ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

সুমাইয়া হত্যার দুই আসামিকে রিমাণ্ড শেষে কারাগারে প্রেরণ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ১৭:৫৭:৩৭
সুমাইয়া হত্যার দুই আসামিকে রিমাণ্ড শেষে কারাগারে প্রেরণ

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কাজলা-কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ও কাশিবাটি গ্রামের এনামুল হকের মেয়ে ফারজানা সুলতানা হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সুমাইয়াকে মব সৃষ্টির মাধ্যমে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত নূর ইসলাম ও আরিফকে এক দিনের রিমাণ্ড শেষে সোমবার বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে গ্রেপ্তারকৃত আসামীরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় মর্মে গত সোমবার সাতক্ষীরার প্রেসক্লাবের একাংশের অস্থায়ী কার্যালয়ে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তাসহ একটি মহলের বিরুদ্ধে সংবাদ সস্মেলন করেন ফারজানা হত্যা মামলার বাদি নাজমা বেগম। একইভাবে সুমাইয়া হত্যা মামলার বাদি আমিরুল ইসলাম বুধবার একইস্থানে সংবাদ সম্মেলন করে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিরীহ মানুষদের হয়রানি করার অভিযোগ এনেছেন।

তবে সুমাইয়ার বাবা লতিফ শেখ অভিযোগ করেন যে, তার মেয়ে হত্যার ঘটনায় তিনি গত ২৬ জুলাই আদালতে যে আটজনের নাম উল্লেখ করে (সিআর-৬২১/২৬ কালিঃ) মামলা করেন। তাতে গফফর খানের ছেলে হুসাইনের নাম থাকলেও গত ১১ সেপ্টেম্বর নূর ইসলাম মীর ও আরিফের পাশাপাশি হুসাইনকে আটক করা হয়। কিন্তু মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা স্থানীয় এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা নিয়ে হুসাইনকে ছেড়ে দেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাশিবাটি গ্রামের মৃত আশরাফ মীরের ছেলে নূর ইসলাম ও একই গ্রামের জহুর আলীর ছেলে মোঃ আরিফ।

ঘটনা ও মামলার বিবরনে জানা যায়, কাশিবাটি গ্রামের একরামুল হকের মেয়ে কাজলা- কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ফারজানা সুলতানা গত ২০ জুলাই সকালে বিদ্যালয়ে এসে বাড়ি ফেরেনি। রাত সাতটার দিকে ফারজানার হাত ও পা বাঁধা লাশ একই গ্রামের আমিরুল ইসলামের ঘরের দেয়াল আলমারির ভিতর থেকে উদ্ধার করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে মব সৃষ্টির মাধ্যমে আমিরুলের স্ত্রী সুমাইয়াকে ইট দিয়ে থেঁতলে হত্যা করা হয়।
ফারজানা হত্যার ঘটনায় তার মা নাজমা খাতুন বাদি হয়ে লতিফ শেখের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুনের নাম উল্লেখ করে ২২ জুলাই থানায় মামলা করেন। ২৩ জুলাই ভোরে পুলিশ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে সে কারাগারে রয়েছে। করানো হয়েছে তার ডিএনএ টেষ্ট।

এদিকে সুমাইয়া হত্যার ঘটনায় স্থানীয় এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির প্রভাবে পুলিশ কারো নাম উল্লেখ করে মামলা নিতে না চাইলে নিহতের বাবা লতিফ শেখ বাদি হয়ে গত ২৬ জুলাই হামিদুল মোড়ল, হুসাইন খানসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা(সিআর-৬২১/২৬ কালিঃ) করেন। মামলার অগ্রবর্তী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামি ১৩ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন সাতক্ষীরা আমলী-২ আদালতের বিচারক নূসরত জাহান। মামলার পরপরই তিনি জানতে পারেন যে, চিহ্নিত হত্যাকারিদের বাঁচাতে ওই প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি(টাকলা মুরাদ) পুলিশের সাথে কথা বলে ২৫ জুলাই রাতে নিহত সুমাইয়ার স্বামী আমিরুলকে থানায় পাঠিয়ে কারো নাম উল্লেখ না করে যেন তেন প্রকারে একটি হত্যা মামলা করান। মামলার সন্ধিগ্ধ আসামী হিসেবে গত ১১ সেপ্টেম্বর উপপরিদর্শক মল্লিক মনিরুজ্জামান নূর ইসলাম মীর ও আরিফকে গ্রেপ্তার করে। ১৪ সেপ্টেম্বর তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাত দিন করে রিমা- আবেদন জানানো হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর তাদের একদিন করে রিমা- মঞ্জুর করা হয়। ২১ সেপ্টেম্বর তাদেরকে রিমা- শেষে আদালতে পাঠানো হয়। ওই দিন আদালতের কাঠগোড়ায় উঠে সুমাইয়ার স্বামী আমিরুল আদালতে এফিডেফিট দিয়ে নূর ইসলাম ও আরিফ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় এবং যেসব নামের তালিকা তিনি তদন্তকারি কর্মকর্তাকে দিয়েছেন তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না বলে দাবি করলেও আদালত তা আমলে নেননি। বুধবার আবারো নূর ইসলাম ও আরিফের জামিন আবেদন জানালে আদালত তা না’মঞ্জুর করেন। বুধবার দুপুরে আমিরুল ইসলাম সাতক্ষীরার একাংশের সাংবাদিকদের অস্থায়ী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

নাজমা খাতুন গত রবিবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের একাংশের নিয়ন্ত্রিত অস্থায়ী প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে সুমাইয়াকে হত্যা করেছে ক্ষুব্ধ জনগন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকার পরও তার পরিবারের সদস্যসহ নিরীহ লোকজনদের পুলিশ ও একটি বিশেষ মহল হয়রানি করছে।

সুমাইয়া হত্যা মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা মল্লিক মনিরুজ্জামান বুধবার দুপুরে এ প্রতিবেদককে হুসাইন খানকে অপর দুই অসামী নূর ইসলাম মীর ও আরিফের সঙ্গে গত ১১ সেপ্টেম্বর আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, পুলিশ স্পর্শকাতর মামলা দুটি নিয়ে যথেষ্ট সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে।

(আরকে/এসপি/সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬)