প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
ফরিদপুরে এক প্রবাসী নারীকে প্রতিবেশি পরিবারের মারধরের অভিযোগ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ০০:৫৫:৩৮
রিয়াজুল রিয়াজ, বিশেষ প্রতিনিধি : ফরিদপুর সদরে রেহেলা বেগম (৩৩) নামে এক কাতার প্রবাসী নারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তারই প্রতিবেশী লিটন মোল্যা ও শফিক মোল্যার পরিবারের বিরুদ্ধে। এ সময় তাকে উপুর্যুপরি মারধরকে প্রায় অজ্ঞান অবস্থায় মাটিতে ফেলে রাখেন লিটন-শফিকের পরিবারের সদস্যরা। পরে স্থানীয়দের কয়েকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুর সদরের ৯নং কানাইপুর ইউনিয়নের বসু বনসিংহদিয়া এলাকার চেয়ারম্যান পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর রেনেনা ও তার স্বামী নজরুল খান দু'জনেই কাতার প্রবাসী। মাস খানেক আগে ভুক্তভোগী নারী রেহেনা বেগম দেশে এসেছেন। দেশে আসার কয়েকদিন পর থেকে একাধিকবার মানসিক ও শারিরীকভাবে একই প্রতিবেশী পরিবার কর্তৃক নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন আহত এ প্রবাসী নারী। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের ঘটনা ঘটেছে বলে জানান রেহেনা। এসময় এক প্রশ্নের জবাবে রেহেনা বেগম জানান, 'শফিক-লিটন পরিবার ও তারা (প্রবাসী দম্পতি নজরুল-রেহেনা) একই মালিক থেকে তিন শতাংশ করে জমি ক্রয় করেন। জমি কেনার পর থেকে ওই জমি দখলে নিতে শফিক-লিটন ভাতৃদ্বয় নানাভাবে তাদের ভয় ভীতি দেখাতেন, তার পরিবারের সদস্যদের হুকমি দিতেন ও নানা বাহানায় মাঝে মধ্যেই মারধর করতেন। সম্প্রতি তারা তাদের যায়গায় বাড়ী করে বাউন্ডারি দেওয়াতে আরও ক্ষিপ্ত ও আগ্রাসী মনোভাবে আবর্তিত হয়েছেন শফিক-লিটনের পরিবার বলেও জানান এ ভুক্তভোগী।
এসব বিষয়ে জানতে কানাইপুরের সিনেমা হলপট্রির রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী লিটন মোল্লা মালিকানাধীন লিটন হোটেলে গেলে তিনি এ বিষয়ে জানান, 'আমি সকাল থেকে হোটেলে ব্যস্ত, বাড়ীতে কি হয়েছে কিছু জানিনা। তবে শুনেছি ঝগড়াঝাটি হয়েছে'। রেহেনার জায়গা দখলের চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করে লিটন মোল্যা জানান, ওর (রেহেনা) বাড়ী যাওয়ার রাস্তা থেকে শুরু করে তার বাড়ী পর্যন্ত বাউন্ডারি করা। আমি ওদের সাথে কথা পর্যন্ত বলি না। ওর জায়গা দখল করবো কেনো, আমার বাড়ীর অর্ধেকই বরং ওরা ঘিরে ফেলেছে। এমনকি রেহেনার বাড়ীর ওয়ালসেট টিনের ঘরটির ছাদের পানি আমাদের বাড়ীতে এসে পড়ে, তবুও আমরা কিছুই বলিনা'। লিটন মোল্যা আরও জানান, সকাল থেকে আমি আমার হোটেলে এবং আমার বড় করিম জুট মিলে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া, তারা কেউ আজকের ঘটনার সাথে জড়িত নন বলেও জানান লিটন মোল্যা।
এদিকে, ফরিদপুর সদর হাসাপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে মারধরের বিষয়ে আহত প্রবাসী রেহেনা বেগম আরও জানান, তাকে মারধর করেছেন শফিক মোল্যার স্ত্রী জেসমিন বেগম, লিটন মোল্যার স্ত্রী জোসনা আক্তার, লিটন মোল্যার তরুন ছেলে জিসান মোল্যাসহ আরও কয়েকজন। মারধরের সময় রেহেনার ১২ বছরের ছেলে হাসিব খান তাকে বাচাতে এগিয়ে আসলে তাকেও তুলে ধরে ছুড়ে ফেলে দেন মারধরকারিরা। শফিক মোল্যা ও লিটন মোল্যার এ মারধরের সময় সরাসরি অংশ নেননি, লিটন মোল্যার এ কথা স্বীকার করে রেহেনা বেগম আরও জানান, 'তারা (শফিক-লিটন) সরাসরি আমাকে মারধর না করলেও ফোনে তাদের পরামর্শ ও আদেশেই আমার ওপর এমন হামলা করেছে তাদের পরিবারের সদস্যরা'। ওই নারী আরও অভিযোগ করেন, 'আমি এবার বিদেশ থেকে আসার কয়েকদিন পর আমার হৃদরোগে আক্রান্ত গুরুতর অসুস্থ বৃদ্ধা মাকেও মারধর করে জামা কাপড় ছিঁড়ে ফেলেন এবং তার গলার থাকা সোনার চেইনটিও ছিনিয়ে নেন উপরোক্ত প্রতিবেশিরা'।
হেনেরার এ অভিযোগের বিষয়ে লিটন মোল্যা জানান, এ বিষয়টি তার জানা নেই'।
শুক্রবার রাত সাড়ে আটটায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোতয়ালি থানায় এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাননি বলে জানিয়েছেন কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান। এসময় তিনি উত্তরাধিকার ৭১ নিউজকে জানান, এ ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত নই, আপনার থেকেই প্রথম শুনলাম'। তবে, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ- বলেও জানান ওসি মাহমুদুল।
(আরআর/এএস/সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬)
