ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » পাঠকের লেখা » বিস্তারিত

মশার কাছে রাষ্ট্রের পরাজয়

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ১৭:২৫:৫১
মশার কাছে রাষ্ট্রের পরাজয়

মীর আব্দুল আলীম


ডেঙ্গু এখন আর শুধু একটি মৌসুমি রোগের নাম নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য প্রতিবছরের এক ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সংকট। প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, প্রতিদিন কোনো না কোনো পরিবারের ঘরে নেমে আসছে শোক। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ডেঙ্গুর প্রকোপ যখন দ্রুত বাড়ছে, তখন এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে আমাদের তৎপরতা সেই তুলনায় কতটা কার্যকর, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ ১৫ সেপ্টেম্বরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুতে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে ১ হাজার ৫৯৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৪ জনে এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৫৫ হাজার ১৬৩ জনে। একই সময়ে ১ হাজার ৫৬৬ জন রোগী হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

পরিসংখ্যানের দিকে একটু গভীরভাবে তাকালেই পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতি বছরের মোট ৫৫ হাজার ১৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৫০ হাজার ৯৪১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। অর্থাৎ বিপুলসংখ্যক মানুষকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে এবং এখনও হাজার হাজার রোগী চিকিৎসাধীন থাকার পাশাপাশি নতুন রোগী প্রতিদিন হাসপাতালে আসছেন। সবচেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে সংক্রমণের গতি। ১৫ সেপ্টেম্বরের আগের ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৫৯৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা চলতি বছরের এক দিনে সর্বোচ্চ ভর্তি। এর মাত্র একদিন আগে ১৪ সেপ্টেম্বরের ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৭৩৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, যা তখন পর্যন্ত বছরের সর্বোচ্চ ছিল। একই দিনে আটজনের মৃত্যুর তথ্যও প্রকাশিত হয়েছিল।

সেপ্টেম্বর মাসের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। সরকারি হিসাবে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতি মাসেই ডেঙ্গুতে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা এ বছরের কোনো এক মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা। অর্থাৎ বছরের প্রথম দিকের তুলনায় সেপ্টেম্বরেই মৃত্যুর গতি ভয়াবহভাবে বেড়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু ছিল ১৩৯ জন এবং আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৪৮ হাজার ৪৩০ জন। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৪ মৃত্যু এবং ৫৫ হাজার ১৬৩ হাসপাতালে ভর্তি। এই দ্রুত ঊর্ধ্বগতি আমাদের সামনে একটি পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছে, পরিস্থিতিকে সাধারণ মৌসুমি রোগ হিসেবে দেখার আর কোনো সুযোগ নেই।

শুধু ঢাকা নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেই ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৬৯৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৭১ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৩২ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরের ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ভর্তি হয়েছেন আরও ৩৮৩ জন। খুলনায় ২৯০ জন, চট্টগ্রামে ১৬৫ জন, বরিশালে ১৫৯ জন, রাজশাহীতে ১৩৭ জন, ময়মনসিংহে ৮২ জন, রংপুরে ৬৫ জন এবং সিলেটে নয়জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অর্থাৎ ডেঙ্গু এখন রাজধানীকেন্দ্রিক কোনো সমস্যা নয়, এটি সারাদেশের সমস্যা।

গত বছরের পরিসংখ্যানের সঙ্গে তুলনা করলেও বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ২০২৫ সালে বাংলাদেশে মোট ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং মারা গিয়েছিলেন ৪১৩ জন। ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বরেই মৃত্যু ১৬৪ এবং হাসপাতালে ভর্তি ৫৫ হাজার ১৬৩। বছর শেষ হতে এখনও সাড়ে তিন মাসের বেশি সময় বাকি। ফলে এখনই কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে বছরের শেষ দিকে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ডেঙ্গুর মূল বাহক এডিস মশার বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধটা কোথায়? হাসপাতালে রোগী ভর্তি হলে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু রোগী যেন হাসপাতালে আসতেই না হয়, সেই ব্যবস্থা কতটা জোরদার করা হয়েছে? মশা মারার অভিযান কি সত্যিই শহরের প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পৌঁছাচ্ছে? প্রতিটি ওয়ার্ডে কি নিয়মিত লার্ভা জরিপ হচ্ছে? নির্মাণাধীন ভবন, ছাদ, পরিত্যক্ত বাড়ি, ড্রেন, নালা, খোলা পাত্র, জমে থাকা পানি এবং ময়লার স্তূপে কি নিয়মিত নজরদারি হচ্ছে? এসব প্রশ্নের জবাব এখন জনগণের জানা দরকার।

মশক নিধন মানেই শুধু ধোঁয়া ছড়ানো নয়। অনেক সময় রাস্তার পাশে মেশিন চালিয়ে ধোঁয়া দেওয়া হয়, কিছু এলাকায় ওষুধ ছিটানো হয়, অভিযান চালানোর ছবি প্রকাশ হয়, তারপর কয়েক দিন পর সব আগের মতো হয়ে যায়। কিন্তু এডিস মশা নির্মূল করতে হলে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। যে পাত্রে পানি জমে আছে সেটি সরাতে হবে, যেখানে লার্ভা আছে সেখানে ব্যবস্থা নিতে হবে, নির্মাণাধীন ভবনের মালিককে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে, সরকারি স্থাপনা ও খোলা জায়গায় জমে থাকা পানি অপসারণ করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, কোথায় মশা জন্মাচ্ছে সেই তথ্য আগে জানতে হবে। তথ্য ছাড়া মশক নিধন কার্যক্রম অনেকটাই অনুমাননির্ভর হয়ে পড়ে।

ঢাকার মতো জনবহুল মহানগরে এই দায়িত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ। এখানে একটি বাড়ির ছাদে জমে থাকা পানি যেমন এডিস মশার জন্ম দিতে পারে, তেমনি একটি নির্মাণাধীন ভবন, একটি পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের পাত্র কিংবা একটি বন্ধ ড্রেনও হাজার হাজার মশার প্রজননস্থল হতে পারে। ফলে শুধু আবাসিক এলাকার নাগরিকদের সচেতন করে দায়িত্ব শেষ করলে হবে না। সরকারি ও বেসরকারি নির্মাণ প্রকল্প, হাসপাতাল, স্কুল, কারখানা, মার্কেট, অফিস ভবন, খালি প্লট এবং সিটি করপোরেশনের নিজস্ব স্থাপনাগুলোতেও নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নয়। রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসা দেওয়া স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব। কিন্তু মশা নিয়ন্ত্রণের মূল দায়িত্ব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং স্থানীয় প্রশাসনকে তাই স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে প্রতিদিন সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। কোন এলাকায় রোগী বাড়ছে, কোন এলাকায় লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে, কোন এলাকায় নতুন রোগীর ঘনত্ব বেশি, সেই তথ্য এক জায়গায় এনে দ্রুত অভিযান চালাতে হবে। রোগী বাড়ার পর অভিযান শুরু করলে হবে না, রোগী বাড়ার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

সরকারি পরিসংখ্যানই যখন বলছে এক দিনে ১ হাজার ৫৯৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, তখন প্রশ্ন উঠবেই, মশক নিধনের মাঠপর্যায়ের অভিযান কোথায়? ২৪ ঘণ্টায় সাতজনের মৃত্যু কি যথেষ্ট সতর্ক সংকেত নয়? সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৫ দিনেই যখন ৬৭ জন মানুষ মারা গেছেন, তখন পরিস্থিতিকে জরুরি ভিত্তিতে মোকাবিলা করা হবে না কেন? একটি পরিবারের জন্য একজন মানুষের মৃত্যু একটি অপূরণীয় ক্ষতি। সরকারি পরিসংখ্যানে ১৬৪ লেখা থাকলেও বাস্তবে এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ১৬৪টি পরিবারের শোক, অসংখ্য স্বজনের কান্না এবং বহু পরিবারের অর্থনৈতিক সংকট।

আমাদের মনে রাখতে হবে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু হাসপাতাল বাড়ানো যথেষ্ট নয়। হাসপাতালের বেড বাড়ানো প্রয়োজন, চিকিৎসক ও নার্স প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন, পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো রোগীর সংখ্যা কমানো। কারণ প্রতিদিন যদি নতুন রোগী হাসপাতালে ঢুকতেই থাকেন, তাহলে চিকিৎসাব্যবস্থা যতই শক্তিশালী করা হোক, একসময় তার ওপর চাপ তৈরি হবেই। ডেঙ্গু মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর পথ তাই রোগী হওয়ার আগেই মানুষকে সুরক্ষিত করা।

এ জন্য এখনই সারা দেশে বিশেষ মশক নিধন অভিযান শুরু করা দরকার। শুধু রাজধানীতে নয়, প্রতিটি সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে অভিযান চালাতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত এডিস মশার লার্ভা জরিপ করা যেতে পারে। কোথায় কতটি প্রজননস্থল ধ্বংস করা হলো, কোথায় কতবার অভিযান হয়েছে, কোন এলাকায় রোগী কমল বা বাড়ল, এসব তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা দরকার। শুধু কত লিটার ওষুধ ছিটানো হয়েছে সেটি সাফল্যের মাপকাঠি হতে পারে না। আসল সাফল্য হলো এডিস মশার ঘনত্ব কমানো এবং ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমিয়ে আনা।

সাধারণ মানুষকেও এই যুদ্ধে যুক্ত করতে হবে। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা যে কোনো স্থানে পানি জমে থাকলে তা পরিষ্কার করতে হবে। কিন্তু নাগরিকের দায়িত্বের কথা বলে কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। নাগরিক নিজের বাড়ি পরিষ্কার রাখবেন, আর রাষ্ট্র ও স্থানীয় সরকারকে পরিষ্কার রাখতে হবে রাস্তা, ড্রেন, নালা, খাল, সরকারি জমি ও জনসাধারণের ব্যবহার্য স্থান। দুটি কাজ একসঙ্গে না হলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

এখন প্রয়োজন প্রচার নয়, প্রয়োজন মাঠে দৃশ্যমান ফল। প্রয়োজন লোক দেখানো অভিযান নয়, প্রয়োজন মশার উৎসে আঘাত। প্রয়োজন শুধু ওষুধ ছিটানো নয়, প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক নজরদারি। প্রয়োজন শুধু রোগী গুনে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া নয়, প্রয়োজন কেন রোগী বাড়ছে তার কারণ খুঁজে ব্যবস্থা নেওয়া। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব যখন একদিকে ১৬৪ মৃত্যুর কথা বলছে, অন্যদিকে ৫৫ হাজার ১৬৩ হাসপাতালে ভর্তির কথা বলছে, তখন এই সংখ্যাগুলোকে কেবল পরিসংখ্যান হিসেবে দেখলে চলবে না। এগুলো আমাদের প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা এবং মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডেঙ্গুতে মৃত্যু মেনে নেওয়ার মতো কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। এ রোগের বাহক কোথায় জন্মায় আমরা জানি, কীভাবে বিস্তার লাভ করে তাও জানি, প্রজননস্থল ধ্বংস করার উপায়ও আমাদের জানা। তাহলে প্রতিরোধে এত ঘাটতি থাকবে কেন? প্রতিদিন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হবেন, প্রতিদিন মৃত্যুর সংবাদ আসবে, আর আমরা শুধু সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দায়িত্ব শেষ করব, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

সরকারকে এখনই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধনে নামতে হবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির মধ্যে আনতে হবে। স্বাস্থ্য বিভাগকে তথ্য দিতে হবে, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাকে সেই তথ্য অনুযায়ী অভিযান চালাতে হবে। কোথাও মশার প্রজননস্থল পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো এলাকা ডেঙ্গুর হটস্পট হয়ে ওঠার অপেক্ষা করা যাবে না। কারণ প্রতিটি দিন গুরুত্বপূর্ণ, প্রতিটি ঘণ্টা গুরুত্বপূর্ণ।

শেষ কথা একটাই, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যর্থতার মূল্য মানুষকে জীবন দিয়ে দিতে হবে কেন? একটি মশা হয়তো খুব ছোট, কিন্তু তার কারণে একটি পরিবারের পৃথিবী অন্ধকার হয়ে যেতে পারে। ১৬৪ জনের মৃত্যু আমাদের জন্য যথেষ্ট সতর্কবার্তা হওয়া উচিত। ৫৫ হাজারের বেশি হাসপাতালে ভর্তি আমাদের চোখ খুলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট হওয়া উচিত। সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ ঊর্ধ্বগতি আমাদের ঘুম ভাঙানোর জন্য যথেষ্ট হওয়া উচিত। এখন আর সময়ক্ষেপণের সুযোগ নেই। মশা মারতে হবে, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে, ডেঙ্গুর সংক্রমণ থামাতে হবে। মানুষকে বাঁচাতে হলে প্রতিরোধের যুদ্ধটিই জিততে হবে। কারণ একটি মৃত্যুও শুধু একটি সংখ্যা নয়, একটি পরিবারের আজীবনের কান্না।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট।