ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের বাইরে » বিস্তারিত

যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিল ভারত

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ১৫:০৫:২৫
যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিল ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ওপর নতুন করে শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি বিল মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লি ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেছে, এই ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ইউক্রেন আগ্রাসনের জন্য রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) একটি কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক বিল পাস করেছে।

এই বিলে রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাত, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত মস্কোর তথাকথিত ছায়া ট্যাঙ্কার বহরকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

এছাড়া, রুশ তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ভারী শুল্ক আরোপ এবং ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়া হয়েছে এই বিলে।

বিলটি স্বাক্ষরে জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের টেবিলে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক কড়া বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা ‘দৃঢ় প্রতিজ্ঞ’।

মন্ত্রণালয় আরো জানায়, গত কয়েক মাসে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের কাছে বিষয়টি নিয়ে জোরালো আপত্তি জানানো হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ওপর এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে অবহিত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, “ভারত সরকার দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বদ্ধ পরিকর।” আইনটির সম্ভাব্য পরিণতি মোকাবিলায় দেশের বাণিজ্য ও শিল্প সংস্থাগুলোর সঙ্গে সরকার ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলেও জানানো হয়।

উল্লেখ্য, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ ভারত রুশ তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভারত নিয়মিত রাশিয়া থেকে তুলনামূলক কম দামে তেল কিনে আসছে। নয়াদিল্লির যুক্তি হলো- তাদের বিশাল জনসংখ্যা ও অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা খুবই জরুরি।

তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা
(ওএস/এএস/সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬)