ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » রাজনীতি » বিস্তারিত

১১ দলের রংপুর লংমার্চে যুক্ত হলো তিস্তা মহাপরিকল্পনার দাবি

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৮ ১৪:৩০:০৯
১১ দলের রংপুর লংমার্চে যুক্ত হলো তিস্তা মহাপরিকল্পনার দাবি

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চে সাতটি সমাবেশ ও পাঁচটি পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে কর্মসূচির সপ্তম দাবি হিসেবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরে এসব তথ্য জানান জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, “উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা অনতিবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।”

মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে অনুষ্ঠেয় লংমার্চের বিভিন্ন পর্যায়ে সাতটি সমাবেশ ও পাঁচটি পথসভা করা হবে। কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে পালন করা হবে। লংমার্চে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা। একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের উস্কানিমূলক কোনো কর্মকাণ্ডে না জড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি বলেন, “সড়কের দু’ধার দিয়ে কোটি মানুষ দাঁড়িয়ে লংমার্চ কর্মসূচিকে সমর্থন জানাবেন। ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এই লংমার্চকে কেন্দ্র করে কোনো উস্কানিতে নেতাকর্মীদের পা না দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “শনিবার লংমার্চের বহর রংপুর অভিমুখে রওনা হওয়ার আগে সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৮টার দিকে লংমার্চের বহর রওনা হবে। পথে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস, টাঙ্গাইলের নগর জালপাই, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, বগুড়ার মাটিডালিস্থ বিমান মোড় ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা হবে। সমাপনী সমাবেশে হবে রংপুরের জিলা স্কুল মাঠে। বৃহস্পতিবার রাতে আমরা দায়িত্বশীলদের সঙ্গে বৈঠক করেছি।”

জামায়াতের এই নেতা বলেন, “আমরা গণতন্ত্র ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষে ৬ দাবি নিয়ে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করেছি। বর্তমানে আরেকটি দফা যুক্ত হয়ে সাতটি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেছেন। বৈঠকে উত্তরবঙ্গ অভিমুখী লংমার্চে ও অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের প্রাণের দাবির কারণে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নেতারা।”

তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব অথবা কোনো ভীতিতে রয়েছে তা দূর করে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সবধরনের পদক্ষেপ যাতে গ্রহণ করেন সেজন্য আমরা দাবি জানাচ্ছি। লংমার্চের বহরে হাজারের অধিক গাড়ি যুক্ত হবে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। গাড়িগুলোর জন্য নির্দেশনা প্রদান ও দায়িত্বশীল ঠিক করা হয়েছে।”

লংমার্চের কারণে সাধারণ মানুষের কিছুটা কষ্ট হবে উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। কর্মসূচি সফল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “লংমার্চ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”

এসময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মোবারক হোসাইন ও ড. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জনাব মুহাম্মদ জাহিদুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ও জনাব ইয়াসিন আরাফাত, ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি মু. আতাউর রহমান সরকার।

(ওএস/এএস/সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬)