প্রচ্ছদ » বিনোদন » বিস্তারিত
‘সমাজ হিসেবে আমরা কোথায় এসে দাঁড়িয়েছি’
২০২৬ অক্টোবর ১৫ ১৫:৪১:০৮
বিনোদন ডেস্ক : আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা বহুগুণ বেড়েছে। রুপালি জগতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ফলে মানুষের চাহিদাও খানিকটা কমেছে। যার প্রভাব হলিউডে দৃশ্যমান হয়েছে। ফলে ২০২৩ সালের মে মাসে ধর্মঘটের ডাক দেয় হলিউডের রাইটার্স গিল্ড।
এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভারতীয় জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের ডিপফেক ভিডিও তৈরি করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা কম নেই। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। দেশের অনেক তারকার ছবি বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন ছোট ও বড়পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। ফের ব্যাপারটি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানালেন এই অভিনেত্রী।
মেহজাবীন চৌধুরী বলেন, “এআই ব্যবহার করে কারো নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা এবং কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া কোনো বিনোদন নয়। এটি একটি অপরাধ। কিন্তু যখন একই কনটেন্ট শত শত কিংবা হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করতে থাকে, তখন বিষয়টি শুধু একজন ব্যক্তির অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি আরো বড় একটি সামাজিক সমস্যার চিত্র তুলে ধরে। তখন প্রশ্ন জাগে, সমাজ হিসেবে আমরা আসলে কোন জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি?”
প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে মেহজাবীন চৌধুরী বলেন, “এই পর্যায়ে এসে সেই পুরোনো কথাটাও আর বলতে ইচ্ছে করে না যে, একবার ভাবুন তো, এমনটা যদি আপনার মা কিংবা বোনের সঙ্গে ঘটত! কারণ কাউকে মানুষ হিসেবে সম্মান করতে, তাকে আমাদের পরিবারের সদস্য হতে হবে কেন? কিছু ভিউ, কিছু লাইক, কিছু শেয়ার, ট্রেন্ডিংয়ে থাকা, হয়তো সেখান থেকে কয়েকটা ডলার আয়। আমি বুঝি, মানুষের জীবনে সংগ্রাম আছে। অনেকের জন্য কনটেন্ট তৈরি করাই এখন জীবিকা নির্বাহের একটি উপায়। সেই বাস্তবতাকে অস্বীকার করতে চাই না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কবে থেকে অন্য একজন মানুষের অপমান আর অসম্মান আমাদের উপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠল?”
ভিউ বাণিজ্য লিঙ্গের সীমারেখা অতিক্রম করেছে বলে মত মেহজাবীনের। এ অভিনেত্রী বলেন, “বিষয়টা এখন শুধু নারী কিংবা পুরুষের মধ্যেও সীমাবদ্ধ নেই। ভিউ, এনগেজমেন্ট আর ট্রেন্ডিংয়ের এই প্রতিযোগিতা এখন লিঙ্গের সীমারেখাও ছাড়িয়ে গেছে। ক্ষতিকর কিছু ছড়িয়ে দেওয়ার অংশ হতে পারে যে কেউ, আবার এর শিকারও হতে পারে যে কেউ।”
একজন অপরাধীর অপরাধে অংশ নেবেন কি না, সেই প্রশ্নও রেখেছেন মেহজাবীন চৌধুরী। তিনি বলেন, “আমাকে সবচেয়ে বেশি ভাবায় শুধু সেই মানুষটি নয়, যে এমন কিছু তৈরি করছে। বরং সেই অসংখ্য মানুষ, যারা স্বেচ্ছায় সেটি শেয়ার করছে, আলোচনা করছে এবং আরো হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। একজন অপরাধীর অপরাধে অংশ নিয়ে নিজের বিবেকহীনতার পরিচয় দেবেন কি না, ভেবে দেখতে পারেন।”
(ওএস/এএস/অক্টোবর ১৫, ২০২৬)
