প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিস্তারিত
অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
৭ দিনের মধ্যে লবণ আমদানির আদেশ বাতিলের আলটিমেটাম
২০২৬ অক্টোবর ০৪ ১৮:১৬:২১
স্টাফ রিপোর্টার : দেশের নতুন লবণ মৌসুম শুরু হওয়ার প্রাক্কালে সরকারের দেড় লাখ টন অপরিশোধিত লবণ আমদানির আত্মঘাতী আদেশের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এবং লবণ চাষিরা। নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে এই ক্ষতিকর আমদানি আদেশ বাতিল করা না হলে দেশের লাখ লাখ লবণ চাষী ও শ্রমিকদের সাথে নিয়ে রাজপথে কঠোর ও তীব্র আন্দোলনে যেতে বাধ্য হওয়া হবে।
আজ রবিবার এক যৌথ বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় শ্রমিক নেতা মোহাম্মদ বজলুর রহমান বাবলু, মানবাধিকার ও শ্রমিক নেতা হারুনুর রশিদ, বিশিষ্ট লবণ চাষী জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী, এডভোকেট শহীদুল্লাহ চৌধুরী, হেফাজতুর রহমান চৌধুরী টিপু এবং জিল্লুর রহমান চৌধুরী সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে ও মিলগুলোতে পর্যাপ্ত লবণের মজুত থাকা সত্ত্বেও অসাধু সিন্ডিকেটের স্বার্থে মৌসুমের শুরুতে লবণ আমদানির এই সিদ্ধান্ত দেশীয় স্বনির্ভর লবণ শিল্পকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেবে। উৎপাদন খরচের ঊর্ধ্বগতির কারণে মাঠ পর্যায়ের চাষিরা যেখানে ন্যায্য মূল্য না পেয়ে চরম লোকসানে রয়েছেন, সেখানে বিদেশি লবণ দেশে ঢুকলে উপকূলীয় অঞ্চলের ৫ লক্ষাধিক মানুষের জীবন-জীবিকা স্থবির হয়ে পড়বে।
একই সাথে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে কক্সবাজার উপকূলীয় লবণ চাষী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মুক্তার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ফয়েজুল হক হক এবং মাতামহরি উপজেলার লবণ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নুরুসাফা, সহ-সভাপতি তারেক ইকবাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক বলেন, "আমরা মাঠের প্রান্তিক চাষী ও মিল শ্রমিকদের রক্ত পানি করা শ্রমের অমর্যাদা কোনোভাবেই মেনে নেব না। এই আমদানির আদেশ দেশীয় শ্রমিকদের পেটে লাথি মারার শামিল।"
নেতৃবৃন্দ সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম দিয়ে চাষী ও শ্রমিকদের স্বার্থে নিম্নলিখিত জরুরি দাবিগুলো তুলে ধরেন:
১. আমদানি আদেশ বাতিল: অবিলম্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত দেড় লাখ টন অপরিশোধিত লবণ আমদানির গণবিরোধী আদেশ সম্পূর্ণ বাতিল করতে হবে।
২. ন্যায্য মূল্য ও মজুরি নিশ্চিতকরণ: দেশের কষ্টসহিষ্ণু লবণ চাষীদের উৎপাদিত লবণের লাভজনক ন্যায্য মূল্য এবং মিল ও মাঠের শ্রমিকদের জন্য যুগোপযোগী মজুরি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা: সিন্ডিকেটের কারসাজি বন্ধ করে প্রকৃত চাষীদের প্রণোদনা ও দেশীয় লবণ শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ পরিষ্কার করে বলেন, আগামী ৭ দিনের মধ্যে এই যৌক্তিক দাবি ও আমদানির আদেশ প্রত্যাহার করা না হলে, উপকূলের সমস্ত লবণ চাষী, ট্রলার মালিক, আড়তদার এবং শ্রমিক সমাজকে সাথে নিয়ে মহাসড়ক অবরোধসহ দেশব্যাপী কঠোর ও সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
(পিআর/এসপি/অক্টোবর ০৪, ২০২৬)
