ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » খেলা » বিস্তারিত

‘একদিন বিশ্বকাপে খেলবে বাংলাদেশ’

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ১৪:৪৫:১৮
‘একদিন বিশ্বকাপে খেলবে বাংলাদেশ’



স্পোর্টস ডেস্ক : ফিফা আসিয়ান কাপের মঞ্চে বাংলাদেশের অভিযান শুরুর আগে জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া জানালেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা ও ভালোবাসাই তাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। কঠিন গ্রুপে থাকলেও নিজেদের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রেখে ৩ থেকে ৪ পয়েন্ট পাওয়ার লক্ষ্য লাল-সবুজের অধিনায়কের।

তবে জাতীয় দলের জার্সিতে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার এই পথটা জামালের জন্য একদমই সহজ ছিল না। প্রায় দুই দশক আগে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন তিনি।

‘বাংলাদেশে বিশ্বকাপের সময় কী হয়, সেটা কল্পনাও করা কঠিন। রাজধানীর প্রায় প্রতিটি ভবনে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা কিংবা ইংল্যান্ডের পতাকা দেখা যায়। বড় ম্যাচে ২০-৩০ হাজার মানুষ বড় পর্দায় খেলা দেখে। এখন কল্পনা করুন, বাংলাদেশ যদি সত্যিই বিশ্বকাপে খেলতে পারে, তাহলে উন্মাদনাটা কতটা হবে!’

তখন জামালের বয়স ছিল কম। স্কুলের কাছাকাছি এলাকায় ব্যাগ কাঁধে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎই ঘটে সেই ভয়াবহ ঘটনা। চারটি গুলি লাগে তার শরীরে। তিন দিন কোমায় থাকার পর আরও কয়েক মাস হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয় তাকে।

ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই স্মৃতি মনে করে জামাল বলেন, ‘আমি কোপেনহেগেনে জন্মেছি ও বেড়ে উঠেছি। একদিন স্কুলের কাছে ছিলাম। হঠাৎ একজন এসে আমাদের জায়গাটি ছেড়ে যেতে বলল। এরপরই গুলির শব্দ আসে। আমি চারবার গুলিবিদ্ধ হই।’

কোমা থেকে জেগে ওঠার পরও ঘটনার ভয়াবহতা বুঝতে পারেননি জামাল। তার মনে হয়েছিল, পরদিনই হয়তো দলের ম্যাচ রয়েছে। তাই নার্সকে বলেছিলেন কোচকে ফোন করে জানাতে যে তিনি ম্যাচে খেলতে পারবেন না। কিন্তু বাস্তবতা ছিল আরও ভয়ংকর।

‘বাংলাদেশের মতো দেশে খেলাটা আলাদা। প্রায় ১৮ কোটি মানুষ আছে, আর তাদের মধ্য থেকে মাত্র ২৩ জন জাতীয় দলে সুযোগ পায়। বিষয়টি আমি কখনোই হালকাভাবে নিই না। যখনই জাতীয় দলের সঙ্গে থাকি কিংবা মাঠে নামি, প্রতিটি মুহূর্তই আমার কাছে বিশেষ।’

জামাল বলেন, ‘আমি নার্সকে বলেছিলাম কোচকে ফোন করতে হবে, কারণ পরদিন আমার ম্যাচ আছে। তখন সে আমাকে জিজ্ঞেস করল, আমি মনে করি আজ কী বার। আমি বললাম শুক্রবার। সে বলল, না, আজ সোমবার।’

সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে পরবর্তীতে ফুটবলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন জামাল। ডেনমার্ক, বাংলাদেশ, ভারত ও আর্জেন্টিনার ক্লাবে খেলেছেন। বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলেও হয়ে উঠেছেন গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে শত ম্যাচের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া এই মিডফিল্ডার এখনো জাতীয় দলের হয়ে খেলে যেতে চান।

‘সবকিছুরই একদিন শেষ আছে। তবে এই মুহূর্তে আমার শরীর ভালো আছে। জাতীয় দল ও বাংলাদেশের প্রতি আমার আলাদা একটা টান রয়েছে। যতদিন শরীর সঙ্গ দেবে, আমি খেলে যেতে চাই,’ বলেন জামাল।

জাতীয় দলের জার্সির গুরুত্বও আলাদা করে তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। তার কাছে ২৩ সদস্যের দলে জায়গা পাওয়া শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বিশাল দায়িত্ব।

জামালের ভাষায়, ‘বাংলাদেশের মতো দেশে খেলাটা আলাদা। প্রায় ১৮ কোটি মানুষ আছে, আর তাদের মধ্য থেকে মাত্র ২৩ জন জাতীয় দলে সুযোগ পায়। বিষয়টি আমি কখনোই হালকাভাবে নিই না। যখনই জাতীয় দলের সঙ্গে থাকি কিংবা মাঠে নামি, প্রতিটি মুহূর্তই আমার কাছে বিশেষ।’

বিশ্বকাপও জামালের কাছে নতুন স্বপ্নের নাম। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিশ্বকাপের বেশ কয়েকটি ম্যাচ সরাসরি দেখেছেন তিনি। নিউইয়র্ক, মিয়ামি, ডালাস, হিউস্টন, লস অ্যাঞ্জেলেসসহ বিভিন্ন শহরে গিয়ে ম্যাচ উপভোগ করেছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক।

১৯৯৭ সাল থেকে ব্রাজিলের সমর্থক জামাল। তবে বিশ্বকাপের সবচেয়ে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে আর্জেন্টিনার একটি ম্যাচের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। গ্যালারির উন্মাদনা তাকে মুগ্ধ করেছে।

এবার সেই বিশ্বকাপের আবহ নিজেদের দেশেও দেখতে চান জামাল। তবে দর্শক হিসেবে নয়, বাংলাদেশের খেলোয়াড় হিসেবে।

আসন্ন আসিয়ান কাপকে তাই বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য যাচাই করতে চায় লাল-সবুজের দল।

জামাল বলেন, ‘আমরা জানি গ্রুপে র‍্যাঙ্কিংয়ের দিক থেকে আমরাই সবচেয়ে নিচে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সবাই আমাদের ওপরে। কিন্তু আমাদের নিজেদেরও প্রত্যাশা আছে, দেশের মানুষেরও প্রত্যাশা আছে। আমরা তিন-চার পয়েন্ট পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে খেলব।’

বাংলাদেশের ফুটবলকে বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখতে হলে আরও অনেক কাজ করতে হবে বলেও মনে করেন জামাল। উন্নত লিগ কাঠামো, বিদেশে আরও বেশি খেলোয়াড় তৈরি ও পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

তবে স্বপ্নটা বড়। জামালের কণ্ঠে সেই স্বপ্নের কথাই সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট, একদিন বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলবে, আর কোটি-কোটি মানুষ তখন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার বদলে লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে মাঠে হাজির হবে।

হামজা-শমিতদের আগমনে বাংলাদেশের ফুটবল ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। একদিন বিশ্বকাপে খেলবে লাল-সবুজের দেশ, এমনটাই আশা জামালের।

হামজা-শমিতদের আগমনে বাংলাদেশের ফুটবল ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। একদিন বিশ্বকাপে খেলবে লাল-সবুজের দেশ, এমনটাই আশা জামালের।

জামাল বলেন, ‘বাংলাদেশে বিশ্বকাপের সময় কী হয়, সেটা কল্পনাও করা কঠিন। রাজধানীর প্রায় প্রতিটি ভবনে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা কিংবা ইংল্যান্ডের পতাকা দেখা যায়। বড় ম্যাচে ২০-৩০ হাজার মানুষ বড় পর্দায় খেলা দেখে। এখন কল্পনা করুন, বাংলাদেশ যদি সত্যিই বিশ্বকাপে খেলতে পারে, তাহলে উন্মাদনাটা কতটা হবে!’

(ওএস/এএস/সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬)