ঢাকা, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের বাইরে » বিস্তারিত

ইরানের হামলার ভয়ে যুক্তরাজ্য থেকে সব বোমারু বিমান সরাল যুক্তরাষ্ট্র

২০২৬ অক্টোবর ০৫ ১৫:০২:১৮
ইরানের হামলার ভয়ে যুক্তরাজ্য থেকে সব বোমারু বিমান সরাল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে সব বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এর আগে ঘাঁটির বাইরে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেফতারের পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

গত রবিবার (৪ অক্টোবর) মার্কিন বি-১ বোমারু বিমানগুলো ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। এর আগে ঘাঁটিটিতে প্রায় এক ডজন বি-১ বোমারু বিমান মোতায়েন ছিল।

পেন্টাগনের একজন মুখপাত্র আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন, নিরাপত্তার কারণে সামরিক সরঞ্জাম ও সেনাদের চলাচলের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।

তবে, এখন নিশ্চিত হওয়া গেছে, ফেয়ারফোর্ডে মোতায়েন থাকা সব মার্কিন বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রের নিজ নিজ ঘাঁটিতে ফিরে গেছে।

তবে, ঠিক কী কারণে বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়া মার্কিন বোমারু বিমানগুলোর জন্য ফেয়ারফোর্ড গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

লন্ডন থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিকে ঘিরে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হামলার পরিকল্পনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঘাঁটির কাছে বিস্ফোরক পুঁতে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ। তবে, ইরান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

পরে, ওই পাঁচজনকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয়। তাদের ভ্যানে পেট্রোল পাওয়া গেলেও কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।

এরপর গত বৃহস্পতিবার লন্ডনে ২৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে গ্রেফতার করে ব্রিটিশ পুলিশ। এসময় তার বিরুদ্ধে বিমানঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ আনা হয়।

গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেন, ওই কথিত হামলার পরিকল্পনায় ইরানের ভূমিকা ছিল। তবে, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

সন্ত্রাসবাদ দমন পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ভিকি ইভান্স জানিয়েছেন, হামলার ঘটনায় বিদেশি কোনো রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, গ্রেফতারের প্রতিবাদে গত সপ্তাহে তেহরানে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ইরান। অন্যদিকে, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মার্কিন স্থাপনায় ‘বড় ধরনের ক্ষতি’ করার পরিকল্পনার অভিযোগ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন যুদ্ধে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে, ইরানের চলমান যুদ্ধে যুক্তরাজ্য এখন পর্যন্ত বড় পরিসরে অংশ নেয়নি। এরপরও গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রকে ফেয়ারফোর্ডসহ কয়েকটি ব্রিটিশ ঘাঁটি ‘প্রতিরক্ষামূলক’ কাজে ব্যবহারের অনুমতি দেয় যুক্তরাজ্য।

তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা

(ওএস/এএস/অক্টোবর ০৫, ২০২৬)