ঢাকা, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

সালথার ঐতিহ্যবাহী কুমার নদ কচুরিপানায় নাব্য সংকটে

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৭ ১৪:৫০:৫৬
সালথার ঐতিহ্যবাহী কুমার নদ কচুরিপানায় নাব্য সংকটে

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ফরিদপুরের সালথা উপজেলা সদর বাজারের পাশদিয়ে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী কুমার নদ বর্তমানে কচুরিপানায় নাব্য সংকটে। কচুরিপানার আগ্রাসনে নাব্য হারিয়ে যাচ্ছে। এক সময়ের স্বচ্ছ জলধারা ও মনোরম সৌন্দর্যে ভরপুর এই নদ বর্তমানে ঘন কচুরিপানায় আচ্ছাদিত হয়ে পড়ায় নদের ঐতিহ্য হারাতে বসেছে।

নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এক সময় এলাকার মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হিসেবে পরিচিত কুমার নদটি এখন কার্যত মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে।
নদের কিছু অংশজুড়ে ঘন কচুরিপানা জমে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে মশার উপদ্রব, পানিতে দুর্গন্ধসহ সমস্যার কোন অন্ত নেই।

ফরিদপুর সদরের ডিক্রিরচর ইউনিয়নের মদনখালী এলাকায় পদ্মা নদী থেকে কুমার নদের উৎপত্তি। এটি ফরিদপুর শহরের মধ্যদিয়ে সালথা উপজেলা সদরের পাশদিয়ে বোয়ালমারীর নতুবদিয়া এবং উপজেলার ভাওয়াল বাজার ও মাঝারদিয়া বাজারের পাশদিয়ে নগরকান্দা উপজেলা হয়ে ১২১ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে আড়িয়াল খাঁ ও মধুমতি নদীর সংযোগ খাল বিলরুট ক্যানেলে গিয়ে শেষ হয়েছে।

নদের দুইপাড়ের বাসিন্দারা জানান, কচুরিপানার বিস্তারের ফলে নদীর পানিতে সূর্যের আলো প্রবেশ করছে না। এতে পানির গুণগত মান দ্রুত নষ্ট হচ্ছে এবং মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক জীবনচক্র হুমকির মুখে পড়ছে। ফলে নদীভিত্তিক যোগাযোগ ও স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, বর্তমানে নদীতে থাকা কচুরিপানাগুলো দ্রুত পরিষ্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হলে সহজেই নদের নাব্য ফিরে আসবে। তানা হলে কচুরিপানার বিস্তার আরও বৃদ্ধি পাবে, যা ভবিষ্যতে অপসারণে অধিক অর্থ ও শ্রমের প্রয়োজন হবে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হলে কুমার নদ আবারও ফিরে পাবে তার স্বচ্ছতা, প্রাণচাঞ্চল্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আর মানুষ ফিরে পাবে তাদের প্রিয় নদকে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার দবির উদ্দিন বলেন, সালথা কুমার নদের উপর বাঁশের সাঁকো থাকায় কচুরীপানা আটকে গিয়ে নদ ভরে গেছে। আমরা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সহ সবাইকে নিয়ে কুমার নদের কচুরীপানা পরিস্কার করার উদ্যেগ গ্রহণ করবো।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, কুমার নদ শুধু একটি নদী নয়, এটি পরিবেশ, অর্থনীতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নদীকে রক্ষা করতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। দ্রুত কচুরিপানা অপসারণ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে কুমার নদকে তার হারানো যৌবন ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব।

(এএনএইচ/এএস/সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬)