প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
মা ইলিশ সংরক্ষণে পদ্মা পাড়ের লৌহজংয়ে বিশেষ সভা
২০২৬ অক্টোবর ০৭ ১৯:০৯:০৭
মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ : মা ইলিশ সংরক্ষণে পদ্মা নদীর সংলগ্ন মুন্সীগঞ্জের লৌহজং এ বিশেষ সভা হয়েছে। লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতুর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বোরহান উল ইসলাম, পদ্মা সেতু উত্তর থানার ওসি আখতার হোসেন, মাওয়া নৌ পুলিশের আইসি মোঃ মালেক খসরু খান, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল ইসলামসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীরা।
সভায় প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় আগামী ০৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ (২৩ আশ্বিন হতে ১৩ কার্তিক ১৪ ৩৩ বঙ্গাব্দ) পর্যন্ত মোট ২২ দিন লৌহজং সহ সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয়, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণার। ও তা বাস্তবায়নে আলোচনা করা হয়।
সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটি’র সভায় বিস্তারিত আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
৩৮ জেলায় বিশেষ অভিযান ও বরফকল বন্ধ
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) তথ্যানুযায়ী, চন্দ্র মাসের পূর্ণিমা ও অমাবস্যাকে ভিত্তি করে এই সময়ে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মা ইলিশ ডিম ছেড়ে থাকে। মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে দেশের ৩৮টি জেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
২০টি প্রধান জেলায় সব ধরনের মৎস্য আহরণ বন্ধ: চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, মুন্সীগঞ্জ, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ উপকূলীয় ও নদীবেষ্টিত ২০টি জেলায় সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে এবং এ সময় জেলাগুলোর বরফকল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে।
১৮টি জেলায় শুধু ইলিশ বন্ধ: খুলনা, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, নারায়ণগঞ্জসহ অবশিষ্ট ১৮টি জেলার নদ-নদীতে কেবল ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ থাকবে।
অভিযানে বিমান বাহিনীর ড্রোন ও রাতের টহল
মা ইলিশ সংরক্ষণে নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশ, বিজিবি, বিমান বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে যৌথ মোবাইল কোর্ট ও বিশেষ অভিযান চালানো হবে।
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং ও সদরের মতো অতি-ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।
রাতে অবৈধ মাছ ধরা রোধে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ড্রোন ও ‘লাইট-সান’ প্রযুক্তির মাধ্যমে বিস্তীর্ণ এলাকা আলোকিত করে আকাশ ও জলপথে নজরদারি চালানো হবে।
অবৈধ মৎস্যজীবীরা যাতে খালে লুকিয়ে আক্রমণ করতে না পারে, সেজন্য চাঁদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় খালের মুখে শক্ত বাঁশের বেড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অভিযানের ২২ দিন নদীতে সব ধরনের বালু উত্তোলন ও ড্রেজিং কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে এবং সীমানা পেরিয়ে বিদেশি ফিশিং ট্রলারের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে থাকবে কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনী।
জেলেদের মিলবে এককালীন ২৫ কেজি চাল, স্থগিত থাকবে ঋণের কিস্তি
নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে নিবন্ধিত জেলে পরিবারের জীবনযাত্রা সচল রাখতে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি জেলে পরিবারকে এককালীন ২৫ কেজি হারে ভিজিএফ (চাল) বিতরণ করা হবে। অভিযান শুরু হওয়ার পূর্বেই এই চাল বিতরণ সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া, ইলিশ আহরণ বন্ধ থাকাকালে জেলেদের ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত রাখতে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (MRA) প্রয়োজনীয় সার্কুলার জারি করবে।
সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ জানান, জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষা করা সবার নৈতিক দায়িত্ব। সরকারি-বেসরকারি সকল সংস্থা, আড়তদার, ট্রলার মালিক এবং মৎস্যজীবীদের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’ সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে।
(এমকে/এসপি/অক্টোবর ০৭, ২০২৬)
