ঢাকা, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

সাতক্ষীরা আদালত এলাকা এখন বিচারপ্রার্থীদের আতঙ্কের জনপদ

যুবদল নেতা পরিচয়ে অপহরণের পর চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

২০২৬ অক্টোবর ০৫ ১৭:৫৮:০২
যুবদল নেতা পরিচয়ে অপহরণের পর চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা আদালত এলাকা এখন বিচারপ্রার্থীদের জন্য আতঙ্কের জনপদ হিসেবে পরিণত হয়েছে। ধার্য্য দিনে আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়া অনেক বিচারপ্রার্থী বিশেষ করে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা এ পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন।

সাতক্ষীরা আদালতের একাধিক দায়িত্বশীল আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সম্প্রতি তাদের কয়েকজন মোয়াক্কেল মহামান্য হাইকোর্ট থেকে অন্তবর্তীকালিন জামিন নিয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদলতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। জামিন আবেদন না’মঞ্জুর হওয়ায় তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তারা জামিনে মুক্তি পান। ২০ সেপ্টেম্বর তারা আদালতে হাজিরা দিতে এলে আদালত চত্ত্বর থেকে কৌশলে তাদেরকে ডেকে নিয়ে আদালতের বাইরে মেইন রোড সংলগ্ন একটি বেকারী এ- কনফেকশনারীতে নিয়ে যাওয়া হয়। যুবদল নেতা পরিচয়ে সেখান থেকে তাদেরকে গাড়িতে তুলে নিয়ে অন্যত্র আটক রাখা হয়।

পরিবারের সদস্যদের কাছে ফোন ধরিয়ে দিয়ে গুমের ভয় দেখিয়ে দুই দিন পর চাঁদা হিসেবে এক জনের (জনপ্রতিনিধি) কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা আদায় করা হয়। একজনের কাছ থেকে(উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা) এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা আদায় করে আড়াই দিন পর ছেড়ে দেওয়া হয়। অপর একজনের (শ্রমিক লীগ নেতা) কাছ থেকে এক লাখ টাকা আদায় করে দুই দিন পর আশাশুনির সোহাগ নামে এক যুবদল নেতা তাকে সাতক্ষীরা থেকে মুক্ত করে নিয়ে যান। তাদেরকে আবারো আটকানো হতে পারে এমন আশঙ্কায় পরবর্তী ওই ক্ষতিগ্রস্তরা আদালতে না এসে আইনজীবীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন দেন। দেড় মাস আগে আদালতের ভিতরকার পার্কের দক্ষিণ পাশ থেকে এক বিচারপ্রার্থীকে (কালিগঞ্জ) তুলে নিয়ে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় হাত ও পা ভেঙে দেওয়া হয়। আদালতে হাজিরা দিতে এসে আবারো নির্যাতন বা অপহরণের শিকার হতে পারেন এমন আশঙ্কায় ওইসব নির্যাতিত বা তাদের পক্ষের আইনজীবীরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের নাম প্রকাশ করতে চান না। এ অবস্থা শুধু আশাশুনি বা কালিগঞ্জের বিচারপ্রার্থীদের নয়। জেলার অধিকাংশ উপজেলার বেশ কয়েকজন বিচার প্রার্থীর। যে চক্রটি এ অপহরণ ও মুক্তিপণের সঙ্গে জড়িত তাদেও অনেককেই বিভিন্ন সময়ে আদালত চত্ত্বরে ঘুরতে দেখা যায়।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা জাতীয়তাবাদি আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব ও জেলা আইনজীবী সমিতির আহবায়ক কমিটির সদস্য অ্যাড. আকবর আলী শনিবার এ প্রতিবেদককে জানান, বিষয়টি শুনে তিনি উদ্বিগ্ন। রবিবার আদালতে যেয়ে তিনি এ নিয়ে খোঁজখবর নিয়ে সহকর্মীদের সাথে আলোচনায় বসবেন।

সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাব্লু জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। অপহরণের স্বীকার হওয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দিলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক মোঃ শাহীদুর রহমান জানান, এ ধরণের ঘটনা নিয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। তবে বিষয়টি জানার পর অবশ্যই খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(আরকে/এসপি/অক্টোবর ০৫, ২০২৬)