প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
চার হাজার আবেদনের ফি নিয়ে অনুসন্ধান
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী দুদকের অভিযান
২০২৬ অক্টোবর ১৩ ১৯:২৫:০৮
শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর : দূর্নীতি অনুসন্ধানে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে ৫ ঘন্টাব্যাপী অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) সংক্রান্ত আবেদন ফি বোর্ডের নির্ধারিত হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া অভিযান শেষ হয় বিকেল ৩টায়। অভিযানে বোর্ডের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে বিভিন্ন রেকর্ডপত্র সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।
দুদক জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক খাইরুল বাশারের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে সহকারী পরিচালক ইমরান হোসেন ও উপসহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ট্রান্সফার সার্টিফিকেটের আবেদন ফি জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এ প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত ফি বোর্ডের সংশ্লিষ্ট হিসাবে জমা না দেওয়া এবং অর্থ আত্মসাতের।তা খতিয়ে দেখতে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক।
অভিযান শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক খাইরুল বাশার জানান, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। সংগৃহীত নথিপত্র ও বক্তব্য পর্যালোচনা করে অভিযোগের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করার প্রস্তুতি চলছে।
তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী কোনো শিক্ষার্থী এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরিত হতে চাইলে নির্ধারিত ফরমে ট্রান্সফার সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং যে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি হতে ইচ্ছুক, সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকদের সুপারিশসহ আবেদনটি দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। এরপর ‘সোনালী সেবা’র মাধ্যমে নির্ধারিত এক হাজার টাকা ফি জমা দেওয়ার পর বোর্ড থেকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেটের অনুমতি দেওয়া হয়। সেই অনুমতির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীর ট্রান্সফার সার্টিফিকেট ইস্যু করে।
তবে অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট ঘটনায় দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে কিছু শিক্ষার্থী শিক্ষা বোর্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত না করেই এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরিত হয়। এর ফলে ২০২৬ সালের অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় শিক্ষার্থীদের তথ্য আগের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামেই থেকে যাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।
এ নিয়ে ভোগান্তিতে পড়া শিক্ষার্থীরা পরবর্তী সময়ে শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে। একপর্যায়ে এ ধরনের প্রায় চার হাজার আবেদন বোর্ডে জমা পড়ে বলে জানান, দুদকের সহকারী পরিচালক খাইরুল বাশার।
তিনি আরও জানান, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর আবেদন বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা বোর্ড ট্রান্সফার সার্টিফিকেট ইস্যুর প্রচলিত প্রক্রিয়ার বাইরে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বোর্ডের রেজুলেশন ও আলোচনার ভিত্তিতে ‘সোনালী সেবা’র মাধ্যমে নির্ধারিত এক হাজার টাকা ফি জমা নেওয়ার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের তথ্য আগের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দুদকের এই কর্মকর্তা বলেন, অভিযানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ এবং নথিপত্র পর্যালোচনার মাধ্যমে এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের সঙ্গে অর্থ আত্মসাৎ কিংবা অন্য কোনো অনিয়মের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা এখনো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংগৃহীত রেকর্ডপত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে। পরে তা কমিশনে দাখিল করা হবে।
দুদক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং আবেদন ফি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নির্ধারণে সংগৃহীত নথিপত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে অভিযান পরিচালনা ও নথিপত্র সংগ্রহের মাধ্যমে এখনো অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা প্রমাণিত হয়নি। অনুসন্ধান শেষে কমিশনে দাখিল করা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ট্রান্সফার সার্টিফিকেট, আবেদন ফি জমা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে। প্রায় চার হাজার আবেদনের প্রেক্ষাপটে বোর্ডের জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টিও এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অভিযান শেষে দুদক জানিয়েছে, সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধান প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়ার পরই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
(এসএস/এসপি/অক্টোবর ১৩, ২০২৬)
