প্রচ্ছদ » দেশের বাইরে » বিস্তারিত
মক্কার পর এবার মদিনায় হামলার দাবি, হুথিদের দুষলো সৌদি
২০২৬ অক্টোবর ০২ ১২:২৯:০৮
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পবিত্র নগরী মক্কার পর এবার মদিনায় হামলার অভিযোগ উঠেছে। নগরীর একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে এই হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
হামলার জন্য ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের দায়ী করেছে জোটটি। তবে, এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে হুথিরা।
গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে মদিনায় হামলার এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, গত মঙ্গলবার মদিনার একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে হামলা হয়। হামলায় একটি ট্রান্সফরমার অচল হয়ে গেলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ হয়নি।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, ঘটনার তদন্ত এবং হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে তারা নিশ্চিত হয়েছে যে হামলাটি হুথিরাই পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছে।
তবে, হুথিদের পরিচালিত সংবাদ সংস্থা সাবার প্রতিবেদনে গোষ্ঠীটির এক সামরিক কর্মকর্তা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এটিকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেন তিনি।
ওই কর্মকর্তা বলেন, মক্কায় হুথিদের হামলার অভিযোগের পক্ষে সৌদি আরব কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। সেই বিষয়টি আড়াল করতেই মদিনার হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, মদিনায় হামলাটি মক্কার মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীসহ ইসলামের দুই পবিত্র মসজিদকে নিশানা করে হুথিদের হামলার ধারাবাহিক চেষ্টার অংশ।
জোটটির আরও দাবি, এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। পবিত্র স্থান ও মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে জোটটি।
এর আগে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণে হুথি বিদ্রোহীরা ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছিল সৌদি আরব। তবে, ড্রোনটি ধ্বংস করে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী।
পবিত্র মক্কা ও মুসল্লিদের নিরাপত্তার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল দেশটি।
তবে, মক্কাকে নিশানা করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছিল হুথিরা। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র হাজেম আল-আসাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সৌদির দাবিটি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, এর আগেও সৌদি আরব একই ধরনের অভিযোগ করেছিল।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার সৌদি জোট জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের আকাশে হুথিদের ছোড়া চারটি ড্রোন এবং খামিস মুশাইত ও দক্ষিণাঞ্চলের আরেক শহর জাজানের আকাশে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে।
সৌদি আরবে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র সংঘর্ষ হয়েছে। এসব সংঘর্ষে হুথিদের কয়েক ডজন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।
এদিকে, ইয়েমেনে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় তাঁদের বড় একটি অংশ তাইজে আশ্রয় নিচ্ছেন বলে সরকারি পরিসংখ্যানে জানানো হয়েছে।
ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতদের শিবির ব্যবস্থাপনা ইউনিট জানিয়েছে, গত বুধবার পর্যন্ত ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯০৬ জনের নাম সরকারি হিসাবে নিবন্ধিত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৯ হাজার ৫১৯টি পরিবার রয়েছে।
তাইজ প্রদেশেই ৯৭ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এরপর রয়েছে লাহিজ প্রদেশ। সেখানে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা
(ওএস/এএস/অক্টোবর ০২, ২০২৬)
