ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

মোবাইল ব্যাংককিং বিকাশ ও নগদের প্রাহকদের সিম কার্ড ক্লোন করে টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৯

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৯ ১৯:০২:৪২
মোবাইল ব্যাংককিং বিকাশ ও নগদের প্রাহকদের সিম কার্ড ক্লোন করে টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৯

বাগেরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাটে ডিজিটাল মোবাইল ব্যাংককিং বিকাশ ও নগদের গ্রাহকদের সীমকার্ড ক্লোন করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে পুলিশ একটি সংঘবদ্ধ আন্তজেলা প্রতারক চক্রকে ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। এসময় তাদের কাছ থেকে ১১টি মোবাইল, প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকের হাতিয়ে নেয়া ৮০ হাজার টাকা, ২০টি মোবাইল সীম কার্ড উদ্ধার করেছে। এই চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিকাশ ও নগদের গ্রাহকদের সীমকার্ড ক্লোন করে প্রতারণা করছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, বাগেরহাটের শরনখোলা উপজেলার নলবুনিয়া গ্রামের ইয়াছিন সওদাগর (২১), মোংলা উপজেলার মাদুরপাল্টা গ্রামের শামীম শেখ (২৭), বাগেরহাট সদর উপজেলার বাগদিয়া গ্রামের রাশেদ মোড়ল (২০), মোরেলগঞ্জ পৌরসভার পূর্ব সরালিয়া এলাকার এহসানুল হাসান রাকিব (৩২), পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বানাতিবাজার এলাকার ফেরদাউস (২১), মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ষোলআনি এলাকার আশ্রাফুল ইসলাম (২৬), একই উপজেলার জাইসতালা এলাকার মেহেদী হাসান (২৯), বরগুনা সদর উপজেলার বালিয়াতলী এলাকার মো. নাজমুল হাসান (২০) ও পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ভয়াং এলাকার মো. মামুন গাজী (২১)।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম জানান, গত ২৭ জুন বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চিলা বাজারে বিকাশ ও নগদে লেনদেন করা দুই ব্যবসায়ির মোবাইল সীম ক্লোন করে আড়াই লাখ প্রতারক চক্র দ্রুত তুলে নেয়ার ঘটনায় প একটি মামলা হয়। সেই মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ এই সংঘবদ্ধ আন্তজেলা প্রতারক চক্রের সন্ধান পায়। রবিবার থেকে সোমবার রাত পর্যন্ত ১১টি মোবইল, নগদ ৮০ হাজার টাকা ও ২০ মোবাইল সীমকার্ডসহ নয়জনকে বাগেরহাটসহ বিভিন্ন জেলা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রতারকরা প্রথমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে গ্রাহকদের ফিঙ্কারপ্রিন্ট ক্লোন করে। ক্লোন করা ফিঙ্কার প্রিন্টের মাধ্যমে প্রথমে তারা বিকাশ নগদের গ্রাহকদের সীম তোলে। তারপরে তারা গ্রাহকদের একাউন্ট লগিন করার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। কলসেন্টারে যখন কল করে বলা হয় আমার একাউন্ট নাম্বারটা ব্লক (বিকাশ/নগদ) হয়ে গেছে, এটা আমি চালু করতে চাই। তখন কলসেন্টার গ্রাহকদের বিভিন্ন প্রশ্ন করে। সেই প্রশ্নের জন্য প্রতারক চক্র আগেই প্রস্তুতি নিয়ে উত্তর দিয়ে কলসেন্টারকে সন্তোষজনক উত্তর দেয়ায় তারা একাউন্টের সঠিক মালিক মনে করে। তখন কলসেন্টার তাদের একাউন্ট লগিন করে দেয়। এরপর এই চক্রের সদস্যরা বিকাশ ও নগদের গ্রাহকদেও টাকা হাতিয়ে নেয়। এই ঘটনায় মোংলা থানায় ডিজিটাল সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা হয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।

(এস/এসপি/সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬)