ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

ফরিদপুরে পুলিশের জব্দকৃত বাসে আগুন

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৯ ১৯:০১:৩৭
ফরিদপুরে পুলিশের জব্দকৃত বাসে আগুন

রিয়াজুল রিয়াজ, বিশেষ প্রতিনিধি : ফরিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনা কবলিত ও হাইওয়ো থানা পুলিশের জব্দকৃত একটি বাসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (১৮) রাত সাড়ে দশটার দিকে ফরিদপুর সদরের কানাইপুর ইউনিয়নে করিমপুর হাইওয়ে থানার নির্মাণাধীন স্থায়ী কার্যালয় এর সামনে এ ঘটনা ঘটে।

পূর্বাশা পরিবহন নামের পুলিশের জব্দকৃত এ বাসটি পাহারা দায়িত্বে ছিলেন স্থানীয় যুবক মোহাম্মদ ইমন শেখ। তবে বাসটিতে আগুন লাগার সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন না বলে পুলিশকে জানিয়েছেন ইমন।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, বাসটির মালিক পক্ষের ডেইলি বেতনভুক্ত ২৪/৭ পাহারাদার ইমন এসময় স্থানীয় এক সম্ভাব্য মেম্বার প্রার্থীর বাসায় খিচুড়ির দাওয়াত খেতে গিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘটনাস্থলের কাছাকাছি অবস্থানে অবস্থিত মোহাম্মদ ফিরোজ মৃধা নামক ওই সম্ভাব্য প্রার্থীর বাড়ীতে খিচুড়ির আয়োজন ছিলো। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজেকে ওয়ার্ড মেম্বার পদপ্রার্থী ঘোষণা দিতে এ আয়োজন করেছিলেন তিনি। ফিরোজ মৃধার বড় দুই ভাইয়ের এক ভাই জামায়াত ও অন্য ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। যারফলে, ওই বাড়ীতে স্থানীয় কানাইপুর ও কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপি, জামায়াত ও এদের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের ঘনিষ্ঠ নেতৃবৃন্দ এবং ফিরোজ মৃর্ধার কর্মী সমর্থক ও ভোটারগণ এ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন। আয়োজকদের দাবি, শুক্রবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠান রাত দশটা-সোয়া দশটার মধ্যেই মোটামুটি শেষ হয়ে যায়।

করিমপুর হাইওয়ে থানার দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুস সালাম প্রায় মধ্য রাতে বাসে আগুনের খবরটি উত্তরাধিকার ৭১ নিউজকে নিশ্চিত করেন।

এসআই সালাম জানান, গত ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফরিদপুরের মধুখালীতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও অন্তত ১৫ জন আহত হন। ওই সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাকা থেকে চুয়াডাঙ্গাগামী পূর্বাশা পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৪৫৮৫) বাসটি জব্দ করে নির্মাণাধীন করিমপুর হাইওয়ে থানার সামনের সড়কের পাশে রাখা ছিলো, বাসটি ২৪/৭ ঘন্টা দেখে রাখার জন্য পুর্বাশা পরিবহনের মালিক পক্ষ ইমন নামে এক কর্মচারি নিয়োগ করেছিলেন। তবে ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না।

এ হাইওয়ে পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, শুক্রবার রাত ১০টা ২৭ মিনিটের দিকে বাসটিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও আমার উর্ধতন কর্মকর্তাদের খবর দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে আমি ঘটনাস্থলে চলে যাই। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে করিমপুর হাইওয়ে থানার দায়িত্বে থাকা এসআই আব্দুস সালাম আরও বলেন, বাসটিতে কীভাবে আগুণ লেগেছে অথবা কে বা কারা আগুন দিয়েছেন এ বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাস্থল থেকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে দশটার দিকে হঠাৎ করেই বাসটিতে আগুন জ্বলতে দেখেন তারা। এরপর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এর আগে, জ্বলন্ত এ বাসের দু'টি ভিডিও হোয়াটসঅ্যাপ করে উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ'কে সর্ব প্রথম বাসটিতে আগুন লাগার বিষয়ে খবর দেন কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী মো. মিজানুর রহমান। ছাত্রদল নেতা মিজানুর জানান, আগুন লাগার সময় এ বাসটির বেতনভুক্ত পাহাদার,করিমপুর গ্রামের দাউদ শেখের ছেলে পাশের এক সম্ভাব্য ওয়ার্ড মেম্বার প্রার্থীর বাড়িতে দাওয়াত ছিলেন। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ ছাত্রদল নেতা বলেন, বাসটিতে এমনিতেই আগুন লাগার কোনো সুযোগ নেই আসলে। কারণ হিসেবে তিনি জানান, বাসে কোনো ফুয়েল ছিলো না। আর বাসটির ব্যাটারিও আগেই খুলে রাখা হয়েছিলো। সুতরাং শর্ট সার্কিট বা ফুয়েন জনিত কারণে আগুণ লাগেনি। এ প্রত্যক্ষদর্শীর ধারণা, হয়তো কোনো দুর্বৃত্ত বা দুর্বৃত্ত চক্র বাসের ভিতরে ঢুকে গান পাওডার বা প্রেট্রোল সারা বাসে ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এছাড়া, একই সাথে ও একই তীব্রতার বাসের ভিতরের সব জায়গায় আগুন জ্বলবে কেন বলেও প্রশ্ন রাখেন তিনি। এছাড়া, এ পরিবহন কোম্পানির মালিকানার অংশীদার তার এক সহকর্মী বা আত্নীয়ের ভাই দাবি করে নিন্দা জ্ঞাপন করেন মিজান। এছাড়া, বাসটির মালিকের অপুরণীয় এমন ক্ষতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে, উপযুক্ত শান্তির নিশ্চিত করবে প্রশাসন, এমনটি আশা প্রকাশ করেন স্থানীয় কৃষ নগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান।

এছাড়া, এ ঘটনায় রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মী সমর্থকেরা একে অপরের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করলেও, এ ঘটনার প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন স্থানীয় সাধারণ জনতা।

তাছাড়া, করিম হাইওয়ে থানাটি ভাড়া বাসার অস্থায়ী কার্যালয় থেকে দ্রুতই যেনো তাদের নিজস্ব ও স্থায়ী কার্যালয়ে স্থানান্তরিত হতে পারে, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতিনিধি ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। কাজ প্রায় সম্পূর্ণ শেষ হলেও সামান্য কিছু কাজ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অভাবে করিমপুর হাইওয়ে থানা তাদের নিজের কার্যালয়ে যেতে পারছেন না বলে ধারণা স্থানীয়দের।

(আরআর/এসপি/সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬)