প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
উচ্চ হর্নে অতিষ্ঠ আদমদীঘির মানুষ, নীরব এলাকা যেন কাগজেই
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৮ ১৮:২৭:০৫
বিকাশ স্বর্ণকার, বগুড়া : বগুড়ার আদমদীঘিতে যানবাহনের উচ্চ হর্ন, মাইকিং, কারখানা ও ইট ভাঙার মেশিনের বিকট শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। বিশেষ করে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের পাশে উপজেলা পরিষদ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে দিন-রাত উচ্চ শব্দে হর্ন বাজিয়ে বাস-ট্রাক চলাচল করায় ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।
বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা ইলিয়াস আলী বলেন, বাসস্ট্যান্ডে চালকেরা যেভাবে উচ্চ শব্দে হর্ন বাজান, তাতে কান ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, রাতে উচ্চ শব্দে হর্ন বাজিয়ে যানবাহন চলাচল করায় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে।
বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের পাশে বিদ্যাবীথি মডেল স্কুলের শিক্ষক সাধন চন্দ্র পাল বলেন, বিদ্যালয়টি সড়ক সংলগ্ন হওয়ায় যানবাহনের শব্দ ও উচ্চমাত্রার হর্নে পাঠদান ব্যাহত হয়। শুধু আদমদীঘি সদর নয়, সান্তাহার পৌর শহরেও একই চিত্র। সড়কের দুই পাশে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র, আবাসিক ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এসব এলাকায় বাস-ট্রাকের উচ্চ হর্নের পাশাপাশি সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাইকিং এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে গান-বাজনার অভিযোগ রয়েছে। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা অনুযায়ী হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অফিস-আদালতসহ নির্ধারিত নীরব এলাকার ১০০ মিটারের মধ্যে হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ। আবাসিক এলাকার ৫০০ মিটারের মধ্যে ইট ভাঙার মেশিন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে। অনুষ্ঠানে শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহারে পূর্বানুমতির বিধান এবং রাত ১০টার পর তা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ,এসব বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় শব্দদূষণ বাড়ছে। আদমদিঘী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাসুমা বেগম বলেন, এসংক্রান্ত কেউ অভিযোগ করেনি। মহা সড়কের বিষয়টি ট্রাফিক আইনে ওনারা ব্যবস্থা নেয়ার কথা। তবে কেউ অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে জানান তিনি।
বিশেষ করে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে উচ্চ হর্ন বন্ধে অভিযান এবং আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
(বিএস/এসপি/সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬)
