ঢাকা, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিস্তারিত

‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকার হাতিয়ার গণমাধ্যম’

২০২৬ অক্টোবর ০৯ ১৪:১৪:৫৩
‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকার হাতিয়ার গণমাধ্যম’

স্টাফ রিপোর্টার : গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে মানুষকে নির্দিষ্টভাবে ভাবতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ। তিনি বলেছেন, কোনো একটি ঘটনাকে সামনে এনে অন্য ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার গণমাধ্যম।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ‘মুক্ত গণমাধ্যম, বাক্‌স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সহিংসতা’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনার-২০২৬-এ বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মারদিয়া মমতাজ বলেন, গণমাধ্যমের কাজ শুধু সংবাদ প্রকাশ করা নয়, বরং প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধান করে সত্য তুলে ধরা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সংবাদকে নিজেদের মতো করে উপস্থাপন, সংবাদ দিয়ে মানুষকে প্রভাবিত করা এবং প্রচলিত ধারণার সংজ্ঞা বদলে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে।

তিনি বলেন, একই ঘটনাকে বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করা যায়। কোথাও আগুনে চারজনের মৃত্যুর ঘটনা বিদ্যুতের শর্টসার্কিট, কোথাও অনুমোদনহীন ভবন, আবার কোথাও একজন মায়ের না খেয়ে কাজে আসার বিষয়টি সামনে এনে সংবাদ করা হতে পারে। কোন বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে পাঠকের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। এভাবে সংবাদ উপস্থাপনের মাধ্যমে মানুষকে নির্দিষ্টভাবে চিন্তা করতে প্রভাবিত করা সম্ভব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে নেকাব পরা এক ছাত্রীকে নিয়ে মন্তব্যের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার খবর প্রকাশ করা হলেও ছাত্রীকে ‘জঙ্গি’ বলার অভিযোগটি যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। এতে পাঠকের কাছে ঘটনার অসম্পূর্ণ চিত্র পৌঁছানোর আশঙ্কা থাকে।

গণমাধ্যমে সংবাদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সম্পাদকীয় নীতির প্রভাবের কথা উল্লেখ করে মারদিয়া মমতাজ বলেন, এক দিনে অনেক ঘটনা ঘটলেও সব ঘটনা সমান গুরুত্ব পায় না। কোন ঘটনা কতটা গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হবে, তা অনেকাংশে সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। এভাবে একসময় গণমাধ্যমের স্বাধীন অবস্থান দুর্বল হয়ে সরকারি বক্তব্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জবাবদিহি—দুটিই নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারলে রাষ্ট্রের কার্যক্রমে জবাবদিহি বাড়ে। তবে স্বাধীনতার অর্থ যা খুশি তা প্রকাশ করা নয়; গণমাধ্যমকেও জবাবদিহির মধ্যে থাকতে হবে। রাষ্ট্রকে একদিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে গণমাধ্যমের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও রাখতে হবে।

সংবাদ পরিবেশনের দায়িত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন বললেন বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে, আরেকজন বললেন রোদ। গণমাধ্যমের কাজ শুধু দুজনের বক্তব্য প্রচার করা নয়; বরং যাচাই করে প্রকৃতপক্ষে বাইরে কী ঘটছে, তা তুলে ধরা। সত্যতা যাচাই ও নিরপেক্ষভাবে সংবাদ প্রকাশই গণমাধ্যমের মূল দায়িত্ব।

জুলাই মঞ্চ–২৪-এর আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকীর সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী, সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী, কবি, গীতিকার ও অ্যাক্টিভিস্ট শহিদুল্লাহ ফরায়েজি, রুবি আমায়াতুল্লাহ প্রমুখ।

(ওএস/এএস/অক্টোবর ০৯, ২০২৬)