ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » লাইফস্টাইল » বিস্তারিত

লম্বা যাত্রায় আরাম পেতে যেসব কৌশল মেনে চলবেন

২০২৬ অক্টোবর ১২ ১৫:১১:৪৪
লম্বা যাত্রায় আরাম পেতে যেসব কৌশল মেনে চলবেন

নিউজ ডেস্ক : লম্বা বাস বা ট্রেনযাত্রা মানেই জানালার বাইরে ছুটে চলা দৃশ্য, নতুন জায়গায় পৌঁছানোর আনন্দ আর পথের নানা অভিজ্ঞতা। তবে কয়েক ঘণ্টা একটানা বসে থাকলে ঘাড়, কোমর ও পিঠে ব্যথা, পা ফুলে যাওয়া, ক্লান্তি কিংবা বমিভাবের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারো আবার দীর্ঘ যাত্রায় ঘুমের অভাব বা শরীর শক্ত হয়ে যাওয়ার অস্বস্তিও হয়। কিছু সহজ প্রস্তুতি ও অভ্যাস মেনে চললে দীর্ঘ পথের এই অস্বস্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

পোশাক বাছুন বুঝেশুনে
লম্বা যাত্রায় আঁটসাঁট পোশাকের বদলে ঢিলেঢালা, নরম ও আরামদায়ক কাপড় বেছে নিন। এমন পোশাক পরুন, যাতে সহজে বসা, পা ভাঁজ করা কিংবা শরীরের অবস্থান বদলানো যায়। কোমরে বেশি চাপ পড়ে এমন পোশাক দীর্ঘ সময় বসে থাকার অস্বস্তি বাড়াতে পারে। পায়ে আরামদায়ক জুতা বা স্যান্ডেল পরুন। বাস বা ট্রেনের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ঠান্ডা লাগতে পারে, তাই সঙ্গে পাতলা চাদর, শাল বা হালকা জ্যাকেট রাখুন।

সঙ্গে রাখুন ছোট বালিশ
একটানা বসে থাকলে ঘাড়, কোমর ও পিঠের পেশিতে চাপ পড়ে। ঘাড়ের জন্য ইউ-আকৃতির ট্রাভেল পিলো এবং কোমরের পেছনে রাখার জন্য ছোট বালিশ সঙ্গে নিতে পারেন। সিটে বসার সময় পিঠের স্বাভাবিক ভঙ্গি বজায় রাখুন। ঘুমানোর সময় মাথা যেন একদিকে অতিরিক্ত হেলে না থাকে, সেদিকেও খেয়াল রাখুন। দীর্ঘ যাত্রায় আরাম পেতে মাঝেমধ্যে বসার ভঙ্গি বদলানোও জরুরি।

পানি পান করুন, হালকা খাবার খান
দীর্ঘ যাত্রায় শরীরে পানির ঘাটতি যেন না হয়, সেদিকে নজর রাখুন। সঙ্গে পানির বোতল রাখুন এবং অল্প অল্প করে পানি পান করুন। অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার, খুব ভারী খাবার কিংবা এমন খাবার এড়িয়ে চলুন, যা খেলে আপনার পেটে অস্বস্তি হয়। সঙ্গে রাখতে পারেন কলা, আপেল, বাদাম, বিস্কুট বা হালকা ঘরে তৈরি খাবার। পরিচ্ছন্নভাবে সংরক্ষণ করা খাবার বেছে নিন। দীর্ঘ সময়ের যাত্রায় খাবার ও পানির নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ।

মাঝেমধ্যে নড়াচড়া করুন
দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকলে পেশিতে টান, অস্বস্তি ও পা ভারী লাগতে পারে। বাস থামলে বা ট্রেনে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ থাকলে একটু হাঁটুন। বসে থাকা অবস্থায়ও গোড়ালি ওঠানো-নামানো, পায়ের আঙুল নাড়ানো এবং কাঁধ ধীরে ঘোরানোর মতো সহজ নড়াচড়া করতে পারেন। তবে চলন্ত বাসে দাঁড়িয়ে ব্যায়াম করার চেষ্টা করবেন না।

দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পায়ের শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। আগে রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা হয়ে থাকলে, সম্প্রতি অস্ত্রোপচার হলে কিংবা অন্য কোনো ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে যাত্রার প্রস্তুতি নিন। এক পা হঠাৎ ফুলে যাওয়া বা ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা হলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।

বমিভাব এড়াতে যা করবেন
বাস বা ট্রেনে উঠলে বমিভাব হলে দূরের স্থির কোনো জায়গায় তাকানোর চেষ্টা করুন। জানালার বাইরে দিগন্তের দিকে তাকালে অনেকের স্বস্তি হয়। বই পড়া বা মোবাইলের পর্দায় দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকলে কারো কারো সমস্যা বাড়তে পারে। তাই প্রয়োজন হলে পর্দা থেকে বিরতি নিন। যাত্রার আগে খুব ভারী খাবার না খাওয়াই ভালো। বারবার বমি বা তীব্র মাথা ঘোরার সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মোশন সিকনেসের ওষুধ প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করুন।

বিনোদনের ব্যবস্থাও রাখুন
দীর্ঘ যাত্রায় একঘেয়েমি কাটাতে পছন্দের গান, পডকাস্ট, অডিওবুক কিংবা হালকা বিনোদনের ব্যবস্থা রাখতে পারেন। হেডফোন ব্যবহার করলে আশপাশের ঘোষণা ও জরুরি শব্দ শোনার মতো মাত্রায় ভলিউম রাখুন। মোবাইলের চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ার দুশ্চিন্তা এড়াতে পাওয়ার ব্যাংক সঙ্গে রাখুন। তবে পুরো যাত্রা মোবাইলের পর্দায় তাকিয়ে না থেকে মাঝেমধ্যে চোখকে বিশ্রাম দিন এবং বাইরের দৃশ্য উপভোগ করুন।

যাত্রার আগে গুছিয়ে নিন প্রয়োজনীয় জিনিস
টিকিট, পরিচয়পত্র, প্রয়োজনীয় ওষুধ, চার্জার, পানির বোতল, টিস্যু ও স্যানিটাইজার হাতের কাছে রাখুন। ঘুমের জন্য চোখের মাস্ক বা ইয়ারপ্লাগ কাজে আসতে পারে। মূল্যবান জিনিসপত্র নিরাপদে রাখুন এবং ব্যাগ এমন জায়গায় রাখুন, যাতে সহজে নজরে রাখা যায়। রাতে যাত্রা হলে গন্তব্যে পৌঁছানোর সময়, নামার স্থান ও প্রয়োজনীয় পরিবহনের ব্যবস্থা আগেই জেনে নিন।

দীর্ঘ বাস বা ট্রেনযাত্রায় আরাম পেতে সবচেয়ে জরুরি হলো শরীরের প্রয়োজন বুঝে বিরতি নেওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং একটানা একই ভঙ্গিতে বসে না থাকা। সামান্য প্রস্তুতি ও সচেতনতাই দীর্ঘ পথকে করে তুলতে পারে অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক।

তথ্যসূত্র : এনডিটিভি, বিসিএস ট্রাভেল

(ওএস/এএস/অক্টোবর ১২, ২০২৬)