প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিস্তারিত
‘সাংবাদিকদের সাইবার আইনের আওতায় আনতে আদালতের অনুমতি থাকা উচিত’
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৯ ১৪:১৭:৪৮
স্টাফ রিপোর্টার : সাংবাদিকদের সাইবার আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নেওয়ার বিধান থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা যেন অবাধে কাজ করতে পারেন, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই আইন করা হবে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। আমরা বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাস করি এবং সেটা অব্যাহত রাখার জন্য যেসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, আমরা সেসব পদক্ষেপ অবশ্যই নেব।
একই সঙ্গে মিসইনফরমেশন, ডিজইনফরমেশন, অপতথ্য, অসত্য তথ্য ও গুজব নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে ইতোমধ্যে একাধিক দফা আলোচনা হয়েছে। তাদের মতামত ও পরামর্শ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তারাও আমাদের সঙ্গে একমত হয়েছেন যে, এটার একটা পর্যায়ে আসা উচিত এবং আমাদের এই মিসইনফরমেশন, ডিজইনফরমেশন কাটডাউন করার জন্য, আল্টিমেট গোল হচ্ছে টু স্টপ মিসইনফরমেশন অ্যান্ড ডিজইনফরমেশন ফ্রম স্প্রেডিং অ্যান্ড ক্রিয়েটিং... এটা হওয়া উচিত বলে সবাই মতামত দিয়েছেন।’
কোন পর্যায়ে এবং কীভাবে মিসইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশন নিয়ন্ত্রণ করা হবে, সে বিষয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
গণমাধ্যম সাইবার আইনের আওতায় আসবে কি না, সাংবাদিকদের এমন উদ্বেগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যেটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, এখানে এটা গণমাধ্যমের আওতায় আসবে কি না, এখন আমরা এ বিষয়ে এটা আমলে নিয়েছি এবং আমরা এ বিষয়ে অবশ্যই যখন আমরা আইনটা করব, সেটা আমরা মাথায় রেখেই করব।’
তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমকে আমরা কন্ট্রোল করতে চাই না, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কন্ট্রোল করতে চান না, তার সরকার কন্ট্রোল করবে না। সেটা আমরা ইতোমধ্যে বহুবার আপনাদেরকে অবহিত করেছি।’
সাংবাদিকদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতির একটি প্রস্তাব এসেছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহেব গতকালকে ব্রিফিংয়ে বলেছেন যে, গণমাধ্যমের ব্যক্তিত্বদের যদি এই আইনটা পাস হয় বা এই আইনের আওতায় যদি তারা থাকেন বা না থাকেন, এটা পরবর্তীতে দেখব।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেটা বলেছেন যে, আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে আপনারা প্রস্তাব করেছেন, আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে যদি সাংবাদিকদের, এটা ইলেকট্রনিক হোক, প্রিন্ট মিডিয়া হোক বা অনলাইন পোর্টাল হোক, নিবন্ধিত যেগুলো, যদি আনতে হয়, আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে, এভাবে একটা প্রস্তাব আপনারা দিয়েছেন। আমরা এটা বিবেচনা করছি।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যে, এই অপশনটা থাকা উচিত, যেন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা যারা আছেন, তারা যেন অবাধভাবে কাজ করতে পারেন।’
তবে মূলধারার গণমাধ্যমে কাজ না করেও সাংবাদিক পরিচয়ে অপপ্রচার, ভুয়া প্রচার ও অসত্য প্রচারের বিষয়টি কঠোরভাবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি।
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘যারা গণমাধ্যমে কাজ করেন না, মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় কাজ করেন না, কিন্তু সাংবাদিক পরিচয়ে তারা অনেক সময় অপপ্রচার, ভুয়া প্রচার এবং অসত্য প্রচার করে থাকেন। সেই দিকেও আমাদের একটু কঠোরভাবে দেখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘যেই পর্যায়ে আমাদের সামাজিক অবক্ষয় হওয়া শুরু হয়েছে, এটার রোধ করাটা প্রয়োজন। অনেকে সুইসাইডাল পর্যায়ে চলে যাচ্ছে, অনেকের সম্মানহানি হচ্ছে। কেউ অনেক কিছুর সঙ্গে জড়িত না, কিন্তু এআইয়ের অপব্যবহার করে তাদেরকে এসব বিষয়ে জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এগুলো আমাদের নৈতিক স্খলন হচ্ছে।’
বিজ্ঞাপন
এসব বিষয় রোধে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এগুলো আমাদের রোধ করার জন্য অবশ্যই আমাদের গণতান্ত্রিক সরকার, জনগণের সরকার এ বিষয়ে একটু পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বিধায়ই আমরা কিন্তু এদিকে আগাচ্ছি।’
সবশেষে তিনি বলেন, ‘সকলের মতামতের ভিত্তিতেই আমরা এই আইনটা ড্রাফট করব।’
(ওএস/এএস/সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬)
