ঢাকা, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » রাজনীতি » বিস্তারিত

‘জনগণ নিরাপদে ঘুমাতে না পারলে সেই সরকার দরকার নেই’

২০২৬ অক্টোবর ০৪ ১৫:১৬:১৮
‘জনগণ নিরাপদে ঘুমাতে না পারলে সেই সরকার দরকার নেই’

স্টাফ রিপোর্টার : যেই সরকার জনগণকে শান্তি দিতে পারে না, যে সরকারের অধীনে জনগণ নিরাপদে ঘুমাতে পারে না, সেই সরকারের দরকার নেই। যারা এটি পারবে, তাদের হাতে দায়িত্ব যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, আমরা বিরোধীদলে থাকলেও আমাদেরও দায়িত্ব আছে। দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নয়, কার্যত দেশের সব প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত অবস্থায় আছে। বীমা করপোরেশন, শেয়ারবাজার মাটির সঙ্গে হামাগুড়ি খাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে দিনে-দুপুরে বিভিন্ন রকম অপকর্ম খোদ রাজধানীতেই চলছে- যেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে। রাজধানীর অবস্থা থেকে বুঝা যায়, সারা দেশের অবস্থা কী? যা খুবই উদ্বেগজনক।

রবিবার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর হাতিরঝিলের মধুবাগ মাঠে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াত আয়োজিত ৪ থেকে ১০ অক্টোবর দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহ পালন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ঢাকার বিমানবন্দরে সীমাহীন দুর্নীতি ও অপকর্মের প্রতিবাদ করায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেদিন বিমানবন্দরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়েছে। আখতারুজ্জামানকে উত্যক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আখতারুজ্জামান কথা বলেছেন ভুক্তভোগী ও দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা প্রবাসীদের জন্য। যাদের ব্যাগ কেটে মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করা হয়। তিনি এসবের প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি করে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। তাকে হাতকড়া পরানো হয়েছে। অপমান করার জন্য হেলমেট পরানো হয়েছে। আমরা এসবের নিন্দা ও ধিক্কার জানাই। আখতারুজ্জামান এখন শুধু জামায়াতের নয়, সারা বাংলাদেশের ভুক্তভোগী নির্যাতিত মানুষের নেতা হয়ে উঠেছেন। আখতারুজ্জামান বলেছেন, আমি প্রতিবাদ করার কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে— তা দেশের ১৮ কোটি মানুষ জানুক।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশবাসী এ বিষয়টি হালকাভাবে নেবে না। প্রবাসীরাও হালকাভাবে নেবে না। সরকারকে সাবধান করে দিচ্ছি— পারেন না, মুরোদ নেই। একটি মেডিকেল সেন্টার রাতের অন্ধকারে ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হলো, সমস্ত সম্পদ লুণ্ঠন করা হলো, যেখানে জনপ্রতিনিধিরা আড়ালে-আবডালে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। অথচ জনগণের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য একজন সংসদ সদস্যকে পদত্যাগ করিয়েছেন। কিন্তু সেই দুষ্কৃতিকারীকে এখনো দল থেকে বহিষ্কার করেননি। তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনেননি। আরো যারা দুষ্কৃতকারী, তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়নি। জনগণকে বোকা ভাববেন না, আড়াল করতে পারবেন না।

আমাদের কাছে সরকারি বরাদ্দ নেই, আমরা নিজেদের ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দেওয়া টাকা দিয়ে নেমেছি। সরকার জনগণের টাকার দায়িত্বশীল, জনগণের ট্যাক্সের টাকার পাহারাদার। সরকারকে নামতে হবে, জনগণের দায়িত্ব নিতে হবে। সরকারকে ঘুমাতে দেব না, ধাক্কা দিয়ে ঘুম ভাঙিয়ে দেব। সরকারের কাজ ঘুমানো নয়, জনগণ শান্তিতে ঘুমাবে আর সরকার পাহারা দেবে—এটি সরকারের কাজ। সেই সরকার জনগণকে শান্তি দিতে পারে না, যে সরকারের অধীনে জনগণ নিরাপদে ঘুমাতে পারে না, সেই সরকারের দরকার নেই। যারা এটি পারবে, তাদের হাতে দায়িত্ব যাবে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গুর আগে হামে মৃত্যুর ঘটনায় সরকার অতীতের সরকারকে দায় দিয়েছে। কিন্তু এ সরকার গত সাত মাসে কী করল? এখনো হামে ও ডেঙ্গুতে মানুষ মরে কেন? ব্যর্থতা স্বীকার করে নিন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিশ্বে ডেঙ্গুর টিকা আছে। কিন্তু আমাদের সরকার এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সরকারিভাবে সে টিকা আনার যদি উদ্যোগ না থাকে, তাহলে বেসরকারিভাবে আনার রাস্তা খুলে দিন। এতে অন্তত মানুষ বাঁচার জন্য উপকরণ হাতে পাবে। সরকার নিজেও আনবে না, বাজারও খুলে দেবে না। আর যদি তারা আনেও, তাহলে ঘাটে ঘাটে কমিশন বসিয়ে জনগণের পয়সা চুরি করবে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এ দুর্যোগে জামায়াত বসে থাকবে না, বসে থাকার সংগঠন নয়। দেশে যে দুর্যোগ এসেছে, আমরা সর্বোচ্চ সামর্থ্য নিয়ে নেমেছি। এক্ষেত্রে ডেঙ্গুকে আমরা মহামারি আকারে দেখছি। এজন্য আমরা ডেঙ্গু প্রতিরোধ সপ্তাহ ঘোষণা করেছি। আমরা জনগণকে সচেতন করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভূমিকা পালন করব। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে সেলিম উদ্দিনকে মেয়রপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছি আমরা। তিনি খাল, নর্দমা, যেখানে ডেঙ্গুর মশার চাষ হয়, সেগুলো পরিচ্ছন্ন করতে অভিযান শুরু করেছেন। দক্ষিণে সাদিক কায়েম আছেন। গ্রাম পর্যন্ত আমাদের সহকর্মীরা জনগণের কাছে পৌঁছে যাবেন।

তিনি আরো বলেন, আমাদের কাছে সরকারি বরাদ্দ নেই, আমরা নিজেদের ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দেওয়া টাকা দিয়ে নেমেছি। সরকার জনগণের টাকার দায়িত্বশীল, জনগণের ট্যাক্সের টাকার পাহারাদার। সরকারকে নামতে হবে, জনগণের দায়িত্ব নিতে হবে। সরকারকে ঘুমাতে দেব না, ধাক্কা দিয়ে ঘুম ভাঙিয়ে দেব। সরকারের কাজ ঘুমানো নয়, জনগণ শান্তিতে ঘুমাবে আর সরকার পাহারা দেবে—এটি সরকারের কাজ। সেই সরকার জনগণকে শান্তি দিতে পারে না, যে সরকারের অধীনে জনগণ নিরাপদে ঘুমাতে পারে না, সেই সরকারের দরকার নেই। যারা এটি পারবে, তাদের হাতে দায়িত্ব যাবে।

রাড্ডায় যেন মানুষের সেবা বন্ধ না হয়, সেজন্য আমরা একটি অনুদান ঘোষণা করেছি। আমরা অপেক্ষায় আছি, কখন কর্তৃপক্ষের গ্রিন সিগন্যাল পাব। কিন্তু ধানাই-পানাই শুরু করেছে সরকার, তারা নিজেরা করবে না, আমাদেরও করতে দেবে না। এমনটা হলে আমরা জনগণকে জানিয়ে দেব। আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই, লোক দেখানোর জন্য নয়। সেই কাজে জনগণের সর্বাত্মক সহযোগিতা পাব, ইনশাআল্লাহ।

তিনি সরকারকে মানুষের জীবন রক্ষায় অতিদ্রুত মশা নিধনের বাস্তব কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান। সামাজিক পদক্ষেপ গ্রহণ ও আক্রান্ত লোকদের সুষ্ঠু চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে কেউ অবহেলার শিকার না হন। পরে তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়-সংবলিত লিফলেট ও ব্লিচিং পাউডার জনগণের মাঝে বিতরণ করেন।

এ সময় সভায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব আব্দুর রব; কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা ও সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান; কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা ও ইয়াসিন আরাফাত; কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য হেমায়েত হোসেন ও প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, মুহিবুল্লাহ, অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান ও ফজলে আহমেদ প্রমুখ।

(ওএস/এএস/অক্টোবর ০৪, ২০২৬)