প্রচ্ছদ » অর্থ ও বাণিজ্য » বিস্তারিত
‘সুশাসন ও সেলফ-রেগুলেশন ছাড়া পুঁজিবাজারের পরিবর্তন সম্ভব নয়’
২০২৬ অক্টোবর ০৫ ১৫:৩৩:৪৭
স্টাফ রিপোর্টার : সুশাসন ও বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বনিয়ন্ত্রণ বা সেলফ-রেগুলেশন ছাড়া দেশের পুঁজিবাজারের আমূল পরিবর্তন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, “নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশের অপেক্ষায় না থেকে ব্রোকার, স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিপোজিটরি, ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ও ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের নৈতিকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।”
রবিবার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশনসের (আইওএসসিও) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টর উইক ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এবারের কর্মসূচিতে বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা, ডিজিটাল প্রতারণা ও বিনিয়োগ ঝুঁকি নিয়ে সচেতন করার বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে।
আমির খসরু বলেন, “পুঁজিবাজারে অতীতে অটোমেশন, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) মতো বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হলেও বাজার প্রত্যাশিত ফল দিতে পারেনি। বর্তমানে পুঁজিবাজারকে সংকট থেকে বের করে শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে এবং এজন্য কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “বিএসইসি একা কোনো ‘অলৌকিক পরিবর্তন’ আনতে পারবে না। বাজারের প্রতিটি অংশীজনকে নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সুশাসন ও স্বনিয়ন্ত্রণের চর্চা করতে হবে।”
নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসে নির্দেশ দেবে—এমন অপেক্ষায় না থেকে বাজারে স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ উদ্যোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “দেশের অর্থনীতির অর্থায়ন কাঠামোতেও বড় পরিবর্তন প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রধানত ব্যাংকঋণনির্ভর। স্বল্পমেয়াদি আমানত ব্যবহার করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন করায় ব্যাংকিং খাতে বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হয়েছে।”
দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য বন্ড মার্কেট, ডেরিভেটিভস, সিকিউরিটাইজেশন ও ইক্যুইটি মার্কেটকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তার ভাষায়, “বিশ্বমানের অর্থনীতির সঙ্গে তাল মেলাতে বাংলাদেশকে ‘হাই স্ট্রিট থেকে ওয়ার্ল্ড স্ট্রিট’-এর দিকে এগোতে হবে।”
আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও বিভিন্ন পদক্ষেপে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার কথাও জানান আমির খসরু। তিনি বলেন, “নিউইয়র্কে ডলার বন্ড এবং হংকংয়ে বাংলাদেশ ডেডিকেটেড ফান্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সামুরাই বন্ড ও প্যান্ডা বন্ডের মতো বৈশ্বিক আর্থিক পণ্য ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অর্থায়ন কাঠামো পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে।”
তিনি বলেন, “২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য অর্জনে প্রতি বছর প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। শুধু প্রচলিত বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর করে এই বিনিয়োগের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব নয়।”
এজন্য বিকল্প ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন,“আগামী এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের চেহারায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”
পরে তিনি ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টর উইক ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক) তানভীর শাহরিয়ার গনি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক এবং বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিএসইসি, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং পুঁজিবাজারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা ছাড়াও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা ও বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
(ওএস/এএস/অক্টোবর ০৫, ২০২৬)
