ঢাকা, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের বাইরে » বিস্তারিত

বাইবেল জ্ঞান না থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে কমছে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ১৫:১২:০৪
বাইবেল জ্ঞান না থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে কমছে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের মধ্যে সমর্থন কমে যাওয়ার পেছনে ‘বাইবেল সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব’ কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি।

সম্প্রতি নিউজনেশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ইসরায়েলের প্রতি জনসমর্থন হ্রাসের পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন।

তিনি উল্লেখ করেন- ভুল তথ্য ও বিদেশি অপ্রচার, ‘ঈশ্বর আছেন এবং তিনিই জীবনের নিয়মকানুন তৈরি করেছেন’ এমন বিশ্বাসধারীদের প্রতি একধরনের বিদ্বেষ এবং বাইবেল সম্পর্কে জ্ঞান না থাকা।

তিনি বলেন, “এসব মিলিয়ে দেখলে মনে হয় লোকজন কেবল ইসরায়েলের ওপর রেগে থাকতে চায় এবং সবকিছুর জন্য তাদেরকেই দোষারোপ করতে চায়।”

হাকাবি দাবি করেন, গাজায় গণহত্যার অভিযোগ এবং ইসরায়েলকে বর্ণবাদী রাষ্ট্র বলার দাবিগুলো সম্পূর্ণ মিথা। আমেরিকানরা যদি ‘সত্যের মুখোমুখি হতো, তাহলে ইসরায়েলের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি আরো অনুকূল হতো।

গত এপ্রিল মাসে পিউ রিসার্সের একটি জনমত জরিপে দেখা যায়, হাকাবির মতো শ্বেতাঙ্গ ইভানজেলিক্যালদের মধ্যে ইসরায়েলের পক্ষে অনুকূল মনোভাব (৬৫ শতাংশ) থাকলেও, মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক সাধারণ জনগণের ৬০ শতাংশই ইসরায়েলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন।

এছাড়া জুলাই মাসে প্রকাশিত এপি-নর্ক জরিপ অনুযায়ী, গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়েছে বলে বিশ্বাস করা মার্কিন নাগরিকের সংখ্যা এর বিপরীত মতধারীদের চেয়ে বেশি। তবে প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে মন্তব্য করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য তাদের জানা নেই।

যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি এই ক্রমবর্ধমান অনীহা দেশটির নীতিনির্ধারকদের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন রাজনীতিতে ইসরায়েলের কড়া সমালোচকদের বিজয়ী হওয়া এই শঙ্কা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র পদে জোহরান মামদানির জয় অন্যতম আলোচিত বিষয়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জোহরান মামদানির কড় সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, নিউ ইয়র্কের ইহুদিরা তাকে জানিয়েছেন যে শহরটিতে তারা আর নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার পারদও নিম্নমুখী। পিউ রিসার্চের জরিপ বলছে, বিশ্বরাজনীতির সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অর্ধেকের বেশি আমেরিকান নেতানিয়াহুকে বিশ্বাস করেন না।

মামদানি এর আগে জানিয়েছিলেন, তিনি ইহুদিবিদ্বেষসহ যেকোনো ধরনের ঘৃণা ও গোঁড়ামির বিরুদ্ধে। তবে পরে তিনি ঘোষণা দেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নিউ ইয়র্কে পা রাখলে তিনি তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করবেন। অবশ্য পরবর্তীতে মামদানি জানান, এই বিষয়ে শহর প্রশাসনের আইনি এখতিয়ার নেই।

তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা
(ওএস/এএস/সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬)