারা সম্প্রতি জমি দখলে নিয়েছেন।
(আরকে/এসপি/সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬)
