ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » মুক্তচিন্তা » বিস্তারিত

স্মিট মাচ্ছার-ই ভারত, ককরোচ-রা নয় 

২০২৬ অক্টোবর ০৮ ১৭:৪৩:১৫
স্মিট মাচ্ছার-ই ভারত, ককরোচ-রা নয় 

শিতাংশু গুহ


ককরোচ-রা প্রথমে এসেছিলো ‘শিক্ষা-সংস্কার’-র দাবি নিয়ে। এর কিছুটা ন্যায্যতা ছিলো। সরকার দাবি মেনে নেয়। শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেন। ককরোচ-রা উৎসাহিত হয়। এবার তারা মাঠে নেমেছে প্রধান নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবীতে। এটি ভুল পদক্ষেপ। ইতিমধ্যে প্রধান তেলাপোকা বোম্বেতে জনতার হাতে মৃদু লাঞ্ছিত হয়েছেন। সামনে হয়তো অন্য নেতাদের গায়ে পঁচা ডিম্ পড়বে। কারণ মানুষ বুঝে গেছে ককরোচদের লক্ষ্য শিক্ষা-সংস্কার নয়, তাঁরা সরকারের পতন চায়। এরচেয়ে বরং ককরোচ-রা স্মিট মাচ্ছার-কে অভিনন্দিত করে একদিনের আনন্দ-উৎসবের ডাক দিলে পুরো ভারতের সমর্থন পেতেন।

ককরোচ-রা বাংলাদেশ ষ্টাইলে বিপ্লব ঘটাতে চাচ্ছেন। বাংলাদেশে কোন বিপ্লব হয়নি, ইসলামী শক্তি ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতা দখল করেছে এবং মাত্র দুই বছরে দেশের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে, ওই দেশের জনগণের এখন ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’ অবস্থা। ভারতের ‘জেন-জি’ শিক্ষিত, স্মার্ট, তাঁরা এ ফাঁদে পা দেবেনা। ভারত এমন বহু আন্দোলন দেখেছে, এর ফেডারেল শাসন ব্যবস্থা এর অন্যতম রক্ষাকবচ। ভারতে ক্ষমতা বহুকেন্দ্রিক, স্বৈরাচার হবার সুযোগ নেই। নির্বাচনই হচ্ছে ভারতে ক্ষমতার হাতবদলের একমাত্র পথ। ভারতে নির্বাচনী ব্যবস্থা স্বচ্ছ, বিশ্ব=নন্দিত। ভারতে বিচার ব্যবস্থা অত্যন্ত স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য। ভারতে মিডিয়া অবাধ ও স্বাধীন। এই তিনটি প্রতিষ্ঠানকে এড়িয়ে কোন সরকারের ‘লাগামহীন’ হবার সুযোগ কম।

ককরোচ-রা তাদের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ধরে রাখতে পারেনি। এ আন্দোলন প্রমান করে তাঁরা ‘অন্যের হাতে খেলছে’। তাঁদের সহায়ক শক্তি হচ্ছে বাম, মৌলবাদী ইসলামী শক্তি, এন্টি-হিন্দু শক্তি এবং কিছু ক্ষমতাচ্যুত ও ক্ষমতালোভী পরিত্যক্ত রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী। ভারতে এন্টি-হিন্দু রাজনীতি এখন অচল, সামনের যেকোন নির্বাচনে এদের অবস্থা আরো শোচনীয় হবে। মানুষ জেনে গেছে যে, ‘বাম ও ইসলামী শক্তি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ’। বাইরের চাইতে ভারতের ভেতরে ভারতের শত্রু বেশি। গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে এরা ভারতের ক্ষতি করছে। পুরো বিশ্ব যখন স্মিট মাচ্ছারের প্রশংসায় করছে, আন্দোলনকারী অনেকেই তাঁকে অভিনন্দন জানাতে পারছেন না! সমস্যাটা হচ্ছে তাতে মুসলিম কো=পাইলটের নিন্দা জানাতে হয়, এতে ভোটব্যাঙ্ক বিগড়ে যেতে পারে!

ভারত সরকার বা ক্ষমতাসীন দল কিন্তু স্মিট মাচ্ছারের সম্মানে পুরো ভারতে দুইদিব্যাপী এখনই উৎসবের ডাক দিতে পারেন। স্মিট মাচ্ছার-ই ভারত, ককরোচ-রা বা তাদের সমর্থকরা নয়। পাঠক, আমি ভারতীয় নই, থাকি আমেরিকা, আমার এ পর্যবেক্ষণ কেউ পছন্দ করতে পারেন, আবার পছন্দ নাও করতে পারেন, কিন্তু যারা ‘অপারেশন সিন্দুর’র বিরোধিতা করে বা প্রশ্ন তুলে অথবা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদী’ শ্লোগান দেয় বা ‘হিন্দুধর্ম গান্ধা ধর্ম’ বলে তারা আর যাই হোক ভারতের শুভাকাঙ্ক্ষী নন, এদের থেকে সাবধান থাকাটা জরুরি, ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থে এরা ভারত ভাঙ্গতেও প্রস্তুত। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র, এটি আরো সমবৃদ্ধ হোক কিন্তু এরমানে এই নয় যে, অবৈধ-অনুপ্রবেশকারীদের ভোট দেয়ার অধিকার দিতে হবে? ভারতের স্বার্থেই এসআইআর/ এনআরসি দরকার।

লেখক : আমেরিকা প্রবাসী।