প্রচ্ছদ » স্বাস্থ্য » বিস্তারিত
বাগেরহাটে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ, ২৪ ঘণ্টায় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি ৪৩ জন
২০২৬ অক্টোবর ১২ ১৯:১০:০৬
বাগেরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাট জেলায় দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। গত ২৩ ২৩ জুলাই থেকে শুরু থেকে আজ সোমবার পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ২১১ জন। গত ১১ দিনে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৮৯ জন। এরমধে গত ২৪ ঘণ্টায় বাগেরহাট জেলার নয়টি উপজেলায় নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৩জন।
সরকারি হিসাবে এ সময়ে ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্যুর তথ্য থাকলেও স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১২ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিশু ও প্রবীণ রয়েছেন। বাগেরহাট সিভিল সার্জন অফিস এতথ্য নিশ্চিত করেছে।
বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার জানান, বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ২৫টি শয্যা রয়েছে। গত চার মাস ধরে এ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৫০ জনের বেশি রোগী ভর্তি থাকছেন। সব মিলিয়ে জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভালো নয়।
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ.স. মো. মাহবুবুল আলম জানান, বাগেরহাটের বাইরে গিয়ে কিংবা কোনো বেসরকারি ক্লিনিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হলে তা সরকারি হিসাবের মধ্যে আসে না। জেলা সদর হাসপাতালসহ জেলার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হাসপাতাল থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সরকারি হিসাব তৈরি করা হয়। এর বাইরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হলে তা সরকারি তালিকায় যুক্ত হচ্ছে না। ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
বাগেরহাটে ডেঙ্গুতে ১২ জনের মৃত্যু : বাগেরহাট জেলায় ডেঙ্গুতে সরকারি হিসাবে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, তবে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও স্থানীয় সূত্রে খোঁজ নিয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১২ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বাগেরহাট সদর উপজেলায় ডেঙ্গুতে মারা গেছেন জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থী রিয়া মজুমদার (১৭)। সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের সাহসপুর গ্রামের এই শিক্ষার্থী গত ২৯ আগস্ট মারা যান।
বাগেরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাহাপাড়া এলাকার শিক্ষক সুমন সাহা (৩৮) মারা যান গত ৩১ আগস্ট। এছাড়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বাসাবাটি গ্রামের ফকির বুজরুক আলী (৮২) মারা যান গত ১ সেপ্টেম্বর। কচুয়া উপজেলায় ডেঙ্গুতে মারা গেছেন অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জিহাদ হাসান (২২)। উপজেলার রাড়িপাড়া ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামের এই তরুণের মৃত্যু হয় গত ২৯ আগস্ট। একই উপজেলায় দিগন্ত (১৫) নামে এক কিশোর গত ১৮ মে মারা যান। এছাড়া একই উপজেলার খান মোহাম্মদ লিয়াকত আলী (৫৩) মারা যান গত ১৬ আগস্ট এবং গোপালপুর গ্রামের শামসুর রহমান (৭৫) মারা যান গত ২৬ মে।
মোরেলগঞ্জ উপজেলায় চণ্ডীপুর গ্রামের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার মিতু (১৮) মারা যান গত ২৬ আগস্ট। একই উপজেলার বিষখালী গ্রামের রাধারানী দাস (৪২) মারা যান গত ৫ জুন। ফকিরহাট উপজেলায় মাদ্রাসাশিক্ষার্থী মো. রমজান আলী মোল্লা (২৩) মারা যান গত ২৮ আগস্ট এবং একই উপজেলার সাতসইয়া গ্রামের তুলি বেগম (৪৭) মারা যান গত ২৬ আগস্ট। এছাড়া মোংলা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দুই বছরের শিশু ইফা আক্তার মারা যায় গত ১৯ জুলাই।
(এস/এসপি/অক্টোবর ১২, ২০২৬)
