ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

শিশু রুহি হত্যায় মা-প্রেমিকসহ গ্রেফতার ৩, উদ্ধার শিশুর দেহাবশেষ 

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ১৭:৩৮:০৮
শিশু রুহি হত্যায় মা-প্রেমিকসহ গ্রেফতার ৩, উদ্ধার শিশুর দেহাবশেষ 

শাহ্‌ আলম শাহী, দিনাজপুর :দিনাজপুরে চাঞ্চল্যকর চার বছরের শিশু রাকিবা আক্তার রুহিকে অপহরণের পর হত্যা ঘটনায় মা জিন্নাতুন (১৯) অভিযুক্ত মায়ের কথিত পরকীয়া প্রেমিক রিপন টুডুর (৩৫) ও সুজন টুডু (৩২) কে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে রাত-ভোর অভিযান চালিয়ে আসামি রিপন টুডুর স্বীকারোক্তি ও দেখিয়ে দেওয়া স্থান থেকে আজ মঙ্গলবার ভোরে শিশু রুহির দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করেছে জেলা পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে দিনাজপুর সদর উপজেলার ১ নং চেহেলগাজী ইউনিয়নের নশিপুর জামতলী এলাকায়।

এর আগে শিশু রুহিকে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে মায়ের কথিত প্রেমিক রিপন টুডুকে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টা দিনাজপুর-দশমাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে বিক্ষুব্ধ স্থানীয় এলাকাবাসী । এ সময় অভিযুক্ত রিপন টুডুর বাড়িতে ভাঙচুর এবং তার মোটরসাইকেল ও আসবাবপত্র মহাসড়কে এনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।এতে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। পরে বিকেল ৫ টার দিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষুব্ধরা।

স্থানীয়রা জানান, নশিপুর গ্রামের জমসেদ আলীর মেয়ে জিন্নাতুনের (১৯) সঙ্গে একই এলাকার মৃত নেপাল টুডুর ছেলে রিপন টুডুর (৩৫) পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এর আগে জিন্নাতুনের অন্যত্র বিয়ে হয়েছিল। ওই সংসারে রাকিবা আক্তার রুহি নামে চার বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। ছয় মাস আগে জিন্নাতুন রিপনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং মেয়েকে নিয়ে তার বাড়িতে বসবাস করছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

ঘটনার তিন দিন আগে (১৮ সেপ্টেম্বর) জিন্নাতুন কোতোয়ালি থানায় রিপনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রিপন তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেন। গত ৫ জুন বিকেলে তার চার বছরের মেয়ে রুহিকে হত্যা করে অজ্ঞাত স্থানে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে জিন্নাতুন ও রিপন দুজনই নিখোঁজ ছিলেন। তাদের নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। রোববার দুপুরে স্থানীয়রা রিপনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। পরে তার মোটরসাইকেল ও আসবাবপত্র মহাসড়কে এনে আগুন দিয়ে সড়ক অবরোধ করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শিশু রাকিবা আক্তার রুহিকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও মামলা গ্রহণ না করা এবং অভিযুক্ত রিপনসহ কাউকে গ্রেফতার করা না হওয়ায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে স্থানীয় জনতা। ফলে রোববার অভিযুক্তের বাড়ি ও মোটর সাইকেল ভাংচুর করে মহাসড়ক অবরোধ করে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা।

খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে বিকেল ৫টার দিকে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষুব্ধরা।

এ ঘটনার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম তৎপরতায় প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। সোমবার রাতে গ্রেফতার করে অভিযুক্ত রিপন টুডুকে। তার স্বীকারোক্তি মতে দেখিয়ে দেওয়া স্থানে রাত-ভোর অভিযান চালিয়ে আজ মঙ্গলবার উদ্ধার করা হয় শিশু রুহির দেহাবশেষ।

পরে গ্রেফতারকৃত রিপন টুডুর স্বীকারোক্তি মতে মঙ্গলবার ( ২২ সেপ্টেম্বর) সকালে নিহত শিশু রুহির মা জিন্নাতুন (১৯) এবং সুজন টুডু (৩২) নামে আরেক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তি ও দেখিয়ে দেওয়া স্থানে সোমবার রাত থেকে অভিযান চালানো হয়। আজ মঙ্গলবার ভোরে সেখান থেকে মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় রুহির মহদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত শিশুর মায়ের সাথে অভিযুক্ত ৩৫ বছর বয়সী রিপন টুডুর কথিত পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা জোরদার করা হয় এবং সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রিপন টুডুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এনিয়ে এক প্রেস ব্রিফিং এর আয়োজন করে পুলিশ। এসময় গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন ( ক্রাইম) পুরো ঘটনার আনুষ্ঠানিক বিবরণ তুলে ধরেন।

তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ঘটনার পেছনের মূল কারণ উদঘাটনে অনুসন্ধান চলছে।

(এসএস/এসপি/সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬)