প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিস্তারিত
আনসারের পৃথক তিন আইন একীভূত করে হবে ‘আনসার বাহিনী আইন’
২০২৬ অক্টোবর ০১ ১৪:১৪:২২
স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আরও সুসংগঠিত, গতিশীল ও আধুনিক আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে বিদ্যমান তিনটি পৃথক আইনকে একীভূত করে একটি সমন্বিত ও একক ‘আনসার বাহিনী আইন’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর খিলগাঁও বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে ‘ভ্রাম্যমাণ আইটি প্রশিক্ষণ সেন্টার’ উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ‘আনসার বাহিনী আইন, ১৯৯৫’, ‘আনসার ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৩’ এবং ‘গ্রাম প্রতিরক্ষা দল আইন, ১৯৯৫’—এই তিনটি পৃথক আইনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। একাধিক আইনের পরিবর্তে একটি সমন্বিত ও একক আইন প্রণয়ন করে তার অধীনে আধুনিক বিধিমালা তৈরি করা হলে বাহিনীর সামগ্রিক কর্মকাণ্ড আইনিভিত্তির ওপর আরও সুদৃঢ় হবে এবং সার্বিক পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ আরও সুশৃঙ্খল হবে।
তেজগাঁওয়ে ৩ দশমিক ৪২৮ একর পরিমাণের পরিত্যক্ত জমি আইনানুগ হস্তান্তরের মাধ্যমে আধুনিক আনসার সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ বহুতল ভবন ও আধুনিক কমান্ড সেন্টার থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্য বাহিনীগুলোর সঙ্গে দ্রুত তথ্য বিনিময়, সেন্ট্রাল অপারেশন মনিটরিং এবং সমন্বিত কৌশলগত পরিকল্পনা পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
বাহিনীর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বলেন, ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘পিপলস ওয়ারফেয়ার’ ডকট্রিনের আদলে জনগণকে সম্পৃক্ত করে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে দর্শনের বিকাশ ঘটেছিল, তারই ধারাবাহিকতায় আনসার ও ভিডিপি আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ জনসম্পৃক্ত নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে ১৯৯৫ সালে পৃথক তিনটি আইন প্রণয়ন এবং ২০০৪ সালে সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পদক’ প্রদানের মাধ্যমে বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি সুদৃঢ় করা হয়।
তিনি বলেন, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সদিচ্ছা ও আধুনিকায়নের উদ্যোগের অংশ হিসেবে নতুন এই আধুনিক অবকাঠামো ও সমন্বিত আইনি সংস্কারের পথে অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে।
জাতীয় নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনীর অবদানের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় নির্বাচন, ধর্মীয় উৎসব, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা ও জনসমাগমস্থলের নিরাপত্তায় আনসার সদস্যরা নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি দুর্গম পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী এলাকায় যৌথ নিরাপত্তা রক্ষা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধসহ উচ্ছেদ অভিযান, অপরাধ দমন, নিখোঁজ শিশু উদ্ধার এবং দালালবিরোধী কার্যক্রমে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
দেশের অদক্ষ জনশক্তিকে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১ লাখ টিডিপি স্বেচ্ছাসেবককে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে শক্তিশালী স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। এছাড়া জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ, ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্প, ডিজিটাল প্রশিক্ষণ এবং ‘প্রান্তিক সংযোগ’ ও ‘প্রান্তিক শক্তি’-র মতো বহুমুখী সামাজিক ও অর্থনৈতিক সেবা কার্যক্রম দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে বড় অবদান রাখবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, নবনির্মিত আধুনিক সদর দপ্তরকে কেন্দ্র করে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পরিচালনগত সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনার সমন্বয় আরও সুদৃঢ় হবে। সুশাসন, শৃঙ্খলা, পেশাদারত্ব, উদ্ভাবন, জবাবদিহি ও সততার ভিত্তিতে এই কেন্দ্রটি জনসেবার এক অনন্য আধুনিক মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে।
(ওএস/এএস/অক্টোবর ০১, ২০২৬)
